durga puja – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 04 Apr 2019 13:51:49 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg durga puja – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 মোদী সরকারের উদ্যোগে ইউনেস্কোর কালচারাল হেরিটেজ সম্মান মনোনয়নে বাংলার দুর্গাপূজা https://thenewsbangla.com/kolkatas-durga-puja-is-nominated-in-unesco-cultural-heritage/ Thu, 04 Apr 2019 12:17:58 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9997 কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গীত ও নাটক একাডেমির উদ্যোগে ২০২০ সালে ইউনেস্কোর কালচারাল হেরিটেজের মুকুট লাভের জন্য মনোনীত হত বাংলার দুর্গাপূজা। আর এই মুকুট পেলে বাংলার দুর্গাপুজো যে পৌঁছে যাবে বিশ্বের দরবারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

দুর্গাপূজা বাঙালির গর্ব, বাংলার অহংকার। প্রতি বছর বাংলার দুর্গাপূজায় সামিল হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ। বিভিন্ন বর্ণ, জাতি, পেশা নির্বিশেষে সকল ধরনের মানুষের অংশগ্রহণ থাকে বাঙালির এই সেরা উৎসবে। তাই দুর্গাপূজা আজ ধর্মীয় উৎসবের সাথে বৃহৎ সামাজিক উৎসবেও পরিনত হয়েছে। আর বাংলা ও বাঙালির এই সেরা উৎসবকে বিশ্বের দরবারে এবার তুলে ধরতে উদ্যোগী হল মোদী সরকার।

কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রনাধীন সঙ্গীত ও নাটক একাডেমির তত্ত্বাবধানে ২০২০ সালের জন্য ইউনেস্কোর কালচারাল হেরিটেজের সম্মান অর্জন করতে চলেছে কলকাতার দুর্গাপূজা। মনোনয়ন পেয়েছে বাংলার দুর্গাপূজা।

সঙ্গীত ও নাটক একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজা পশ্চিমবঙ্গের সেরা উৎসব। শুধুমাত্র কলকাতা অথবা বাংলা নয়, পশ্চিমবঙ্গের বাইরের রাজ্য আসাম, ত্রিপুরা, ওড়িশা সহ সারা ভারতেই বিভিন্ন বড় শহরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাসাদ নগরী বা মিছিল নগরী কলকাতার বনেদি বাড়ি ও রাজ্যের বহু জমিদার বাড়ির দুর্গাপূজা ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। ভারতের বাইরেও বাংলাদেশ সহ বহু দেশে বিভিন্ন বাঙালি সংগঠন দুর্গাপূজা আয়োজন করে থাকে।

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গীত ও নাটক একাডেমির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, দুর্গাপূজার কলকাতা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত কলা প্রদর্শনশালা, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন। এই কয়েকটি দিন কলকাতা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিনত হয়, সাথে সারা দেশ থেকে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রে পরিনত হয় কলকাতা তথা বাংলা। বাংলা ও বাঙালির এই গর্বকেই এবার বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরে সম্মান অর্জনে সচেষ্ট হল কেন্দ্র।

]]>
বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি, মারাত্মক অভিযোগ মমতার https://thenewsbangla.com/modis-bjp-plotting-to-stop-durga-puja-in-bengal-a-serious-allegation-by-mamata-banerjee/ Fri, 11 Jan 2019 15:55:52 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=5499 The News বাংলা: “বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি”, শুক্রবার বারাসতে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আয়কর দফতর কলকাতার দুর্গা পুজো কমিটিগুলিকে নোটিশ দিয়ে ডেকে পাঠানোর প্রসঙ্গ তুলে এই মন্তব্য করেন মমতা।

আরও পড়ুনঃ আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের

শুক্রবার বারাসতে জনসভায় মমতা প্রশ্ন তোলেন, “দুর্গাপুজোয় কারা চাঁদা দেয়”। তিনি জানান, “সাধারণ মানুষ দুর্গা পুজোয় চাঁদা দেয়। সেই টাকায় বাংলায় বড় উৎসব হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলার বড় উৎসব তথা দুর্গাপুজোকে আমরা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছি। আর তাই দুর্গাপুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে বিজেপি সরকার”।

বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি, মারাত্মক অভিযোগ মমতার/The News বাংলা
বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি, মারাত্মক অভিযোগ মমতার/The News বাংলা

