Income Tax Notice – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Wed, 09 Jan 2019 04:36:29 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Income Tax Notice – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 সোনিয়া রাহুলকে ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ https://thenewsbangla.com/100-crore-income-tax-notice-to-sonia-rahul-gandhi-in-ajl-case/ Wed, 09 Jan 2019 04:26:13 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=5338 The News বাংলা: প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন ‘মা ছেলে’ মিলে, আয়কর দফতরের হিসাব এমনই। আর সেই কারনেই সোনিয়া রাহুলকে ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ দিল আয়কর দফতর।

২০১১-১২ আর্থিক বর্ষে হিসাবে সোনিয়া গান্ধীর আয় ১৫৫.৪১ কোটি টাকা ও রাহুলের আয় ১৫৪.৯৬ কোটি টাকা। কিন্তু তাঁরা কেউই সেই আয়ের তুলনায় আয়কর দেন নি বলেই জানা গেছে আয়কর সূত্রে। এর জন্যই তাঁদের ইনকাম ট্যাক্স থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সোনিয়া রাহুলকে ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ/The News বাংলা
সোনিয়া রাহুলকে ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ/The News বাংলা

একনজরে আয়কর দফতরের হিসাবঃ

. আয়কর দফতরের মতে, ২০১১-১২ আর্থিক বর্ষে কংগ্রেস নেতা সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর আয় যথাক্রমে ১৫৫.৪১ কোটি ও ১৫৪.৯৬ কোটি। এই আয় থেকে আয়কর দেন নি দুজনেই।
. ২০১১-১২ আর্থিক বছরে রাহুল গান্ধী আয় দেখিয়েছেন মাত্র ৬৮.১২ লাখ টাকা।
. আয়কর দফতরের মতে সোনিয়া রাহুলের আয়কর ফাঁকির পরিমান ১০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুনঃ

গুরুবারে শুরু অযোধ্যায় রাম মন্দির বাবরি মসজিদ শেষ লড়াই

বাংলায় রাস্তায় বিজেপির রথ চলবে কিনা ঠিক হবে আগামী মঙ্গলবার

উচ্চবর্ণের গরীব হিন্দুদের জন্য সংরক্ষণ মোদীর, দেশ জুড়ে বিতর্ক

ফের গরু চোর সন্দেহে খুন, এবার ‘গোরক্ষকের’ নাম মুসলিম মিঁয়া

আয়কর দফতরের মতে, রাহুল গান্ধী মাত্র ৬৮.১২ লাখ টাকা আয় দেখিয়ে তার উপর ট্যাক্স দিয়েছেন। যেটা আসল আয়ের তুলনায় কিছুই না। পুরোপুরি আয়কর ছাড় তারা কি করে পেলেন, প্রশ্ন আয়কর দফতরের।

এদিকে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাতেও অস্বস্তি কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর। দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন করে এই মামলায় বিপাকে পড়েন কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা।

সোনিয়া রাহুলকে ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ/The News বাংলা
সোনিয়া রাহুলকে ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ/The News বাংলা

২০১১-১২ অর্থবর্ষে সোনিয়া-রাহুলদের আয়কর তথ্য খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুই সাংসদ আবেদন করেছিলেন দিল্লি হাইকোর্ট এ। সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। রাহুল-সোনিয়াদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য পুনরায় খতিয়ে দেখতে আপাতত আর কোনও বাধা ছিল না আয়কর দপ্তরের। আদালতের এই রায়ের পরই গান্ধী পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্রর দাবি, “রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধী দুজনেই কর-চোর। সনিয়ার দশ জনপথের বাড়িটি আসলে দুর্নীতির কেন্দ্রস্থল”। সম্বিত পাত্রের অভিযোগ, “কংগ্রেস আগে থেকেই জানত কর-ফাঁকি মামলায় বিপদে পড়তে চলেছেন গান্ধী পরিবারের সদস্যরা। আর তাই নজর ঘোরাতে রাফায়েল নাটক করছেন তাঁরা”।

সম্বিত পাত্র আরও অভিযোগ করেন, “গান্ধী পরিবার ট্যাক্স-চুরির সঙ্গে যুক্ত এবং গোটা দেশকে তাঁরা মিথ্যে কথা বলেছে”। বিজেপি মুখপাত্র আরও বলেন, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং এবং তাঁর আমলের অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের একটাই কাজ ছিল, মা এবং ছেলেকে রক্ষা করা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে কেন রাহুল-সোনিয়াকে তাঁরা কর ফাঁকি দিতে সাহায্য করলেন?”।

