Eelection in West Bengal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Mon, 11 Mar 2019 11:24:25 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Eelection in West Bengal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন ৭ দফা ভোটে সুবিধা বিজেপির https://thenewsbangla.com/bjp-gets-benefit-from-unprecedented-seven-phase-election-in-west-bengal/ Mon, 11 Mar 2019 09:06:52 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=8076 অবশেষে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। নজিরবিহীন ভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার লোকসভা নির্বাচন সাত দফায় হবে। ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে ৭ দফায় অথচ তামিলনাডুতে ৩৯টি লোকসভা আসনে নির্বাচন হবে মাত্র এক দফায়। মোদীর রাজ্য গুজরাটে ২৬টি আসনে ভোট এক দফায়। কেন এরকম? একটু বিশ্লেষণে আসা যাক।

আরও পড়ুনঃ সপ্তদশ লোকসভা ভোট ৭ দফায়, দেখে নিন কবে কোথায় কত আসনে ভোট

বিজেপি মনে করছে তারা এবার লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কয়েকটা আসন পেতে পারে। সেগুলোর মধ্যে আছে কোচবিহার, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট, উত্তর মালদা, বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, বনগাঁ, জয়নগর, আসানসোল, হাওড়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম।

আরও পড়ুনঃ সুব্রত বক্সির বদলে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রথমেই আসি প্রথম দফার ভোটে। মাত্র দুটি কেন্দ্রে ভোট হবে, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার। আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে প্রথমে কিছু সম্ভাবনা থাকলেও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এবং আদিবাসি বিকাশ সমিতি দুপক্ষই বিজেপির বিপক্ষে বর্তমানে থাকায় আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র নিয়ে তারা আশাবাদি নয়। কিন্তু কোচবিহার কেন্দ্রে তৃণমূল ও যুব তৃণমূলের দ্বন্দ্বের সুযোগ নিতে চাইছে। তাই প্রথম পর্যায়ে শুধু ওই দুই কেন্দ্রে ভোট, যাতে বিজেপি কোচবিহারের ওপর নিজেদের সকল শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ৭ দফায় লোকসভা ভোট শুরু ১১ এপ্রিল, ভোট গণনা ২৩ মে

দ্বিতীয় দফায় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ কেন্দ্রের ভোট। দার্জিলিং গত ২০১৪-র নির্বাচনে জিতলেও এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই আসন ধরে রাখা খুব কঠিন। জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে বামেরা কিছুটা হলেও শক্তিশালী। ফলে সেখানে দাঁত ফোটাতে পারলেও জেতা কঠিন। বাকি রইল রায়গঞ্জ। দাড়িভিট কান্ডের পর সেখানে বিজেপি পায়ের নিচে কিছুটা হলেও মাটি শক্ত করেছে। তার সঙ্গে আছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর সিপিএম-কংগ্রেসের অন্তর্নীহিত লড়াই। সব মিলিয়ে এই দফায় বিজেপি পাখির চোখ করছে রায়গঞ্জকে।

আরও পড়ুনঃ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে চোখে সর্ষে ফুল রাজ্য বিজেপির, প্রার্থীর খোঁজে বৈঠক দিল্লিতে

তৃতীয় দফায় আছে মালদা উত্তর, মালদা দক্ষিণ, বালুরঘাট, জঙ্গীপুর, মুর্শিদাবাদ। মৌসম বেনজির নুর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার মালদা উত্তর কেন্দ্রে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে যে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে তাকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। যদি ভোট ভাগাভাগিতে তাদের শিকে ছেঁড়ে। বালুরঘাট কেন্দ্রে ভোট মেরুকরণের মাধ্যমে জেতার একটা সম্ভাবনা আছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন।

বিশেষত, সূত্রের খবর অনুযায়ী এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেকে আবেদন করেছেন। সেই কারণে এই কেন্দ্রটি নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বিশেষ আশাবাদী। আবার মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে প্রার্থী নির্বাচনে সিপিএম-কংগ্রেস দড়ি টানাটানির কারণেও ভোট ভাগের রাজনীতিতে বিজেপি বিশ্বাস করছে।

আরও পড়ুনঃ এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের অ্যাসিড আক্রান্তরা

চতুর্থ দফার নির্বাচনে আছে বহরমপুর, রাণাঘাট, কৃষ্ণনগর, বর্ধমান, বর্ধমান-দুর্গাপুর, আসানসোল, বোলপুর ও বীরভূম। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের দিকে বিজেপির নেতৃত্বের সব থেকে বেশি নজর। প্রথমত এখান থেকে বিজেপি প্রথম লোকসভা আসন জিতেছিল জুলু মুখার্জির নেতৃত্বে, যার প্রভাব আজও আছে।