কলকাতার ৪০টি পুজো উদ্যোক্তাদের নোটিশ দিয়ে দফতরে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছে আয়কর দফতর। ২ দিন ধরে আয়কর দফতরে হাজিরাও দিয়েছেন কলকাতার বিভিন্ন পুজো আয়োজকরা। এই প্রসঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “ক্লাবগুলো কি লাভ করার জন্য দুর্গাপুজো করে”? তিনি পুজো উদ্যোক্তাদের বলেন, আয়কর দফতর ডাকলে কোনও ক্লাব যেন না যায়। একটা ক্লাবের গায়ে হাত পড়লে আমরা ছেড়ে দেব না।

আরও পড়ুনঃ

ভারতের কৃষকের মেয়ে আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘ভাবনার বিপ্লব’ ভাবনা কস্তুরীর হাত ধরে

দুর্গা পুজো বন্ধ করার চেষ্টা করছে মোদীর বিজেপি। তাই আয়কর দফতরকে বিনা কারণে দুর্গা পূজার পিছনে লাগিয়েছে বলেই অভিযোগ করেন মমতা। তিনি আরও বলেন যে, দুর্গাপুজো বন্ধ করার এই চেষ্টা ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে।

বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি, মারাত্মক অভিযোগ মমতার/The News বাংলা
বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি, মারাত্মক অভিযোগ মমতার/The News বাংলা

মমতা বলেন, বাংলার দুর্গাপুজো যদি বন্ধ করার চেষ্টা হয়, কোনও পুজো উদ্যোক্তার গায়ে যদি হাত পড়ে, তবে তার ফল হবে খুব খারাপ। বাংলার মানুষ, দেশের মানুষ মোদীবাবু বিজেপিবাবুদের ছাড়বে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে।

আরও পড়ুনঃ

সিবিআই থেকে দমকলে বদলি, প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন আইপিএস

ঘুষ নেবার দায়ে সিবিআই হাতে গ্রেফতার হবেন সিবিআই এরই স্পেশ্যাল ডিরেক্টর

নরেন্দ্র মোদী সরকারের ইচ্ছে বহাল, ফের অপসারিত সিবিআই প্রধান

৪০টি বড় পুজোর কর্তারা পেয়েছেন আয়কর দফতরের নোটিশ। কেন কোটি কোটি টাকা আয় ও খরচা করার পরেও এক টাকাও আয়কর দেন না, টিডিএস জমা করেন না পুজো আয়োজকরা, প্রশ্ন আয়কর দফতরের। ২০১৮ সালের পুজোর সব হিসাব নিয়ে আয়কর দফতরে দেখা করার নির্দেশ পান কলকাতার ৪০টি পুজো। দেখাও করেছেন তাঁরা।

আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের/The News বাংলা
আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের/The News বাংলা

তৃণমূলের নেতারা কেউ কেউ আবার এর পিছনে রাজনীতির অঙ্কও দেখছেন। কারণ, কলকাতার প্রধান পুজোগুলির বেশির ভাগেরই উদ্যোক্তা হয় রাজ্যের মন্ত্রী। নয়তো তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা। অনেকের আবার সভাপতি তৃণমূল নেতা মন্ত্রী। তাঁদের চাপে রাখতেও আয়কর দফতর এমন পদক্ষেপ করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুনঃ

অশ্লীল গালাগাল দেবার জন্যই যুবককে নিজেদের ব্যক্তিগত গ্রুপে যোগ করেন নন্দিনী

প্রকাশ্যে গ্রুপ চ্যাট রেকর্ডিং, জেলাশাসকের স্ত্রীর ভাষাও সমান অশ্লীল

শুধু বাংলার দুর্গা পুজোয় কেন নজর দিল আয়কর দফতর, সেই প্রশ্নও তুলছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, ‘মুম্বইয়ের গণেশপুজোয় তো এর থেকে অনেক বেশি খরচা হয়। সেখান থেকে কি কর চাওয়া হয়’? প্রশ্ন তৃণমূল নেতাদের।

পুজোর সঙ্গে তৃণমূল নেতারা সবাই জড়িত, তাই দেশের সব পুজোকে ছেড়ে বাংলার দুর্গা পুজোকে টার্গেট করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের নেতারা। শুক্রবার আরও একধাপ এগিয়ে, ‘বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি’, মারাত্মক অভিযোগ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ

একদিনে বহিষ্কৃত দুই তৃণমূল সাংসদ, দিদিকে ছেড়ে মোদীর দলে আর কে কে

মমতার বাছাইয়ে কারা হবেন বাংলার ৪২টি লোকসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী

ঐতিহাসিক কুম্ভমেলা সম্পর্কে একনজরে সব কিছু জেনে নিন

কুম্ভমেলায় বিশ্বরেকর্ড গড়ল যোগীর রাজ্য, তৈরি হল আস্ত একটা শহর

মোদীর প্রকল্পে আর টাকা দেবেন না মমতা, কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক তলানিতে

