I League – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sun, 27 Jan 2019 17:57:24 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg I League – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 সোনি বোতলবন্দি, ফিরতি ম্যাচেও বাগানকে চূর্ণ করল জবির ইস্টবেঙ্গল https://thenewsbangla.com/i-league-kolkata-derby-jobby-justin-stars-as-east-bengal-beat-mohun-bagan/ Sun, 27 Jan 2019 16:18:28 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6076 ১৫ বছর পর আই লীগের দুটি ডার্বি ম্যাচেই মোহনবাগানকে হারাল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ পরিকল্পনায় বাগান কোচ খালিদ জামিলকে টেক্কা দিলেন লাল হলুদের অ্যালেসান্দ্রো মেনেন্ডেজ গার্সিয়া। রবিবাসরীয় ডার্বির রং লাল হলুদ।

আই লিগে শুধু নয়, অ্যালেসান্দ্রো মেনেন্ডেজ গার্সিয়ার প্রশিক্ষণে এখনও পর্যন্ত যা খেলেছে ইস্টবেঙ্গল, তাতে আজকের ম্যাচ অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে সেরা। ফুটবল মহল বলছে, “অ্যালেসান্দ্রোর ছেলেরা আজ বুঝিয়ে দিয়েছে, ইংরেজিতে “মিথ” আর “পারসেপশন”, দুটো ভিন্নার্থক শব্দ। ‘সোনি নর্ডি খেললে মোহনবাগান হারে না’, এই মিথ যে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এতদিন, তার সলিল সমাধি হল রবিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।

শুধু এগারোজন লাল-হলুদ নয়, পরিবর্তন হিসেবে নেমে ব্র্যান্ডন লালরেমডিকা যে খেলাটা খেলল, তা চোখে লেগে থাকবে অনেকদিন। প্রথম একাদশে কমলপ্রীতকে মরসুমে প্রথম নিজের জায়গায় খেলতে দেখা গেল। নিজের জায়গায় ও যে এখনও কতখানি ভাল, তা আজ বারবার প্রমাণিত করল এই পাঞ্জাব তনয়। ওর এমন খেলায়, মনোজ মহম্মদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার যথেষ্ট কারণ আছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোনি বোতলবন্দি, ফিরতি ম্যাচেও বাগানকে চূর্ণ করল জবির ইস্টবেঙ্গল/The News বাংলা
সোনি বোতলবন্দি, ফিরতি ম্যাচেও বাগানকে চূর্ণ করল জবির ইস্টবেঙ্গল/The News বাংলা

রবিবাসারীয় ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র বাঙালি ফুটবলার সামাদ আলি মল্লিক মাঠে নেমেছিল ৮৭ মিনিটে, বাকি যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কেউ বাঙালি নন। কিন্তু তাও, লাল হলুদ জার্সির আবেগটা বুঝতে এতটুকু ভুল হয়নি, লালরামচুল্লোভা পৌতো, লালরিংডিকা রালতে, জনি অ্যাকোস্তা জামোরা, টনি ডোভালে, খাইমে স্যান্টোস কোলাডো, কিংবা বোরখা গোমেজ পেরেজদের।

ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে পাঁচ থেকে ছটি ছকে খেলে বিপক্ষের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার কাজটা করেছে। সবুজ মেরুনের সেই সোনি নর্ডি নির্ভর ফুটবল আটকে দিলেই যে ম্যাচ হাতে আসবে, সেটা বুঝতে ভুল করেন নি সাহেব কোচ। আর রবিবার, ঠিক সেই কাজটাই করল অ্যালেসান্দ্রোর ছেলেরা।