জুলু মুখার্জির ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মা আজও অব্যাহত। আসানসোল ২০১৪-র নির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয়র জেতা আসন। তাই বিজেপি এই আসন ধরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করবে। আবার বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে অবাঙ্গালি ভোটারকে কাজের লাগিয়ে এবং মেরুকরণের মাধ্যমে জেতার চেষ্টা করবে বিজেপি। তাই এই দফায় এই তিনটে আসন বিজেপির নেতৃত্বের পাখির চোখ।

আরও পড়ুনঃ ডিএ মামলায় হাইকোর্টে ফের মুখ পুড়ল রাজ্য সরকারের

পঞ্চম দফায় ভোট আছে বনগাঁ, ব্যারাকপুর, হাওড়া, উলুবেড়িয়া, আরামবাগ, শ্রীরামপুর, হুগলী। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে বিজেপি নেতৃত্ব আশাবাদী বনগাঁ, হাওড়া ও শ্রীরামপুর কেন্দ্র নিয়ে। মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রয়াত বড়মা বীণাপাণি দেবীর মৃত্যুর আগে নরেন্দ্র মোদীর তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন।

বড়মার মৃত্যুর পরে ঠাকুরবাড়ির মতদ্বন্দ্ব ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, বিজেপি শান্তনু ঠাকুরকে সামনে রেখে আশার আলো দেখার চেষ্টা করছে। যদিও ভোটের বাক্সয় তাঁর প্রতিফলন কতটা পরবে সেটা সময় বলবে। হাওড়া এবং হুগলির শ্রীরামপুরে মূলত অবাঙ্গালী ভোটের ওপর বিজেপি ভরসা রাখছে। তাই এই দফায় এই তিন কেন্দ্রের ওপরই বিজেপি নেতৃত্বের মূল নজর।

আরও পড়ুনঃ বাংলার কোন লোকসভা আসনে কবে ভোট দেখে নিন

ষষ্ট দফায় ভোট হবে তমলুক, কাথি, ঘাটাল, মেদিনীপুর, ঝাড়্গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে। শুভেন্দু অধিকারীর খাস তালুক নিয়ে খুব একটা আশাবাদী না হলেও বিগত পঞ্চায়েত ভোটের প্রাপ্ত সাফল্যের নিরিখে বিজেপি পাখির চোখ করতে চায় পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামকে। যেহেতু এখানে বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি আসন বিজেপি দখল করেছিল, তাই এই দফায় তাদের পাখির চোখ এই তিনটি লোকসভা আসন

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে বিমানহানার প্রমাণ সরকারের হাতে, বাকি সব গুজব

সপ্তম দফায় ভোট হবে দমদম, বারাসাত, বসিরহাট, যাদবপুর, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, কলকাতা উত্তর ও কলকাতা দক্ষিণ। এই কেন্দ্র গুলির মধ্যে দমদম, বারাসাত ও যাদবপুর মূলত ওপর বাংলা থেকে আসা হিন্দু শরনার্থীদের বাসস্থান, যাদের মধ্যে দেশভাগের জিগির তুলে বিজেপি ভোট বাড়ানোর চেষ্টা করবে। জয়নগরে ক্ষয়িষ্ণু এসইউসি এবং সিপিএম-এর ভোট ভাঙ্গিয়ে বিজেপি জেতার নেশায় মশগুল। কলকাতা উত্তর আসনে আবারও অবাঙ্গালী ভোটের ওপর বিজেপি ভরসা রাখছে, যেখানে কলকাতা পুরসভায় তাদের দুজন কাউন্সিলরই এই এলাকা থেকে নির্বাচিত।

আরও পড়ুনঃ রায়গঞ্জ মুর্শিদাবাদ সিপিএম কে ছেড়ে বাংলায় আসন রফা কংগ্রেসের

তাই সব মিলিয়ে এমন ভাবেই এবারের সাতটি দফা নির্বাচন কমিশন ঠিক করেছে, যাতে কোন না কোন আসনে বিজেপির জেতার সম্ভাবনা আছে এবং সেক্ষেত্রে ঐ দফার বাকি আসন ছেড়ে ওই আসনগুলির ওপর জোর দিতে পারে কর্মী সমর্থক ও নেতারা। কম লোকবল নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে লড়তে ৭ দফাতে ভোটেই নিজেদের সবচেয়ে বেশি লাভ দেখছে বিজেপি। ২৩ মে বোঝা যাবে যে ৭ দফার ভোটে বিজেপির কতটা লাভ হল।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>