G D Agarwal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Fri, 12 Oct 2018 17:22:22 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg G D Agarwal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 দেশবাসীর অজান্তে আগেও গঙ্গা রক্ষায় রহস্যজনক প্রাণ বলিদান https://thenewsbangla.com/mysterious-soul-sacrifice-to-protect-the-ganges-before-and-without-the-knowledge-of-people-of-the-country/ Fri, 12 Oct 2018 16:56:35 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1124 বিশেষ রিপোর্ট : ভারতবাসীর অজান্তেই গঙ্গা বাঁচাতে ১১১ দিন অনশন করে মৃত্যুবরণ করলেন পরিবেশবিদ জি ডি আগরওয়াল। এর আগেও, গঙ্গা বাঁচাতে ১১৫ দিন অনশন করে রহস্যজনক ভাবে মারা গিয়েছিলেন নিগমানন্দ সরস্বতী বা স্বামী নিগমানন্দ।

১৯৭৬ সালের ২রা আগস্ট বিহারের দারভাঙ্গা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন স্বরূপম কুমার ঝা, ডাকনাম গিরিশ। দিল্লিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়ই ১৯৯৫ সালে ২ রা অক্টোবর গান্ধীর জন্মদিনে, গিরিশ সত্যের খোঁজে দেশ ভ্রমনে বেরিয়ে পরেন। গোটা উত্তর ভারত ঘুরে বেড়ান সত্যের খোঁজে। ৩ বছর পর গিরিশের বাবা মা জানতে পারেন, তাঁদের ছেলে হরিদ্বারের মাতৃমন্দির এ আছেন স্বামী শিবানন্দের শিষ্য হয়ে। নাম, নিগমানন্দ সরস্বতী বা স্বামী নিগমানন্দ।

এই সেই মাতৃমন্দির যেখানে ২ দিন আগেই গঙ্গা রক্ষায় অনশনে মারা যান পরিবেশবিদ জি ডি আগরওয়াল। কিন্তু ভারতবাসীর জানা নাই, ভারতের প্রথম পরিবেশবিদ যিনি গঙ্গা রক্ষার জন্য অনশন করে প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁর নাম স্বরূপম কুমার ঝা, ডাকনাম গিরিশ বা নিগমানন্দ সরস্বতী বা স্বামী নিগমানন্দ।

১৯৯৭ সালে হরিদ্বারে গঙ্গার তীরে মাতৃমন্দির প্রতিষ্ঠাই হয় দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ ও গঙ্গা দূষণ এর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য। গঙ্গা দূষণ রোধ ও গঙ্গার ধারে বেআইনি মাইনিং এর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন স্বামী নিগমানন্দ। এক দশক ধরে তিনি লড়াই চালিয়ে যান গঙ্গা রক্ষার জন্য।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তিনি অনশন আন্দোলন শুরু করেন ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে। এরপরে ওই বছরের জুনেও অনশন আন্দোলন করেন। ৭০ দিনের অনশন আন্দোলনেও প্রশাসনের টনক নড়ে নি। এগিয়ে আসে নি কোন রাজনৈতিক দল। একা লড়ে গেছেন দীর্ঘ এক দশক।

গঙ্গা রক্ষায় ২০১১ সালে ফেব্রুয়ারিতে স্বামী নিগমানন্দ শেষবারের মত আমরণ অনশন আন্দোলন শুরু করেন। ২৭ শে এপ্রিল, অনশনের ৬৮ দিনের মাথায় তাঁকে জোর করে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তি করা হয় হিমালয়ান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে। সেখানে কোন অচেনা ব্যক্তি তাকে ইনজেকশন দেবার নামে শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দেয়।

শরীরে বিষ নিয়েও অনশন আন্দোলন চালিয়ে যান স্বামী নিগমানন্দ। ২০১১, ১৩ জুন মারা যান গঙ্গা রক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ স্বামী নিগমানন্দ। মৃত্যুর কারণ অনশন বলা হয়। সেই সঙ্গে রক্তে পাওয়া যায় বিষ। গঙ্গার ধারে বেআইনি মাইনিং বন্ধ করতে যাদের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন, তাদের ভাড়া করা খুনিই তাকে বিষ দেয় বলে অভিযোগ ছিল।

এই রহস্যজনক মৃত্যুর সেইভাবে কোন তদন্তই হয় নি। তবে গঙ্গা রক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ স্বামী নিগমানন্দ-র আত্মবলিদান পুরোটা বিফলে যায় নি। গঙ্গা দূষণ রোধ না হলেও এই আন্দোলনের জেরে উত্তরাখন্ড সরকার গোটা হরিদ্বার জেলাতেই মাইনিং বন্ধ করে দেয়।