রিয়েল মাদ্রিদ বি দলের প্রাক্তনীর নির্দেশই ছিল, বক্সে ঢুকেই যে গোলে শট নিতে হবে তার কোনও মানে নেই। তাই শুরু থেকেই লাল হলুদের ফুটবলাররা বক্সের বাইরে যেখানে বল পেয়েছে, সেখান থেকেই শট নিয়েছে গোলমুখে। আর ৩৪ মিনিটে যেই সুযোগ পেয়েছে, কোলাডোর জন্য নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দিয়েছে জবি। কোলাডোও গোলে বল রাখতে ভুল করেনি।

সোনি, ডিকা, হেনরিকে নামিয়ে আক্রমণে শক্তি বৃদ্ধি করতে চেয়েছিল মোহনবাগান কোচ। পারেননি, কেননা একার দায়িত্বে হাইতিয়ান তারকাকে বোতলবন্দি করে দিল লালরাম চুল্লোভা পৌতো। এমনভাবে ট্যাকেল করতে লাগল চুল্লোভা, যে সোনি শুধু বিষমাখানো কর্ণার করাই নয়, ভুল করতে লাগল ফ্রিকিক নিতে গিয়েও।

আর সেখানেই শেষ মোহনবাগান। খালিদ বরঞ্চ এক স্ট্রাইকারে খেলে ইউতাকে নামালে অনেক বেশি জায়গা তৈরি করতে পারতো ইস্টবেঙ্গল অর্ধ্বে। প্রথম চালেই তাই ভুল করে ফেলল মুম্বইকর প্রশিক্ষক।

ম্যাচ যত এগিয়েছে, বাগান রক্ষণে গলায় ফাঁসের মতো চেপে বসেছে লাল হলুদ আক্রমণ। একের পর এক আক্রমণের ঝড়ে তখন বেসামাল পালতোলা নৌকা। এর মাঝে, হঠাৎই ইস্টবেঙ্গল জালে বল ঢুকিয়ে দেয় ডিকা। অবশ্য লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায়, সেই গোল নাকচ করেন রেফারি শ্রীকৃষ্ণ।

সোনি বোতলবন্দি, ফিরতি ম্যাচেও বাগানকে চূর্ণ করল জবির ইস্টবেঙ্গল/The News বাংলা
সোনি বোতলবন্দি, ফিরতি ম্যাচেও বাগানকে চূর্ণ করল জবির ইস্টবেঙ্গল/The News বাংলা

রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে, গোলে ঢোকার আগে বল হাতে লাগে মোহন ফুটবলারের। তাছাড়া, দুই ফুটবলার অফসাইডেও থাকায়, গোল বাতিল নিয়ে বেশি আবেদন নিবেদনের পথে আর যায়নি সবুজ মেরুন ব্রিগেড। এরপর আবার ডিকার কর্ণার থেকে হেডে বিশ্বমানের গোল জবির। মাঝে দুটো ম্যাচে একটু অফফর্মে ছিল আই এম বিজয়নের এই ভক্ত। আক্রমণ ভাগে মাঝে মাঝে একা পড়ে যাচ্ছিল বলে। তবে আজ আর তেমনটি হয়নি। যোগ্য সঙ্গত করে গিয়েছে কখনও খাইমে, কখনও ডোভালে, কখনও ডানমাওইয়া রালতে।

দ্বিতীয় অর্ধ্বে ডানমওইয়াকে বসিয়ে ব্র্যান্ডনকে মাঠে নামিয়ে মোহনবাগান ডিফেন্সের ওপর আরও চাপ বাড়িয়ে দেন অ্যালেসান্দ্রো। মোহনবাগান তখন দিকশূন্য। এতটাই করুণ অবস্থা যে চুল্লোভাকে আটকাতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখতে হয় মোহনবাগান অধিনায়ক সোনি নর্ডিকে। পুরো মোহনবাগান দল তখন কোথায় আক্রমণ করবে, না পুরো এগারোজন নেমে ডিফেন্স করে চলেছে।

