Goddess Durga – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 21 Mar 2019 17:59:15 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Goddess Durga – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 কেন মা কালীর পায়ের নিচে বাবা মহাদেব https://thenewsbangla.com/why-is-god-mahadev-under-the-feet-of-goddess-kali/ Thu, 08 Nov 2018 11:55:22 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2045 The News বাংলা: মা কালী হলেন একজন হিন্দু দেবী। তাঁর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। প্রধানত শাক্ত সম্প্রদায় কালীপূজা করে থাকে। তন্ত্র অনুসারে, কালী দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত দশজন প্রধান তান্ত্রিক দেবীর প্রথম। কিন্তু মা কালীর পায়ের নীচে শিব কেন ?

শাক্ত মতে, কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। পুরাণ ও তন্ত্র সাহিত্যে কালীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা পাওয়া যায়। এগুলি হল: দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, সিদ্ধকালী, গুহ্যকালী, শ্মশানকালী, মহাকালী, রক্ষাকালী ইত্যাদি।

কিন্তু, মা কালীর পদতলে শিব কেন?

Image Source: Google

পুরাণে আছে, অসুর কূলের আক্রমনের ফলে সঙ্কটে পরে দেবতারা। তাঁদের তাঁড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের অধিকার নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অসুররা। অসুরদের প্রধান ছিলেন রক্তবীজ। ব্রহ্মার বরে রক্তবীজের একফোঁটা রক্ত থেকে জন্ম নিচ্ছিল আরো হাজার রক্তবীজ।

আরও পড়ুনঃ জেনে নিন সিদ্ধপুরুষ ‘জয় বাবা লোকনাথ’ এর অজানা কাহিনী

একফোঁটা রক্ত ভূমিতে পড়লেই আর্বিভূত হচ্ছিল অসুর বাহিনী। অসুর নিধন করতে অবর্তীণ হোন দেবী দূর্গা। সব অসুর নিহত হলেও বেঁচে থাকেন রক্তবীজ। কিন্তু সেই যুদ্ধেও ব্রহ্মার বরে অপরাজেয় থাকেন রক্তবীজ। এই অবস্থায় দূর্গার ভীষণ ক্রোধে তাঁর দুই ভ্রু এর মাঝখান থেকে জন্ম নেন দেবী কালী।

Image Source: Google

কালীর ভয়াল দৃষ্টিতেই নিহত হয় বহু অসুর। এরপর দেবীর চিৎকারে প্রাণহানি হয় আরও অনেক অসুরের। রক্তবরণ লকলকে জিব বের করে কালী গ্রাস করে নেন হাতিও ঘোড়া সওয়ার অসুর বাহিনীকে। তারপরেও টিকে থাকেন রক্তবীজ। এই অবস্থায় দেবী কালী তাঁকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তাঁর রক্ত পান করতে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ নরকঙ্কালের খুলি সাজিয়ে জাগ্রত মহাশ্মশান কালীর পুজো

রক্তবীজের একফোঁটা রক্তও যাতে ভূমিতে না পড়ে সেই কারনে রক্তবীজের দেহ শূণ্যে তুলে নেন দেবী কালী। এই অবস্থায় রক্তবীজের দেহের সবটুকু রক্তপান করেন দেবী কালী। শেষ বিন্দু রক্ত পান করার পর নিথর রক্তশূণ্য রক্তবীজের দেহ ছুড়ে ফেলে দেন মাতা কালী।

Image Source: Google

আকণ্ঠ রক্ত পান করে বিজয়নৃত্য শুরু করেন মাতা কালী। নিহত অসুরের হাত দিয়ে তিনি কোমড়বন্ধনী এবং মাথা দিয়ে মালিকা বানিয়ে পরিধান করেন। কালীর উন্মাদিনী নাচ দেখে প্রমোদ গোনেন দেবতারা। কারণ এই নাচে আসন্ন হচ্ছিল সৃষ্টির লয়।

পৃথিবীকে ধ্বংশের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য দেবতারা শিবের শরণাগত হলেন। শিবের একাধিক মৌখিক অনুরোধ শুনতে পাননি মাতা কালী। কারন তখন তিনি উন্মাদিনী মত নেচে চলেছেন। আর কোনও উপায় না দেখে নৃত্যরতা কালীর পায়ের তলায় নিজেকে ছুঁড়ে দিলেন মহাদেব।

Image Source: Google

এরপরই চৈতন্য হয় মা কালীর। থেমে যায় নাচ। পায়ের নিচে স্বামীকে দেখে লজ্জায় জিভ কাটেন দেবী কালী। এই পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বন করেই যুগ যুগ ধরেই পূজিত হয়ে আসছে মায়ের এই প্রতিমা। দূর্গার পাশে শিবকে নানা ভাবে দেথা যায়।