ন্যাশনাল হেরাল্ড তথা ইয়ং ইন্ডিয়া মামলা বেশ কিছুদিন ধরেই কংগ্রেস নেতৃত্বের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়ং ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামে যে সংস্থাটি কংগ্রেস মুখপত্র ন্যাশনাল হেরাল্ড চালানোর দায়িত্ব নিয়েছে, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সেই সংস্থাটির ডিরেক্টর।

সোনিয়া রাহুলকে ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ/The News বাংলা
সোনিয়া রাহুলকে ১০০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ/The News বাংলা

সংস্থাটি ২০১১-১২ অর্থবর্ষে মোট রোজগারের তুলনায় অনেক কম রোজগার দেখিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আয়কর দপ্তর সেসময়ের সংস্থাটির আয়ব্যয়ের হিসেব পুনরায় খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতে আবেদন করেছিলেন কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

বিজেপির অভিযোগ, ইয়ং ইন্ডিয়া নামের ওই সংস্থাটি অন্তত ৫ হাজার কোটির সম্পত্তি গোপন করেছে। ওই সংস্থাটিতে শুধু রাহুল গান্ধীর শেয়ার রয়েছে ১৫৪ কোটি টাকার। অথচ, রাহুল দেখিয়েছেন মাত্র ৬৮ লক্ষ টাকার শেয়ার। এই মামলায় সোনিয়া রাহুলের হয়ে লড়ছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।

আরও পড়ুনঃ

Exclusive: লোকসভা ভোটের আগে মমতার পুলিশে ব্যপক রদবদল, ১২০ অফিসার বদলি

বউ অদল বদল, বিকৃত যৌনাচারে ধর্ষণের অভিযোগ গৃহবধূর

হিন্দুত্ববাদীদের নিশানা করতে মসজিদে পাথর ছুঁড়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা, ধৃত সিপিএম নেতা

ভোটের আগে সিবিআই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা খেল মোদী সরকার

আয়কর দফতরের মতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মত আয় পুরোপুরি গোপন করেছেন সোনিয়া রাহুল। এবং প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয়কর দেন নি। এই কারণেই মা ছেলেকে নোটিশ পাঠিয়েছেন তারা।

দিল্লি হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই গান্ধী পরিবারকে আদালতে হাজির হয়ে আয়কর ফাইল নিয়ে এফিডেভিট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত আয়কর দফতরকেও নির্দেশ দিয়েছে যে একটা কাউন্টার এফিডেভিট আদালতে জমা দিতে। আয়কর মামলার পরবর্তী শুনানী আগামী ২৯ জানুয়ারী।

তবে এই নিয়েও উত্তপ্ত লোকসভা ও রাজ্যসভা। লোকসভা ভোটের আগে এটা মোদী সরকারের চক্রান্ত বলেই অভিযোগ কংগ্রেসের। অন্যদিকে লোকসভার আগে বড় ইস্যু পেয়ে ইতিমধ্যেই সোনিয়া রাহুলকে ‘কর চোর’ বলে অভিহিত করেছে বিজেপি। লোকসভা ভোটে এখন লড়াই ‘চৌকিদার চোর’ বনাম ‘মা-বেটা চোর’, বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের https://thenewsbangla.com/income-tax-notice-durga-puja-organizers-of-kolkata-are-in-a-big-trouble/ Sat, 05 Jan 2019 06:31:53 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=5256 The News বাংলা, কলকাতা: বেশ চিন্তায় পরেছেন কলকাতার পুজো উদ্যোক্তারা। ডিসেম্বরের শেষে কলকাতার প্রায় ৪০টি বড় পুজোর কর্তারা পেয়েছেন আয়কর দফতরের নোটিশ। কেন কোটি কোটি টাকা আয় ও খরচা করার পরেও এক টাকাও আয়কর দেন না, টিডিএস জমা করেন না পুজো আয়োজকরা, প্রশ্ন আয়কর দফতরের। আগামী ৭ ও ৮ জানুয়ারী সোম ও মঙ্গলবার, ২০১৮ সালের পুজোর সব হিসাব নিয়ে আয়কর দফতরে দেখা করার নির্দেশ পেল কলকাতার ৪০টি পুজো।

রাজ্যের দুর্গাপুজোয় খরচ হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। কলকাতায় এক একটি বড় পুজো কোটি টাকার বেশি খরচা করে। অথচ এক টাকাও আয়কর দেওয়া হয় না। কেন আয়কর দেন না ? কেন টিডিএস কাটেন না? এই সব প্রশ্ন নিয়েই কলকাতার বড় ৪০টি পুজোকে এবার নোটিশ দিল ইনকাম ট্যাক্স। চিঠিতে পুজোর খরচা সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়ে অফিসে এসে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উদ্যোক্তাদের।

আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের/The News বাংলা
আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের/The News বাংলা

জানা গেছে, কলকাতার প্রায় ৪০টি বড় পুজো কমিটিকে নোটিশ ধরিয়েছে আয়কর দফতর। জানুয়ারী মাসের ৭ ও ৮ তারিখের মধ্যে ওই সব পুজো কমিটিগুলির কর্তাদের গত বছরের পুজোর জমা খরচের পুরো হিসেব নিয়ে আয়কর ভবনে দেখা করতে বলা হয়েছে। বেশ কিছু প্রশ্নের ক্লারিফিকেশন চেয়েছে আয়কর দফতর। ডিসেম্বরের শেষেই পুজো উদ্যোক্তারা পেয়েছেন ইনকাম দফতরের নোটিশ। কি কি প্ৰশ্ন এর জবাব চেয়েছে ইনকাম ট্যাক্স দফতর?

মূল প্ৰশ্ন হল, মণ্ডপ শিল্পী বা থিম শিল্পী, প্রতিমা শিল্পী, আলোক শিল্পী, বাজনদার সকলকেই টাকা দেয় পুজো কমিটিগুলি। অথচ প্রদান করা সেই টাকা থেকে টিডিএস বা ট্যাক্স ডিডাকটেড অ্যাট সোর্স কেটে তা আয়কর দফতরের কাছে জমা করে না কোন পুজো উদ্যোক্তাই। কোটি কোটি টাকা আয় ও খরচা হলেও, সোর্স অফ ইনকাম ও খরচা এসবের অডিট করায় না কেউই। কোনো হিসাব আয়কর দফতরে কেন জমা পরে না, কেন পেমেন্ট করা সত্ত্বেও টিডিএস কাটা হয় না, এই সব প্রশ্নের ক্লারিফিকেশন চেয়েছে ইনকাম ট্যাক্স।

আরও পড়ুনঃ

ভোরবেলায় শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি ‘মা দুর্গার’

ফের গরু চোর সন্দেহে খুন, এবার ‘গোরক্ষকের’ নাম মুসলিম মিঁয়া

কংগ্রেস ছেড়ে মমতার ‘মহানায়িকা’ এবার মোদীর বক্স অফিসে

দেশপ্রেম বাড়াতে স্কুলের রোল কলে এবার ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় ভারত’

আয়কর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে রাজ্যে দুর্গাপুজোয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচা হয়েছে। অথচ দু-একটি পুজো উদ্যোক্তা ছাড়া কেউই টিডিএস কেটে ইনকাম ট্যাক্সে জমা দিচ্ছেন না। অথচ ১৯৬১ সালের ইনকাম ট্যাক্স রুলস অনুযায়ী, কাউকে তাঁর কাজের বিনিময়ে কোনও টাকা দেওয়া হলে টিডিএস কাটতে হবে এবং তা আয়কর দফতরে জমা করতে হবে।

আয়কর দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, শিল্পীদের লাখ লাখ টাকা দেওয়া হয় যার টিডিএস আয়করের পাওয়ার কথা কিন্তু একটা টাকাও জমা পরে না। আয়কর কর্তাদের মতে, এখন দুর্গাপূজায় সম্পূর্ণ পেশাদারদের দিয়েই কাজ করানো হয়। সে ক্ষেত্রে খরচের ১০ শতাংশ আয়কর দফতরে জমা পড়ার কথা। কিন্তু কিছুই জমা পরে না।

ইনকাম ট্যাক্স কর্তারা আরও জানাচ্ছেন, রাজ্যে দুর্গাপূজায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচা হয়। কাজ করানো হয় পেশাদের দিয়ে। ১০ শতাংশ টিডিএস বাবদ আয়করে জমা পড়ার কথা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই বিশাল টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আয়কর দফতর। তবে এই ৫ হাজার কোটি টাকার গল্প উড়িয়ে দিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা।

আর এই বিশাল হিসাব দেখেই এবার কোমর বেঁধেছেন আয়কর দফতরের কর্তারা। প্রাথমিক পর্বে নোটিশ পাঠানো হয়েছে কলকাতার প্রায় ৪০টি পুজো উদ্যোক্তাদের। এক আয়কর কর্তা জানিয়েছেন, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার ৪-৫টি পুজো কমিটি ছাড়া টিডিএস কাটা ও তা আয়কর দফতরে জমা করার কথা কেউ ভাবেই না কেউ।

ইনকাম ট্যাক্সের নোটিশ পেয়ে চিন্তার ছায়া পুজো উদ্যোক্তাদের মাথায়। শিল্পীদের পেমেন্ট থেকে ১০ শতাংশ টাকা কাটা যাবে কি? না হলে শিল্পীদের পেমেন্ট দেবার পর আবার টিডিএস দেওয়াটা আরও খরচ সাপেক্ষ ব্যপার। সেটাও বহন করতে হবে পুজো আয়োজকদেরই।