জনি আর বোরখা জুটি যতদিন যাচ্ছে তত দুর্ভেদ্য হয়ে উঠছে। কোনও শব্দই ওদের প্রশংসার যোগ্য নয় আজ যে খেলাটা খেলেছে ওরা দুজনে। সঙ্গে কাসিম আয়দারা। মোহনবাগানের মাঝমাঠের খেলাটাই নষ্ট করে দিয়েছে ও একার দায়িত্বে। একজন অসাধারণ হয়ে ওঠে একজন অসাধারণ প্রশিক্ষকের হাতে পড়েই। ইস্টবেঙ্গলের সকলে তা আজ ৯৪ মিনিট, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছে, বলছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

চেন্নাইয়ের সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলে ফারাক মাত্র পাঁচ পয়েন্টর। আগামী দিনে চেন্নাইকে কিন্তু খেলতে হবে মোহনবাগান, চার্চিল ব্রাদার্স আর রিয়েল কাশ্মীরের বিরুদ্ধে। আশায় বুক বাঁধতেই পারে লাল হলুদ।

সৌজন্যেঃ
লেখাঃ শান্তনু সরস্বতী/ছবিঃ সৌমিক দাস

]]>
মোহনবাগান সমর্থকদের সোনি আবেগের কাছে বশ্যতা স্বীকার কর্তাদের https://thenewsbangla.com/the-emotion-of-supporters-forced-mohunbagan-officials-to-include-sony-in-the-team/ Fri, 12 Oct 2018 12:10:34 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1105 শান্তনু সরস্বতী, কলকাতা: ক্লাব নির্বাচনে জয় নিশ্চিত জেনেও, সোনি নোর্দি ইসুতে একরকম আবেগের কাছে নতি স্বীকার করলেন মোহনবাগান ক্লাব কর্তৃপক্ষ। গতকাল রাতেই মোহনবাগান ক্লাবের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে তা ক্লাব কর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে হাইতির তারকা মিডফিল্ডার। তবে জানা গিয়েছে, কোচ শংকরলাল চক্রবর্তীর কথা মেনে সোনিকে মেডিক্যাল পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে।

মিশরের ওমর নবিল রাশাদ এলহুসেইনিকে পাকা কথা দেওয়ার পর হঠাৎ কী এমন হল যে তড়িঘড়ি মায়ামিতে ছুটি কাটাতে যাওয়া সোনি নোর্দিকে চুক্তিপত্র পাঠাতে গেলেন মোহনবাগান ক্লাব কর্তারা? মিশরের তারকা ফুটবলার যে পজিশনে খেলে, সোনি নোর্দিও ঠিক ওই একই পজিশনের ফুটবলার।

কোচ শংকরলাল চক্রবর্তী ঠিক করেই নিয়েছিলেন, ষষ্ঠ বিদেশির জায়গায় একজন ভাল মানের বিদেশি ডিফেন্ডার নেবেন। সেই মতো কথাবার্তাও চলছিল বেশ কয়েকজন বিদেশির সঙ্গে। হঠাৎই তাল কাটে সোনির করা ফেসবুকের একটি পোস্টে। সেখানে আবেগমথিত সোনি দাবি করে, মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ তাকে এই মরসুমের জন্য আগে আশ্বাস দিলেও আর যোগাযোগ করেননি। আর এতেই উদ্বেল হয়ে ওঠে মোহনজনতা।

আর ঠিক এখানেই আবেগের কাছে হার মানেন সদ্য নির্বাচিত সচিব স্বপনসাধন (টুটু) বসু । নিজেই দায়িত্ব নিয়ে রাজি করান কোচ শংকরলাল চক্রবর্তীকে। আর সোনিও রাজি হয়ে যায় মেডিক্যাল পরীক্ষা দিতে। তবে যতোই মেডিক্যাল পরীক্ষার কথা বলা হোক না কেনও, সেটা যে একরকম আই-ওয়াশ, তা ভালোই জানে মোহনবাগান সমর্থক থেকে শুরু করে সোনি নোর্দি নিজেও।