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের https://thenewsbangla.com/income-tax-notice-durga-puja-organizers-of-kolkata-are-in-a-big-trouble/ Sat, 05 Jan 2019 06:31:53 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=5256 The News বাংলা, কলকাতা: বেশ চিন্তায় পরেছেন কলকাতার পুজো উদ্যোক্তারা। ডিসেম্বরের শেষে কলকাতার প্রায় ৪০টি বড় পুজোর কর্তারা পেয়েছেন আয়কর দফতরের নোটিশ। কেন কোটি কোটি টাকা আয় ও খরচা করার পরেও এক টাকাও আয়কর দেন না, টিডিএস জমা করেন না পুজো আয়োজকরা, প্রশ্ন আয়কর দফতরের। আগামী ৭ ও ৮ জানুয়ারী সোম ও মঙ্গলবার, ২০১৮ সালের পুজোর সব হিসাব নিয়ে আয়কর দফতরে দেখা করার নির্দেশ পেল কলকাতার ৪০টি পুজো।

রাজ্যের দুর্গাপুজোয় খরচ হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। কলকাতায় এক একটি বড় পুজো কোটি টাকার বেশি খরচা করে। অথচ এক টাকাও আয়কর দেওয়া হয় না। কেন আয়কর দেন না ? কেন টিডিএস কাটেন না? এই সব প্রশ্ন নিয়েই কলকাতার বড় ৪০টি পুজোকে এবার নোটিশ দিল ইনকাম ট্যাক্স। চিঠিতে পুজোর খরচা সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়ে অফিসে এসে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উদ্যোক্তাদের।

আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের/The News বাংলা
আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের/The News বাংলা

জানা গেছে, কলকাতার প্রায় ৪০টি বড় পুজো কমিটিকে নোটিশ ধরিয়েছে আয়কর দফতর। জানুয়ারী মাসের ৭ ও ৮ তারিখের মধ্যে ওই সব পুজো কমিটিগুলির কর্তাদের গত বছরের পুজোর জমা খরচের পুরো হিসেব নিয়ে আয়কর ভবনে দেখা করতে বলা হয়েছে। বেশ কিছু প্রশ্নের ক্লারিফিকেশন চেয়েছে আয়কর দফতর। ডিসেম্বরের শেষেই পুজো উদ্যোক্তারা পেয়েছেন ইনকাম দফতরের নোটিশ। কি কি প্ৰশ্ন এর জবাব চেয়েছে ইনকাম ট্যাক্স দফতর?

মূল প্ৰশ্ন হল, মণ্ডপ শিল্পী বা থিম শিল্পী, প্রতিমা শিল্পী, আলোক শিল্পী, বাজনদার সকলকেই টাকা দেয় পুজো কমিটিগুলি। অথচ প্রদান করা সেই টাকা থেকে টিডিএস বা ট্যাক্স ডিডাকটেড অ্যাট সোর্স কেটে তা আয়কর দফতরের কাছে জমা করে না কোন পুজো উদ্যোক্তাই। কোটি কোটি টাকা আয় ও খরচা হলেও, সোর্স অফ ইনকাম ও খরচা এসবের অডিট করায় না কেউই। কোনো হিসাব আয়কর দফতরে কেন জমা পরে না, কেন পেমেন্ট করা সত্ত্বেও টিডিএস কাটা হয় না, এই সব প্রশ্নের ক্লারিফিকেশন চেয়েছে ইনকাম ট্যাক্স।

আরও পড়ুনঃ

ভোরবেলায় শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি ‘মা দুর্গার’

ফের গরু চোর সন্দেহে খুন, এবার ‘গোরক্ষকের’ নাম মুসলিম মিঁয়া

কংগ্রেস ছেড়ে মমতার ‘মহানায়িকা’ এবার মোদীর বক্স অফিসে

দেশপ্রেম বাড়াতে স্কুলের রোল কলে এবার ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় ভারত’

আয়কর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে রাজ্যে দুর্গাপুজোয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচা হয়েছে। অথচ দু-একটি পুজো উদ্যোক্তা ছাড়া কেউই টিডিএস কেটে ইনকাম ট্যাক্সে জমা দিচ্ছেন না। অথচ ১৯৬১ সালের ইনকাম ট্যাক্স রুলস অনুযায়ী, কাউকে তাঁর কাজের বিনিময়ে কোনও টাকা দেওয়া হলে টিডিএস কাটতে হবে এবং তা আয়কর দফতরে জমা করতে হবে।

