Durga Pujo – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sat, 27 Oct 2018 15:20:13 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Durga Pujo – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 দেশ ও বিশ্বের কাছে বাংলার দুর্গাপুজোকে তুলে ধরার কার্নিভাল https://thenewsbangla.com/red-road-carnival-to-promote-the-durga-puja-of-bengal-to-the-country-and-the-world/ Tue, 23 Oct 2018 09:05:01 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1358 নিজস্ব সংবাদদাতা : মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ রেড রোডে শুরু হবে এই বছরের দুর্গা পুজো কার্নিভাল। এবার ৭২টি পুজোর দুর্গাপ্রতিমাকে নিয়ে শোভাযাত্রা বেরোবে রেড রোডে। মেগা শো ঘিরে প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে জোরকদমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দেশ ও বিশ্বের দরবারে বাংলার সেরা উৎসবকে তুলে ধরার জন্যই এই প্রয়াস।

তৃতীয় বছরে পা দিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুরু করা এই কার্নিভাল। ইতিমধ্যেই কার্নিভালের তৃতীয় বছরের অনুষ্ঠান উদযাপন ঘিরে তুঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ বছর বহু বিদেশি পর্যটক আসবেন। বিভিন্ন দূতাবাস থেকেও কার্নিভাল দেখতে চেয়ে অনুরোধ এসেছিল। ‘‌পাস’ও চেয়েছিলেন তাঁরা। স্বভাবতই পুজো শেষে পুজো দেখা ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে মানুষের।

রেড রোডের দু’‌পাশেই সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে মঞ্চ। বসানো হয়েছে ক্লোজড সার্কিট টিভি। কলকাতা পুলিসের ডগ স্কোয়াড এবং অ্যান্টি স্যাবট্যাজ বাহিনীর কর্মীরা কার্নিভাল রা‌স্তার যে অংশে হবে, সেখানে ঘনঘন নিরাপত্তা দেখছেন। বস্তুত, গোটা রেড রোডই চলে এসেছে সুরক্ষাবলয়ে।

জানা গেছে, প্রায় ২০০০ এর বেশি পুলিসকর্মী কার্নিভালের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। পর্যটন দপ্তর থেকে এ বছরই প্রথম ‘‌এগজিকিউটিভ ক্লাস’‌–‌এর জন্য ঠাকুর দেখা, অভিজাত রেস্তোরাঁয় খাওয়া, বনেদি বাড়ির পুজো উপভোগ করার ব্যবস্থা হয়েছিল। এই প্যাকেজের সঙ্গেই রয়েছে কার্নিভাল দেখার বিশেষ ছাড়পত্র।

রেড রোডের দু’‌পাশে এবার ২০ হাজার দর্শক দেখবেন কার্নিভাল। এছাড়াও বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১৫০০ আসন সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। ৭৫টি পুজো কমিটি অংশ নিচ্ছে। রাজবাড়ির অলিন্দের আদলে তৈরি হয়েছে মূল মঞ্চ। এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি–‌সহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা বসবেন। এই মঞ্চে প্রায় ৯০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

ভিআইপিদের জন্য আলাদা মঞ্চের ব্যবস্থা হয়েছে। আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে রেড রোড। থাকবে জায়ান্ট স্ক্রিন। টিভিতে সম্প্রচার হবে সরাসরি।
কার্নিভাল উপলক্ষে রেড রোডে যান নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার সকাল থেকেই। কার্নিভাল শেষ হয়ে গেলে মঙ্গলবার রাত থেকেই রেড রোড খুলে দেওয়া হবে, বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

কার্নিভাল ঘিরে যাতে কোনও অবাঞ্ছিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং গোয়েন্দা পুলিসের একটি বিশেষ দল রেড রোডের দু’‌পাশে নজরদারি চালাচ্ছে। প্রতিটি পুজো কমিটি দেড় মিনিট করে সময় পাবেন। আগে থেকেই প্রতিটি পুজো কমিটিকে বলা হয়েছে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রতিমা এবং যাঁরা যাঁরা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, তাঁদের তৈরি থাকতে।

শোভাযাত্রা শুরু হলেই প্রতিটি প্রতিমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির সদস্যরা গঙ্গার দিকে চলে যাবেন, যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়। ভারতের সেরা উৎসব ও বিশ্বের সেরা উৎসব হিসাবে দুর্গা পুজোকে তুলে ধরতেই এই কার্নিভালের আয়োজনকে দেখা হচ্ছে।