বেশ কয়েক বছর কলকাতা ময়দানে খেলে চতুর হাইতিয়ান বুঝে গিয়েছে, এখানে সমর্থকদের আবেগের কাছে বহু ক্ষেত্রেই আত্মসমর্পণ করেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাই মায়ামিতে ছুটি কাটাতে গেলেও, সে যে অপারেশনের পর শারীরিক দিক দিয়ে একশো শতাংশ ফিট তা প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগে যায় নিয়মিত নিজের শারীরিক কসরতের ভিডিও পোস্ট করে।

মেসির দেশে অপারেশন করে হাইতিয়ান যে সম্পূর্ণরূপে চোটমুক্ত তা প্রমাণিত করার চেষ্টা করতে থাকে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে যখন দেখে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা একরকম বন্ধই করে দিয়েছে।

এখন দেখা যাক, চিকিৎসাশাস্ত্র কী বলছে সোনির এই চোটের বিষয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্থিবিশারদ The News বাংলাকে জানিয়েছেন, “সোনির বাঁ গোড়ালিতে চোটের কারণে অস্ত্রপ্রচার করেছেন আর্জেন্টিনার এক শল্যচিকিৎসক। আর্জেন্টিনার চিকিৎসা বিজ্ঞান যে ভারতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক উন্নত তা মেনে নেওয়ার কোনও কারণ নেই”।

“ক্রিকেট হলে বলতে দ্বিধা করতাম না, সোনি আবার নিজস্ব ফর্ম ফিরে পাবে। কিন্তু যেহেতু খেলার নাম ফুটবল, যেখানে একজন মাঝমাঠের ফুটবলারকে একই গতিতে খুব কম করে দশ থেকে বারো মাইল দৌঁড়তে হয়, সেই কারণেই বলছি, ওর পক্ষে আগের ফর্মে ফিরে আসা একরকম অসম্ভব’। জানিয়েছেন ওই অস্থি বিশারদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাক্তন এক মোহনবাগান ফুটবলার বলেন, “এটা কলকাতা বলেই সোনির পাতা ফাঁদে পা দিলেন টুটুবাবু। এবং নিতান্তই আবেগের বশবর্তী হয়ে। শুনলাম সাত মাসের জন্য রেকর্ড অর্থে সই করানো হচ্ছে এই ফুটবলারকে। টাকাটা জলে ফেলা হল বলেই আমার বিশ্বাস।”

মোহনবাগান কোচ, কর্তারাও জানে ওর চোটের জন্য ওকে নেওয়া ভুল হবে যার জন্য এত টালবাহানা করছিল এতদিন। মেডিক্যাল না দিয়ে দলে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েও দেওয়া হয় ওকে। কিন্তু মোহনজনতার মাধ্যমে সোনির দেওয়া মাইন্ডগেমে শেষে হার মানতে হল গঙ্গাপাড়ের শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবটিকে। তাই সোনি আবার কলকাতায় আসছে কিছু সমর্থকের আবেগ কাজে লাগিয়ে। যে-কোনও টাফ ট্যাকলারের সামনে সোনি যে গুটিয়ে রাখবে নিজেকে, তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আই লিগে বিদেশি ফুটবলারদের যে তালিকা এখনও অবধি The News বাংলার হাতে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, শুধু ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার বোরখা গোমেজ পেরেজই নন, ওর মতোই বিধ্বংসী ডিফেন্ডার নিয়েছে এই বছর মিনার্ভা পঞ্জাব, চেন্নাই এফসি, কেরলের গোকুলাম এফসির মতো দলগুলি।