আমরা, ১১১ দিন অনশন করে মৃত্যুবরণ করা শহীদ জি ডি আগরওয়ালকেও চিনি না। আর গঙ্গা রক্ষায় প্রথম শহীদ নিগমানন্দ সরস্বতী বা স্বামী নিগমানন্দ-র নামও শুনি নি। এরা দুজনেই মনে করতেন গঙ্গা নদী ভারতের লাইফলাইন। আর ভারতের লাইফলাইন রক্ষায় নিজেদের লাইফ হেলায় বলিদান দিয়েছেন দুই শহীদ।

]]>
ভারতবাসীর অজান্তেই গঙ্গা বাঁচাতে ১১১ দিনের অনশনে মৃত্যু https://thenewsbangla.com/the-111-day-hunger-strike-for-the-survival-of-the-ganga-activist-g-d-agarwal-is-dead/ Thu, 11 Oct 2018 15:01:39 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1061 নিউ দিল্লি: জানল না ভারতবাসী। দেশবাসীর অজান্তেই গঙ্গা নদী বাঁচাতে আমরণ অনশন করে মৃত্যু বরণ করলেন পরিবেশবিদ জি ডি আগরওয়াল।

মনে করতেন গঙ্গাই ভারতের লাইফলাইন। মনে করতেন, যে কোন কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত গঙ্গাকে দূষণ মুক্ত করা। কিন্তু, জীবনে কোন সরকারই গঙ্গা দূষণ মুক্ত করতে খুব বেশি চেষ্টা করে নি। তাই আই আই টি কানপুরের প্রাক্তন প্রফেসর ও পরিবেশবিদ জি ডি আগারওয়াল এবার মানুষের ও প্রশাসনের ঘুম ভাঙাতে আজীবন অনশন করে প্রাণ ত্যাগ করলেন।

এবছরের জুনের ২২ তারিখ থেকে অনশনে বসেছিলেন জি ডি আগারওয়াল। খাওয়া তো বটেই, শেষের দিকে জল পর্যন্ত স্পর্শ করতেন না তিনি। এযেন সেই স্বাধীনতার আমলের বিপ্লবী যতীন দাসের অনশন করে মৃত্যুর কথা মনে পড়িয়ে দেয়। ১১১ দিন অনশনের পর মারা গেলেন ৮৭ বছর বয়সী জি ডি আগরওয়াল।

গঙ্গা নদী পরিষ্কার ও গঙ্গার ধারে হাইড্রোইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট তৈরি না করতে দেবার দাবি নিয়ে জুনের ২২ তারিখ থেকে অনশনে বসেছিলেন তিনি। জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য গঙ্গার জন্য নিজের জীবনটাই আহুতি দিলেন।

কানপুর আই আই টি ছাড়াও তিনি বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছিলেন। জি ডি আগরওয়াল পরবর্তী জীবনে নিজের নাম নিয়েছিলেন স্বামী জ্ঞানস্বরূপ স্বানন্দ। আজীবন পরিবেশ ও বিশেষ করে গঙ্গা দূষণ রোধে লড়াই করে গেছেন। ঋষিকেশের AIIMS হাসপাতালে বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই একটা লড়াই ও একটা যুগের শেষ হল বলাই যায়।

হরিদ্দারের মাতৃসদন আশ্রম থেকে তিনি তাঁর আমরণ অনশন আন্দোলন শুরু করেন। মাঝে তাঁকে অনশনের জায়গা থেকে তুলে নিয়ে যাবার অনেক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের সব চেষ্টা ব্যর্থ করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গঙ্গার জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিলেন জি ডি আগরওয়াল।

আজীবন গঙ্গা দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। ২০১২ সালেও তিনি এই ধরণের অনশন আন্দোলনে বসেছিলেন। জি ডি আগারওয়াল কে বলা হত গঙ্গা ক্রুসেডার। সেই মতোই নিজের জীবন দিলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সরকারের টনক নড়াতে আজীবন লড়াই করে গেছেন। সচেতন করার চেষ্টা করেছেন আমজনতাকে।এরপরেও সরকারের চৈতন্য হবে কি ? জি ডি আগরওয়ালের মৃত্যু কি সচেতন করবে সাধারণ মানুষকে ? প্রশ্নটা সেখানেই। সচেতন হওয়া তো অনেক দূরের ব্যপার। সাধারণ মানুষ কি আদৌ জানতে পারবেন, গঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করতেও কেউ প্রাণ দিয়েছে ? প্রশ্নটা সেখানেই।

]]>