]]>
সুপ্রিম কোর্টেও জিত মমতার, পুজো অনুদানে কোন আসুবিধা নেই https://thenewsbangla.com/victory-for-mamata-banerjee-in-the-supreme-court-mamata-pujo-grant-is-legal/ Fri, 12 Oct 2018 07:04:58 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1082 নিজস্ব সংবাদদাতা: পুজো ও লোকসভা ভোটের আগে বড় জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের। কলকাতা হাইকোর্টের পর এবার সুপ্রিম কোর্টেও জিত মমতার। পুজোর অনুদান নিয়ে হাইকোর্টের রায়কেই মান্যতা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের ডিভিশন বেঞ্চ মুখ বন্ধ করে দিল বিরোধীদের।

মমতার পুজো অনুদান সিদ্ধান্তে কলকাতা হাইকোর্ট এর রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল ‘দুর্গা পুজো অনুদান’ সংক্রান্ত মামলা। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি জানিয়ে এই মামলা করা হয়। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে, ৬ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এই অভিযোগ নিয়ে আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

কলকাতা হাইকোর্ট পুজোর আগে স্বস্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্ট রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো অনুদান সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করে নি। পুজো উদ্যোক্তাদের অনুদানের সরকারি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

সেপ্টেম্বর মাসে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসই-র সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সরকারি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিটি পুজোকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ওই বৈঠকে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কলকাতার ৩ হাজার সহ রাজ্যের ২৫ হাজার দুর্গা পুজোকে রাজ্য সরকারের তরফে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। খরচ হবে ২৮ কোটি টাকা।

জনগণের করের টাকা এ ভাবে অনুদান হিসাবে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে দুদিন পরপর স্থগিতাদেশ দিলেও, গত বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়ে দেয়, ক্লাবকে পুজো অনুদানের বিষয়টি আদালত গ্রাহ্য নয়।

রাজ্যের উন্নয়নে খরচা না করে কেন ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় ওই জনস্বার্থ মামলায়। ওই জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোয় বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অনুদান দিলে তা দেশের সংবিধানকে আঘাত করে। কারণ, বিশেষ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এমন অনুদান দিয়ে উৎসাহিত করা সংবিধান-বিরোধী।

কিন্তু গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনসভার সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাবে না। ওই বিষয়টি দেখার জন্য পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রয়েছে। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, সেই বিষয়টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি দেখবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে পুজোর আগে ও লোকসভা ভোটের আগে স্বস্তিতে রাখে রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্টের এই রায়ের ওপরই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছিল শীর্ষ আদালতের কাছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা যাওয়ার কথা আগেই অনুমান করে রাত জেগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অনুদানের চেক বিলি শুরু করে রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের রায়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই অনুদানের টাকা দেওয়া শুরু হয়ে যায়। বুধবার রাতেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বর্ধমান ও হুগলিতেও বেশ কিছু পুজো কমিটিকে অনুদানের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর, আপাতত পুজো নিয়ে বিতর্ক চাপা পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি হাঁফ ছেড়ে বাঁচল পুজো উদ্যোক্তারাও। এই রায়ে পুজো ও লোকসভা ভোটের আগে বড় জয় পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

]]>
সুপ্রিম কোর্টে গেল মমতার পুজো অনুদানের বিরুদ্ধে মামলা https://thenewsbangla.com/the-case-against-mamata-pujo-donation-went-to-the-supreme-court/ Thu, 11 Oct 2018 10:21:08 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1029 নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতা হাইকোর্ট এর রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে গেল ‘দুর্গা পুজো অনুদান’ সংক্রান্ত মামলা। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হবে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি জানিয়ে এই মামলা করা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্ট পুজোর আগে স্বস্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্ট রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো অনুদান সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করে নি। পুজো উদ্যোক্তাদের অনুদানের সরকারি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

গত শুক্রবার, রাজ্যের ২৮ হাজার দুর্গাপুজোয় ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কথা ঘোষণাও করে। মঙ্গলবারও কলকাতা হাইকোর্ট পুজোয় অনুদান সংক্রান্ত মামলায় স্থগিতাদেশ বহাল রাখে। শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত মান্যতা পাবে কিনা তাই নিয়ে রয়ে যায় ধোঁয়াশা।

কিন্তু বুধবার, রাজ্য সরকারকে স্বস্তি দেয় হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, পুজোর অনুদান সংক্রান্ত ব্যাপারে নাক গলাবে না তারা। পুজোর মুখে রাজ্যকে স্বস্তি দিয়ে এই রায় দেয়, প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।