ইস্টবেঙ্গলের বোরখা, মিনার্ভার রোয়ান্ডান ডিফেন্ডার এইমব্লে নাবিমানা, চার্চিল ব্রাদার্সের ব্রাজিলিও ম্যাথাউস কাম্বুসি জাগেইরো ও নেরোকা এফসির প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গলী ব্রাজিলিয়ান এদুয়ার্দোদের সামনে পড়লে হাইতিয়ান তারকা মিডফিল্ডার কী করেন, এখন সেটাই দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকবে ফুটবলপ্রেমী মানুষ। আশঙ্কার দোলাচলে বাগান সমর্থকরাও।

]]>
সোনিকে হারিয়ে হতাশ মোহনবাগানীদের উজ্জীবিত করলো ওমর https://thenewsbangla.com/after-losing-sony-norde-frustrated-mohunbagan-fans-revived-for-umar/ Wed, 10 Oct 2018 11:51:08 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=985 শান্তনু সরস্বতী, কলকাতা: হাইতির জাতীয় দলের প্রাক্তনী সোনি নোর্দিকে একরকম না-ই বলে দিল মোহনবাগান ক্লাবকর্তারা। সোনির বদলে মোহনবাগানে সবুজ মেরুন জার্সি গায়ে এই মরসুমে খেলতে দেখা যাবে মিশরের ওমর নবিল রাশাদ এলহুসেইনিকে।

সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্তের হাত ধরেই ভোটের দামামায় দিশেহারা মোহনবাগান সমর্থকরা এখন তাই কিছুটা হলেও উজ্জীবিত।

বেশ কয়েকবছর টানা হাইতিয়ান তারকা মিডফিল্ডারের টাকা বাড়ানোর চাপের কাছে নতিস্বীকার করলেও, এই বছর কোচ শংকরলাল চক্রবর্তীর কথাতেই সোনিকে না বলেছেন মোহনবাগান ক্লাব কর্তারা। আহত সোনি গতবছরম মরসুমের মাঝপথে তার পুরনো চোটে কাবু হওয়ায়, বাধ্য হয়েই তাকে রিলিজ করে দিয়েছিল সৃঞ্জয় বসু, দেবাশিস দত্তরা।

এই বছর মোহনবাগান জার্সি গায়ে চাপানোর আগ্রহ দেখালেও, ফিটনেস ও মেডিক্যাল পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করে সোনি। তাই তার জায়গায় মিশরের তারকা মিডফিল্ডার, ওমর নবিল রাশাদ এলহুসেইনি- কেই সই করালো মোহনবাগান কর্তারা।

হাইতিয়ান তারকা মিডফিল্ডারের মতো ভারতীয় উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা আছে এই মিশরীয় ফুটবলারের। মোহনবাগান ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগে সোনি যেমন বাংলাদেশের শেখ রাসেল জামাল ধানমন্ডিতে খেলতো, তেমনই ওমর এলহুসেইনি এক মরসুম খেলেছে ইন্দোনেশিয়ার প্রিমিয়ার ডিভিশন দল পারসেলা লেমাঙ্গনে। ইন্দোনেশিয়ায় অবশ্য তেমন সফল নয় ওমর। তার দল প্রথম ডিভিশনের দলগুলির মধ্যে কোনও পয়েন্ট না পেয়ে তালিকার শেষ স্থানটি পায়।

২০১৬ সালে ওমরের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই তাকে রিলিজ করে দেয় তার ক্লাব পারসেলা লেমাঙ্গন। পারসেলা ওমরকে রিলিজ করে দেওয়ার পর পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি লম্বা এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার দু-বছরের চুক্তিতে যোগ দেয় আফ্রিকার মালটার ক্লাব জেজটুন কোরিন্থিয়ান এফসিতে।

আফ্রিকার ক্লাবটি আর নতুন করে চুক্তি করেনি ওমরের সঙ্গে, বলে জানা গিয়েছে ট্রান্সফার মার্কেট ডট কম ওয়েবসাইট থেকে। ফ্রি ফুটবলার হওয়ায় ওমরকে সই করাতে অসুবিধা হয়নি মোহনবাগানের। ট্রান্সফার মার্কেট ডট কম-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩২ বছর বয়সী মিশরীয় ওমরের দাম আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতীয় টাকায় এক কোটি আশি লক্ষ টাকা।