আয়কর দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, শিল্পীদের লাখ লাখ টাকা দেওয়া হয় যার টিডিএস আয়করের পাওয়ার কথা কিন্তু একটা টাকাও জমা পরে না। আয়কর কর্তাদের মতে, এখন দুর্গাপূজায় সম্পূর্ণ পেশাদারদের দিয়েই কাজ করানো হয়। সে ক্ষেত্রে খরচের ১০ শতাংশ আয়কর দফতরে জমা পড়ার কথা। কিন্তু কিছুই জমা পরে না।

ইনকাম ট্যাক্স কর্তারা আরও জানাচ্ছেন, রাজ্যে দুর্গাপূজায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচা হয়। কাজ করানো হয় পেশাদের দিয়ে। ১০ শতাংশ টিডিএস বাবদ আয়করে জমা পড়ার কথা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই বিশাল টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আয়কর দফতর। তবে এই ৫ হাজার কোটি টাকার গল্প উড়িয়ে দিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা।

আর এই বিশাল হিসাব দেখেই এবার কোমর বেঁধেছেন আয়কর দফতরের কর্তারা। প্রাথমিক পর্বে নোটিশ পাঠানো হয়েছে কলকাতার প্রায় ৪০টি পুজো উদ্যোক্তাদের। এক আয়কর কর্তা জানিয়েছেন, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার ৪-৫টি পুজো কমিটি ছাড়া টিডিএস কাটা ও তা আয়কর দফতরে জমা করার কথা কেউ ভাবেই না কেউ।

ইনকাম ট্যাক্সের নোটিশ পেয়ে চিন্তার ছায়া পুজো উদ্যোক্তাদের মাথায়। শিল্পীদের পেমেন্ট থেকে ১০ শতাংশ টাকা কাটা যাবে কি? না হলে শিল্পীদের পেমেন্ট দেবার পর আবার টিডিএস দেওয়াটা আরও খরচ সাপেক্ষ ব্যপার। সেটাও বহন করতে হবে পুজো আয়োজকদেরই।

পেশায় আইনজীবি, কাশী বোস লেন পুজো কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা সৌমেন দত্ত জানিয়েছেন, “আমরা নোটিশ পেয়েছি। হিসাব নিয়ে যাব। তবে শুধু শিল্পীদের ক্ষেত্রে টিডিএস কাটা সম্ভব। বাকি তো গ্রাম থেকে গরিব কারিগরেরা এসে কাজ করেন। তাঁদের বেশির ভাগেরই প্যান কার্ড নেই। অনেকের ব্যাংক একাউন্টও নেই। তা ছাড়া এত হিসেব কে রাখবে? পুজো করব, না এ সব করব?”

হাতিবাগান সর্বজনীন এর পুজো উদ্যোক্তা শাশ্বত বাসু বলছেন “আয়কর দেওয়া উচিত, আমরা ট্যাক্স ফাইল করি। কিন্তু টিডিএস আমরা কি করে কাটব?” তিনি আরও জানান তাঁরা টিডিএস কাটলে শিল্পীদের ও বাজনদারদেরও পুজো সংক্রান্ত বিষয়ে ট্যাক্স ফাইল করতে হবে। সেটা কি সম্ভব?

বেশির ভাগ পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, “থিম শিল্পী থেকে বাজনদার বা ডেকরেটর থেকে আলোক শিল্পী, কেউ তো আর টাকা কম নেবেন না। ফলে, টিডিএস-এর টাকা আমাদের উপরেই বর্তাবে। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে”। অনেকেই বলেছেন, “পুজো আয়োজন সমাজসেবার মধ্যে পরে, সেখানে ছাড় পাওয়া উচিত”।

কেউ কেউ আবার এর পিছনে ভোটের বছরে রাজনীতির অঙ্কও দেখছেন। কারণ, কলকাতার প্রধান পুজোগুলির বেশির ভাগেরই উদ্যোক্তা হয় রাজ্যের মন্ত্রী, নয়তো তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা। অনেকের আবার সভাপতি তৃণমূল নেতা মন্ত্রী। তাঁদের চাপে রাখতেও আয়কর দফতর এমন পদক্ষেপ করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

শুধু বাংলার দুর্গা পুজোয় কেন নজর দিল আয়কর দফতর, সেই প্রশ্নও তুলছেন পুজো উদ্যোক্তা ও কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। তাঁর মতে, “মুম্বইয়ের গণেশপুজোয় তো এর থেকে অনেক বেশি জাঁকজমক হয়। সেখান থেকে কি কর চাওয়া হচ্ছে”? দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, তাঁরা টিডিএস কেটে জমা দেন, এই নিয়ে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু পুজোর সঙ্গে বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা কর্মীরা যুক্ত আছেন, তাই এই রাজনৈতিক চক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের।