আরও পড়ুনঃ অজানা কাহিনির আড়ালে সিদ্ধপিঠ তারাপীঠের তারা মা

তার মধ্যে হরগৌরী রূপ বিখ্যাত। মাতা কালীর সঙ্গে শিব থাকলে তাঁর জায়গা সবসময় দেবীর পদযুগলের নিচে। এই বিগ্রহে কালীর ডান পা যদি এগিয়ে থাকে তবে তিনি দক্ষিণা কালী। আবার বাম পা এগিয়ে থাকলে তা মায়ের বামা ক্ষ্যাপা রূপ।

]]>
‘ম্যাডামে’র মুখের আদলেই দেবী দুর্গার মুখ https://thenewsbangla.com/the-face-of-madam-was-placed-in-the-face-of-goddess-durga/ Mon, 08 Oct 2018 10:15:36 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=855 বিশেষ রিপোর্ট, কলকাতা: ম্যাডামের মুখের আদলেই করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ। দাবি, চাহিদা এটাই। কে এই ম্যাডাম? ওটাই তো রহস্য। এই ম্যাডাম আর কেউ নয়। মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। এই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করলেই বেরিয়ে আসে বাংলার সোনার যুগের সোনার অক্ষরে লেখা ‘নস্টালজিয়ার’ গল্প।

পঞ্চাশ-ষাটের দশকের বিখ্যাত দমকলের ঠাকুর। শিল্পী রমেশ পালের ঠাকুর দেখতে সেন্ট্রাল এভিনিউয়ে দমকল স্টেশনে যেতেন সবাই। অনবদ্য প্রতিমা, শাড়ীর রং আগুন কমলা, কি অপূর্ব শিল্প, কি অপূর্ব চিন্তাধারা।

কলকাতা দমকল বাহিনী এই পুজো করত যা দেখতে ভীড় উপচে পড়ত, মিডিয়ার ভাষায় যাকে বলে দর্শনার্থীর ঢল। তখনকার কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত পুজো। এই পুজো বন্ধ হয় আনুমানিক ১৯৬৩ সালে। এই পূজা বন্ধ করে দেওয়া হয় কারণ, যদি দমকল বাহিনী পূজাব্যস্ততার কারনে ঠিকমত পরিষেবা কলকাতার অন্য প্যান্ডেলে দিতে না পারে।

একটা সময় কলেজ স্কোয়ার, পার্ক সার্কাস, খিদিরপুর যুবক সংঘ ছাড়া একডালিয়ার প্রতিমাও গড়তেন শিল্পী রমেশ পাল। দমকল বাহিনীর পুজো বন্ধ হয়ে যাবার পর এই পুজোর বেশ কিছু উদ্যোক্তাই পরে পাশের পার্কে মহম্মদ আলি পার্কের পুজো চালু করেন।

একটা সময়ে প্রতিমার মুখ মানে অবশ্যই ‘ম্যাডাম’ সুচিত্রা সেন। তখন মিসেস সেন ফুলফর্মে। প্রথম হায়েস্ট পেড নায়িকা, তাই দর্শক থেকে ক্লাব উদ্যোক্তারা সবাই চাইত প্রতিমা হবে ম্যাডামের মুখের আদলে। আর তারই সযত্নে রূপ দিতেন শিল্পী রমেশ পাল।

সে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দেবী দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের আদল। রক্ষনশীল বাংলা সমাজে সম্ভবতঃ সেই প্রথম, মা দুর্গার মুখ করা হত ম্যাডাম মিসেস সেনের মুখের আদলে।

প্রথম দিকে লক্ষী, সরস্বতীর মুখের আদল করা হত সুচিত্রা সেনের মুখের মত। তারপর জনতার দাবি মেনে মা দুর্গার মুখে বসানো হল ম্যাডামের মুখ। আর তাই দেখতে ভিড় করতেন হাজার হাজার মানুষ। কলকাতা, জেলার মানুষ ছাড়াও দমকল বাহিনীর ‘সুচিত্রা প্রতিমা’ দেখতে একসময় দলে দলে কলকাতায় আসতেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ।

৫০ এর দশক থেকে প্রায় ৭০ এর দশক পর্যন্ত বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘রাজ’ করেছেন মহানায়িকা। উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর জুটিকে বাংলা সিনেমার ‘Golden Era’ বা সোনার যুগ বলা হয়।

কিন্তু দুর্গা পুজোপ্রেমী মানুষ ও সাধারণ দর্শকদের চাপে, মা দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের মুখের আদল দেওয়া হচ্ছে, এটাই ছিল সেই যুগের অবিস্মরণীয় একটা অধ্যায়।

]]>