পেশায় আইনজীবি, কাশী বোস লেন পুজো কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা সৌমেন দত্ত জানিয়েছেন, “আমরা নোটিশ পেয়েছি। হিসাব নিয়ে যাব। তবে শুধু শিল্পীদের ক্ষেত্রে টিডিএস কাটা সম্ভব। বাকি তো গ্রাম থেকে গরিব কারিগরেরা এসে কাজ করেন। তাঁদের বেশির ভাগেরই প্যান কার্ড নেই। অনেকের ব্যাংক একাউন্টও নেই। তা ছাড়া এত হিসেব কে রাখবে? পুজো করব, না এ সব করব?”

হাতিবাগান সর্বজনীন এর পুজো উদ্যোক্তা শাশ্বত বাসু বলছেন “আয়কর দেওয়া উচিত, আমরা ট্যাক্স ফাইল করি। কিন্তু টিডিএস আমরা কি করে কাটব?” তিনি আরও জানান তাঁরা টিডিএস কাটলে শিল্পীদের ও বাজনদারদেরও পুজো সংক্রান্ত বিষয়ে ট্যাক্স ফাইল করতে হবে। সেটা কি সম্ভব?

বেশির ভাগ পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, “থিম শিল্পী থেকে বাজনদার বা ডেকরেটর থেকে আলোক শিল্পী, কেউ তো আর টাকা কম নেবেন না। ফলে, টিডিএস-এর টাকা আমাদের উপরেই বর্তাবে। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে”। অনেকেই বলেছেন, “পুজো আয়োজন সমাজসেবার মধ্যে পরে, সেখানে ছাড় পাওয়া উচিত”।

কেউ কেউ আবার এর পিছনে ভোটের বছরে রাজনীতির অঙ্কও দেখছেন। কারণ, কলকাতার প্রধান পুজোগুলির বেশির ভাগেরই উদ্যোক্তা হয় রাজ্যের মন্ত্রী, নয়তো তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা। অনেকের আবার সভাপতি তৃণমূল নেতা মন্ত্রী। তাঁদের চাপে রাখতেও আয়কর দফতর এমন পদক্ষেপ করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

শুধু বাংলার দুর্গা পুজোয় কেন নজর দিল আয়কর দফতর, সেই প্রশ্নও তুলছেন পুজো উদ্যোক্তা ও কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। তাঁর মতে, “মুম্বইয়ের গণেশপুজোয় তো এর থেকে অনেক বেশি জাঁকজমক হয়। সেখান থেকে কি কর চাওয়া হচ্ছে”? দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, তাঁরা টিডিএস কেটে জমা দেন, এই নিয়ে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু পুজোর সঙ্গে বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা কর্মীরা যুক্ত আছেন, তাই এই রাজনৈতিক চক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের।

ঠিক একই কথা বলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ববি হাকিম থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তা ও উত্তর কলকাতার অনেক পুজোর সঙ্গে জড়িত থাকা অতীন ঘোষও। “পুজোর সঙ্গে তৃণমূল নেতারা সবাই জড়িত, তাই দেশের সব পুজোকে ছেড়ে বাংলার দুর্গা পুজোকে টার্গেট কেন্দ্রীয় সরকারের”, অভিযোগ সবার।

উত্তর কলকাতার এক পুজো উদ্যোক্তা আবার বলেছেন, “দিদির দেওয়া ১০ হাজার টাকা অনুদান কেটে নেবার চক্রান্ত করেছে মোদী। তাই এই পদক্ষেপ”। সব মিলিয়ে ২০১৯ এর পুজো প্রস্তুতির শুরুতেই পুজো উদ্যোক্তাদের মাথায় চিন্তার পাহাড় চাপাল আয়কর দফতর। আগামী সোম ও মঙ্গলবারের আয়কর দফতরে হাজিরায় কি হবে সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে মায়ের ভক্তদের।

আরও পড়ুনঃ

শীতের বাংলায় বৃষ্টি আনতে আন্দামান থেকে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’

EXCLUSIVE: সংখ্যালঘুদের ধর্মে সুড়সুড়ি দিয়ে প্রকাশ্যে ভারতের টাকার কালোবাজারি

EXCLUSIVE: নতুন বছরে সুখবর, রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন বকেয়া ডিএ

‘রাম’কে ছেড়ে আসা লক্ষণকে ‘হাতে’ নিয়ে বাংলায় তুলকালাম

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>