নিজের পছন্দের জায়গা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হলেও ওমর এলহুসেইনি স্ট্রাইকার ও বাঁপ্রান্তিক উইংঙ্গার হিসেবেও খেলতে স্বচ্ছন্দ। মিশরের প্রথম ডিভিশন ক্লাব এল সার্কিয়াডোখান এফসি-তে ২০১০ সালে ওমরের ফুটবল কেরিয়ারের শুরু। এল সার্খিয়া ক্লাবে দুবছর কাটিয়ে মিশরীয় এই ফুটবলার যোগ দেয় ওই দেশেরই প্রথম ডিভিশন ক্লাব কাহরাবা ইসমাইলিয়া এফসিতে।

২০১২-২০১৪ সেখানে কাটিয়ে ওমর যোগ দেয় এস্তোনিয়ার প্রথম ডিভিশন ক্লাব লেভাদিন তালিনে। লেভাদিন তালিনের হয়ে ২০১৪-২০১৬ সালে জাতীয় লিগে মোট ৭৩ ম্যাচে ১২ গোল করে এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। ইউটিউবে ওমরের যে গোলগুলির ভিডিও পোস্ট করা আছে, তা সবই ওই লেভাদিন তালিন এফসির হয়ে ২০১৫ সালে করা। মালটার দলটির হয়ে ১৩ ম্যাচে ওমরের গোল সংখ্যা সেখানে তিনটি।

আফ্রিকার এই দেশটির ফিফা তালিকায় যেখানে এই অক্টোবরে স্থান ১৬৯, সেখানে স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনের ভারতের স্থান ৯৭। আর ইন্দোনেশিয়ার স্থান ১৬৪। একশো শতাংশ ফিট সোনি নোর্দির মতো বাঁপায়ের শিল্পী ফুটবলার না হলেও, ওমরের পায়ে ভেল্কি আছে। এস্তোনিয়ার জাতীয় লিগে করা ওর গোলগুলির ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে দু-তিনজনকে কাটিয়ে গোল করতে।

তবে শংকরলাল চক্রবর্তী বুদ্ধিমান কোচ। একশো শতাংশ ফিট হলে ওমরকে তার পছন্দের জায়গাতেই খেলাবে বলে বিশ্বাস মোহনবাগান জনতার। ওমর সচল হলে দুই স্ট্রাইকার ক্যামেরুনের দিপান্দা ডিকা ও উগান্ডার হেনরি কিসেকার জন্য বলের সাপ্লাইয়ের অভাব হবে না। চোটপ্রবণ জাপানি মিডিও ফিট থাকলে আর কোনও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার নেবে না গঙ্গাপাড়ের ক্লাবটি। ষষ্ঠ বিদেশি হিসেবে তাই এখন একজন ভাল মানের ডিফেন্ডার খুঁজছে ক্লাব।

ক্লাব সমর্থকদের আপাতত উজ্জীবিত করতে সক্ষম হলেও আই লিগে সোনি নোর্দির পরিবর্তন হিসেবে কতটা সফল হবে এই মিশরীয় ফুটবলার তা বেশ কয়েকটি ম্যাচ না গেলে বোঝা যাবে না। ওমর অবশ্য তার মোহনবাগান ক্লাবে যোগদানের বিষয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত।

রাজধানী কায়রোয় ভারতীয় দূতাবাসের অফিসারদের ব্যবহারে সে যে বেশ আপ্লুত তা সোস্যাল মিডিয়াতে জানাতে দ্বিধা করেনি। আগামী সোম অথবা বুধবার ওমরের কলকাতায় আসার কথা একরকম পাকা। মোহনবাগান সমর্থকরা তার আসার বিষয়ে কতখানি খুশি তা জানা যাচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই।

]]>