Indian Freedom Fighter – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 18 Apr 2019 17:19:50 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Indian Freedom Fighter – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 চলে গেলেন ৪২ এর স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষ জীবিত সৈনিক https://thenewsbangla.com/quit-india-movement-freedom-fighter-somra-oraon-died-at-balurghat/ Thu, 18 Apr 2019 17:12:30 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=11166 শেষ হল একটা যুগ। শেষ হয়ে গেল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটা অধ্যায়। ৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের এক সৈনিক চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। টানা ১৬ দিন হাসপাতালে লড়াই করার পর হার মানলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, সোমরা ওঁরাও।

আরও পড়ুনঃ পাঁচে পাঁচ, ভোট হয়ে যাওয়া বাংলার ৫টি আসনেই জিতবে বিজেপি, দাবি মুকুল রায়ের

শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার শেষ স্বাধীনতা সংগ্রামী সোমরা ওঁরাও। টানা ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর হার মানলেন তিনি। ২ এপ্রিল থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভরতি ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের বোকামিতে বাংলার ফিল্ম সিরিয়াল পরিচালকদের মাথায় হাত

এদিন বিকেল ৩:৩০ মিনিটে বালুরঘাট হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সোমরা ওঁরাও। জানা গিয়েছে, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৭ বছর। ৪২-এর “ভারত ছাড়ো” আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের কৈকুরি গ্রামের বাসিন্দা সোমরা ওঁরাও।

আরও পড়ুনঃ পয়সা দিয়ে আনা হয় সেলিব্রিটিদের, বিদেশি অভিনেতা প্রসঙ্গে বেফাঁস কল্যাণ

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই একটু একটু করে দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হারাতে থাকেন। ২ এপ্রিল শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বালুরঘাট হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল তাকে। ১৬ দিন হাসপাতালে থাকার পর বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি।

আরও পড়ুনঃ ফিরদৌসের পর গাজী নূরকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠাল ভারত সরকার

অবশেষে এদিন বিকেল এদিন বিকেল ৩:৩০ মিনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন জেলার শেষ স্বাধীনতা সংগ্রামী সোমরা ওঁরাও। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাবাসী। তার প্রয়াণে জেলার শেষ স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাকে হারাল জেলাবাসী। শোকাহত গোটা বাংলা। যাঁরা তাঁর নাম শুনেছেন প্রত্যেকেই শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর মৃত্যুতে।

আরও পড়ুনঃ রিভালবার নিয়ে বুথে ঢুকে ভোট দেওয়ায় সঞ্জয় দত্তকে শোকজ করল নির্বাচন কমিশন

১৯৪২ এর মহাত্মা গান্ধীর ডাকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেন সোমরা ওঁরাও। সেই সময় বালুরঘাট থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পারিলাহাটে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েকশো মানুষ। সেদিনের তরুন সোমরার ডাকে অন্যান্য সম্প্রদায়ের পাশাপাশি আদিবাসীরাও পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশমাতাকে উদ্ধার করতে তীর-ধনুক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সোমরা।

আরও পড়ুনঃ মহিলা লাঞ্ছনাকারীদের মাথায় তুলছে কংগ্রেস, বিষ্ফোরক কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা

১৯৪২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কৈকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা সোমরা ওঁরাও-এর নেতৃত্বে পারিলাহাটে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়। গান্ধীজির মতের সঙ্গে না মিললেও সোমরাকে দেখে কয়েকশাও আদিবাসী তীর ধনুক নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধে নেমে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ইসলামপুরে ছাপ্পা ভোট রুখলেন মহম্মদ সেলিম, রাগে গাড়িতে ভাংচুর দুষ্কৃতীদের

তীর ধনুক বল্লম নিয়েই ইংরেজদের বিরুদ্ধে অসম লড়াইয়ে নেমে পড়েছিলেন আদিবাসীরা। সামনে ছিলেন এই সোমরা ওঁরাও। আজ তিনিও জীবনের সব লড়াই শেষ করে চলে গেলেন পরপারে। শেষ হল সংগ্রামের একটা যুগ।

আরও পড়ুনঃ পুরুলিয়ায় আবার বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার
আরও পড়ুনঃ চোপড়া বাস স্টান্ডে বাইক বাহিনীর হাতে আক্রান্ত ভোটাররা

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন https://thenewsbangla.com/indian-freedom-fighter-known-as-punjab-kesari-was-born-on-28-january-1865/ Mon, 28 Jan 2019 09:04:41 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6101 আজ ২৮শে জানুয়ারী। পাঞ্জাব কেশরী লালা লাজপত রায়ের জন্মদিন। না অনেকেই মনে রাখেন নি। জেনে নিন, আরেকবার সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। জন্মদিনে আর একবার স্মরণ করেনি এই মহান বিপ্লবীকে।

১৯২৭ সালে ভারতে নিযুক্ত হয় সাইমন কমিশন। ১৯২৮ সাইমন কমিশনের ভারতে আগমন, দেশ জুড়ে বয়কট আন্দোলন, সাইমন দূর হটো, লালা লাজপত রায়ের (শের-ই পাঞ্জাব) মৃত্যু। সব ঘটনাই আজও ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল।

আরও পড়ুনঃ মাঠ দিল না রাজ্য, মোদীর সভা ও হেলিকপ্টারের জন্য ফসল ত্যাগ শিক্ষকের

১৮৬৫ সনের ২৮ জানুয়ারি পাঞ্জাবে লালা লাজপত রায় জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম মুনসি রাধা কৃষ্ণণ আজাদ। তিনি কিছুসময় হরিয়াণার রোহতক এবং হিসার শহরে উকালতি করেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের অন্যতম নেতা ছিলেন।

ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন/The News বাংলা
ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন/The News বাংলা

বাল গঙ্গাধর তিলক ও বিপিন চন্দ্র পালের সঙ্গে তিনি ‘লাল-বাল-পাল’ নামেই বিখ্যাত ছিলেন। এই তিন নেতাই ভারতে সর্বপ্রথম, ব্রিটিশ থেকে ভারতের স্বাধীনতার দাবী করেন। পরবর্তি সময়ে সমগ্র ভারতবাসী এই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে। তিনি স্বামী দয়ানন্দ সরসত্বীর সহিত আর্য সমাজকে পাঞ্জাবে জনপ্রিয় করে তোলেন। দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক স্থানে শিবির স্থাপন করে লোকের সেবা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ জওহরলাল নেহেরুর গলায় মালা দিয়ে ৬০ বছর পরেও একঘরে ‘নেহেরুর বউ’

লালা লাজপত রায় একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁকে পাঞ্জাব কেশরী নামেও ডাকা হয়। তিনি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ও লক্ষী বিমা কম্পানী স্থাপন করেছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের চরমপন্থী দলের সৈনিক ছিলেন। সেই বিখ্যাত লাল-বাল-পালের অন্যতম নেতা।

আরও পড়ুনঃ সীমান্তের কাঁটাতার অগ্রাহ্য করে একদিনের জন্য এক হল ভারত বাংলাদেশ

লাহোরে ১৯২৮ সালে সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশগ্রহন করেন তিনি। সেখানে তিনি পুলিশের লাঠি চার্জে গুরুতর আহত হন। ১৯২৮ সনের ৩০ অক্টোবর সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত মিছিলে পুলিশের লাঠি চার্জে গুরুতরভাবে আহত হয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমার শরীরে করা ব্রিটিশের প্রহার, ব্রিটিশের ধংসের কারণ হয়ে উঠবে”।

ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন/The News বাংলা
ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন/The News বাংলা

১৯২৮ সালের ১৭ নভেম্বর তারিখে তাঁর মৃত্যু হয়। লালার মৃত্যুর ফলে সমগ্র দেশ উত্তেজিত হয়ে উঠে। চন্দ্রশেখর আজাদ, ভগত সিং, রাজগুরু ও সুখদেব ও অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীরা লালাজির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা নেয়।

ঠিক এক মাস পর ১৯২৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারিখে এই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা লালার মৃত্যুর প্রতিশোধ স্বরুপ ব্রটিশ পুলিশ অফিসার স্যান্ডার্সকে গুলি করে হত্যা করে। স্যান্ডার্সকে হত্যা করার জন্য ও বোমা মারার জন্য রাজগুরু, সুখদেব ও ভগত সিংহকে ব্রিটিশ সরকার ফাঁসীর আদেশ দেয়।

আরও পড়ুনঃ জয় হিন্দ, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সোনার অক্ষরে লেখা ইতিহাস

লালা লাজপত রায় হিন্দী ভাষায় শিবাজী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনি রচনা করেন। তিনি ভারতে ও বিশেষ করে পাঞ্জাবেও হিন্দী ভাষা প্রসারের ক্ষেত্রেও সহযোগীতা করেছিলেন।

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার যে সংস্কার আইন প্রবর্তন করেছিলেন তা ব্যর্থ হয়। ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের দাবিদাওয়া ও অসন্তোষের মূল কারণগুলি অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিশন গঠন করেন। ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে এই কমিশন গঠিত হয়েছিল বলে এটি সাইমন কমিশন নামে পরিচিত। এই কমিশনের সাতজন সদস্যই শ্বেতাঙ্গ এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন।

ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন/The News বাংলা
ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন/The News বাংলা

১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের ৭ই ফেব্রুয়ারি কমিশনের সদস্যগণ দেশব্যাপী সমীক্ষা চালাবার জন্য ভারতে আসেন। কমিশনে কোনো ভারতীয় প্রতিনিধি না থাকায় ভারতীয়রা ক্ষুব্ধ হন। এরূপ কমিশন গঠন জাতীয় মান মর্যাদার পরিপন্থী, এই বলে কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ সহ ভারতের অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই কমিশন বর্জন করেন। বিক্ষোভ শুরু হয় গোটা দেশ জুড়ে।

আরও পড়ুনঃ কালামের নামে ছাত্রদের তৈরি হালকা উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে নজির ভারতের

পাঞ্জাবে লালা লাজপত রায়, উত্তরপ্রদেশে জওহরলাল নেহরু, গোবিন্দবল্লভ পন্থ, সাইমন কমিশন বিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে নিগৃহীত হন। লাহোরে সাইমন কমিশন বিরোধী এক মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে লালা লাজপত রায় পুলিশের লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এই ঘটনার কয়েকদিন পর ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে ১৭ নভেম্বর লালা লাজপত রায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার, পোস্টার কংগ্রেসের

সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করে সবাই। ভারতের ইতিহাসে এ এক বিরল দৃষ্টান্ত। তাছাড়া প্রথম শ্রেণীর নেতাদের নিগ্রহ ও আত্মত্যাগ, সংবিধান রচনার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ প্রভৃতি এই আন্দোলনকে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উন্নীত করেছিল যা পরবর্তীকালে জাতীয় আন্দোলনকে অনেক বেশি গতিময় করে তোলে। আর নিজের জীবন দিয়ে সেই ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন পাঞ্জাব কেশরী লালা লাজপত রায়। জন্মদিনে এই মহান বিপ্লবীকে শ্রদ্ধা।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>