Eastbengal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Tue, 09 Oct 2018 12:02:30 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Eastbengal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 টুটু বসুর বাঙাল প্রীতিতে বিপাকে সবুজমেরুন সমর্থককূল https://thenewsbangla.com/after-tutu-boses-comment-on-bangal-mohunbagan-fans-are-in-awkward-situation/ Tue, 09 Oct 2018 11:38:01 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=932 শান্তনু সরস্বতী, কলকাতা: পিতৃতর্পণের দিনে ক্লাবের সর্বেসর্বা, সদ্য নির্বাচিত সচিব স্বপনসাধন বসু বা টুটু বসুর বাঙালবন্দনায় বেশ বিপাকে গঙ্গাপাড়ের মোহনবাগান ক্লাবের সমর্থকরা।

মহালয়ার দিন নিজের দলের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহনবাগান সচিব বলেন, “ঘটিরা অলস জাতি। নিজেদের পূর্বপুরুষের দাক্ষিণ্যে কলকাতা শহরে দুই-তিনটে বাড়ির মালিক হয়ে যাওয়ায় ঘটিরা আর বাঙাল জাতির মতো পরিশ্রমী নয়। বসে খেতে ভাল বাসে। লড়াই করার সৎসাহসটুকুও নেই তাঁদের মধ্যে। বাঙালরা জানে কী ভাবে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে হয়”।

টুটুবাবু আরও বলেন যে, “বাঙালরাই জানে কী ভাবে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে তা আদায় করে নিতে হয়। বাঙালদের জাত্যাভিমান প্রশংসনীয়। ওদের দেখে ঘটিদের শেখা উচিত”।

ক্লাবের সদ্য নির্বাচিত সচিবের এমন বাঙাল-বন্দনায় একরকম বিপাকেই পড়ে গিয়েছে মোহনবাগান সমর্থককূল। একে স্পনসর সমস্যায় দীর্ণ মোহনবাগান অর্থাভাবে এখনও দুজন বিদেশির কোটা পূরণ করতে পারেনি, তার ওপর ক্লাব সচিবের এমন বক্তব্য একেবারে ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে সবুজ মেরুন জার্সি প্রেমীদের।

Image Source: Google Image

সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন মোহনবাগান সমর্থক তাঁদের ফেসবুক গ্রুপে ক্লাব সচিবের এমন বক্তব্যের নিন্দা করতেও ছাড়েনি। তাঁদের বক্তব্য: “সামনে আই লিগ। একেতেই প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল কোয়েস কর্পের মতো কোম্পানিকে স্পনসর হিসেবে পেয়ে আমূল পরিবর্তন করে ফেলেছে দলের। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিটি বিদেশি ফুটবলার বেশ উচ্চমানের। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্তা ও রিয়েল মাদ্রিদ বি দলের প্রাক্তন ডিফেন্ডার বোরখা গোমেজ পেরেজ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মোহনবাগান সমর্থকদের বক্তব্য, “প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল যখন মালয়েশিয়ায় গিয়ে অনুশীলন করছে, মোহনবাগান ক্লাব কর্তৃপক্ষ তখন ব্যস্ত নির্বাচন নিয়ে।এতে দলের ফুটবলারদের মনোভাব তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। তার ওপর ক্লাব সচিবের অমন বাঙাল-প্রেম ইস্টবেঙ্গলীদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে।”

কোনও কোনও ইস্টবেঙ্গল সমর্থক আবার বিষয়টিকে অন্য চোখে দেখছেন। এক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক তাঁর ফেসবুক দেওয়ালে লিখেছেন, “টুটু বসু ঘটিদের, বাঙালদের মত হতে বলে শুধু মোহনবাগান সমর্থকদের ছোট করেননি, অনেক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদেরও অপমান করেছেন। অনেক ঘটি কিংবা এদেশীয় মানুষ আছেন যাঁরা ইস্টবেঙ্গলকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। সমর্থন করেন। এটাও ভুলে গেলে চলবে না। সব ঘটিরা যেমন অলস নয়, আবার কিছু বাঙাল আছে যাঁরা মোহনবাগানের সমর্থক হওয়ার ফলে অলস।”

টুটু বসুর প্যানেল সদস্যরা অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁরা মনে করেন, আপামর ফুটবলপ্রেমী মানুষ জানেন, উনি ভীষণই আবেগপ্রবণ একজন মানুষ। সহজ কথা সহজে বলতে পারেন। সরল কথা সরলভাবেই আবেগের বশে বলে ফেলেন।

কাউকে আঘাত করা বা অপমানিত করা ওঁর উদ্দেশ্য নয়। ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে সকলের আগে যে বাঙালি এগিয়ে আসেন সব সময়, তাঁর নাম স্বপনসাধন বসু। আর আবেগ আছে বলেই এখনও ফুটবলকে ভালবাসেন উনি। আবেগছাড়া ফুটবলকে ভালবাসা যায় না কি !

তবে টুটু বসুর কথায় যে আপামর ‘বাঙাল’ ইস্টবেঙ্গল ফ্যানরা যে দারুন মজা পেয়েছেন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই সুযোগে বাগান ফ্যানদের পিছনে লাগার সুযোগও হাতছাড়া করছেন না তারা। হাতে যে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন স্বয়ং টুটু বসু।

]]>