সেপ্টেম্বর মাসে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসই-র সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সরকারি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিটি পুজোকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কলকাতার ৩ হাজার সহ রাজ্যের ২৫ হাজার দুর্গা পুজোকে রাজ্য সরকারের তরফে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। খরচ হবে 28 কোটি টাকা।

জনগণের করের টাকা এ ভাবে অনুদান হিসাবে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে দুদিন পরপর স্থগিতাদেশ দিলেও কিন্তু বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়ে দিল, ক্লাবকে পুজো অনুদানের বিষয়টি আদালতগ্রাহ্য নয়।

রাজ্যের উন্নয়নে খরচা না করে কেন ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় ওই জনস্বার্থ মামলায়। ওই জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোয় বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অনুদান দিলে তা দেশের সংবিধানকে আঘাত করে। কারণ, বিশেষ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এমন অনুদান দিয়ে উৎসাহিত করা সংবিধান-বিরোধী।

কিন্তু গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনসভার সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাবে না। ওই বিষয়টি দেখার জন্য পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রয়েছে। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, সেই বিষয়টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি দেখবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে পুজোর আগে ও লোকসভা ভোটের আগে স্বস্তিতে রাখে রাজ্য সরকারকে। মমতার ঘোষণা করা ২৮ হাজার পুজোর ১০ হাজার করে প্রাপ্তিও এই রায়ের পর আর আটকাবে না যদি না সুপ্রিম কোর্ট কোন স্থগিতাদেশ না দেয়। হাইকোর্টের রায়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা যাওয়ার কথা আগেই অনুমান করে রাত জেগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অনুদানের চেক বিলি শুরু করল রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের রায়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই অনুদানের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। বুধবার রাতেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বর্ধমান ও হুগলিতেও বেশ কিছু পুজো কমিটিকে অনুদানের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

]]>
পুজো অনুদানে মমতার সিদ্ধান্তে ফের স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের https://thenewsbangla.com/calcutta-high-court-stays-suspension-again-after-mamatas-decision-to-grant-money-to-durga-puja-organisers/ Tue, 09 Oct 2018 13:00:24 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=941 নিজস্ব সংবাদদাতা : ফের কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবারও কলকাতা হাইকোর্ট পুজোয় অনুদান সংক্রান্ত মামলায় স্থগিতাদেশ বহাল রাখল। শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত মান্যতা পাবে কিনা তাই নিয়ে রয়েই গেল ধোঁয়াশা। চারদিন পরেই পুজো শুরু, কিন্তু প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কোন জরুরিকালীন রায় দিল না। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল রাখল। ওইদিন আবার শুনানি হবে।

শুক্রবার, রাজ্যের ২৮ হাজার দুর্গাপুজোয় ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কথা ঘোষণাও করে। তারপর, এদিনও সেই স্থগিতাদেশের সময় বাড়ল।

সেপ্টেম্বর মাসে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসই-র সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সরকারি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিটি পুজোকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ওই বৈঠকে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কলকাতার ৩ হাজার সহ রাজ্যের ২৫ হাজার দুর্গা পুজোকে রাজ্য সরকারের তরফে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। খরচ হবে 28 কোটি টাকা।

জনগণের করের টাকা সরকার এই ভাবে খরচ করতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাম সংগঠন আরএসপি-র নেতা অশোক ঘোষ।

আরএসপি-র শ্রমিক সংগঠন ইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অশোক ঘোষ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই বিষয় নিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠির ভিত্তিতেই জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। সেই মামলার শুনানিতেই গত শুক্রবার প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ ওই স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেয়।

আরএসপি নেতা অশোকবাবু প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে লিখেছিলেন, কোনও ধর্মীয় উৎসব আয়োজনে সরকারি অর্থ দেওয়া সংবিধান লঙ্ঘন করে। ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমন ঘোষণা মেনে নেওয়া যায় না বলেই প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তকে জানিয়েছিলেন তিনি।

রাজ্যের উন্নয়নে খরচা না করে কেন ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় ওই চিঠিতে। সেই চিঠির ভিত্তিতেই এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি শুরু হয়। তারপরেই এই স্থ্যগিতাদেশ জারি করে হাইকোর্ট। এদিন বাড়ল সেই সময়সীমা।

বলা যায়, অশোকের হাতেই আপাততঃ বন্ধ হল মমতার ঘোষণা করা ২৮ হাজার পুজোর ১০ হাজার করে প্রাপ্তি। পুজোর আগে এই নিয়ে হাইকোর্ট রায় দেবে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন। আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের পাশাপাশি গোটা রাজ্যের পূজা উদ্যোক্তারাও তাকিয়ে থাকবেন হাইকোর্টের দিকে।

]]>