ঠিক একই কথা বলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ববি হাকিম থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তা ও উত্তর কলকাতার অনেক পুজোর সঙ্গে জড়িত থাকা অতীন ঘোষও। “পুজোর সঙ্গে তৃণমূল নেতারা সবাই জড়িত, তাই দেশের সব পুজোকে ছেড়ে বাংলার দুর্গা পুজোকে টার্গেট কেন্দ্রীয় সরকারের”, অভিযোগ সবার।

উত্তর কলকাতার এক পুজো উদ্যোক্তা আবার বলেছেন, “দিদির দেওয়া ১০ হাজার টাকা অনুদান কেটে নেবার চক্রান্ত করেছে মোদী। তাই এই পদক্ষেপ”। সব মিলিয়ে ২০১৯ এর পুজো প্রস্তুতির শুরুতেই পুজো উদ্যোক্তাদের মাথায় চিন্তার পাহাড় চাপাল আয়কর দফতর। আগামী সোম ও মঙ্গলবারের আয়কর দফতরে হাজিরায় কি হবে সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে মায়ের ভক্তদের।

আরও পড়ুনঃ

শীতের বাংলায় বৃষ্টি আনতে আন্দামান থেকে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’

EXCLUSIVE: সংখ্যালঘুদের ধর্মে সুড়সুড়ি দিয়ে প্রকাশ্যে ভারতের টাকার কালোবাজারি

EXCLUSIVE: নতুন বছরে সুখবর, রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন বকেয়া ডিএ

‘রাম’কে ছেড়ে আসা লক্ষণকে ‘হাতে’ নিয়ে বাংলায় তুলকালাম

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
মায়ের পুজোয় মদ বিক্রিতে রেকর্ড গড়ল মমতার বাংলা https://thenewsbangla.com/mamatas-bangla-records-of-selling-alcohol-in-durga-puja/ Wed, 07 Nov 2018 15:02:27 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2000 কলকাতা: রাজ্যের আবগারি দফতরের হিসেব বলছে, পুজোর মাসে রাজ্য সরকার ১২৭৫ কোটি টাকার মদ বিক্রি করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। আবগারি দফতর তৈরি হওয়ার পর কোনও এক মাসে এত রাজস্ব নাকি আগে কখনও আসেনি। শিল্পবিহীন বাংলায় মদই এখন সরকারের রোজগারের সবচেয়ে বড় রাস্তা।

The News বাংলা

শুরুটা হয়েছিল তারাপীঠে। কৌশিকী অমাবস্যায় মদ বিক্রির রেকর্ড হয়। গত ৩১ অগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ছিল কৌশিকী অমাবস্যা। কৌশিকী অমাবস্যার এক রাতে শুধু তারাপীঠে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়। তবে আবগারি কর্তাদের আশা ছিল, দুর্গাপুজোর মাসে মদের রাজস্ব হাজার কোটি ছাড়াবে।

Image Source: Google

কারণ, অক্টোবরে শুধু মাত্র দুর্গাপুজোই ছিল। অতীত অভিজ্ঞতায় আবগারি কর্তারা দেখেছেন, যে বছর একই মাসে দুর্গা এবং কালীপুজো হয়, সেই মাসে রেকর্ড মদ বিক্রি হয়ে থাকে। তবে কর্তাদের যাবতীয় হিসেব-নিকেশ বদলে দিয়ে এক মাসেই ১২৭৫ কোটির টাকা মদ বিক্রিতে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন ‘মদ’ কর্তারা।

আরও পড়ুনঃ অজানা কাহিনির আড়ালে সিদ্ধপিঠ তারাপীঠের তারা মা

রাজ্যের আবগারি দফতর সূত্রে খবর, সরকার মদের পাইকারি ব্যবসা হাতে নেওয়ার পর রাজস্ব বেড়েই চলেছে। কর্পোরেশন তৈরি হওয়ার পর মাসে গড়ে ৯০০ থেকে ৯৫০ কোটি টাকার মদ বিক্রি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বেভারেজ কর্পোরেশনকে অনেকেই তাই সরকারের ‘লক্ষ্মীর ঝাঁপি’ বলতে শুরু করেছেন।

Image Source: Google

আবগারি দফতরের হিসেব বলছে, অক্টোবরে দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১,২৪,১২,২১৭ লিটার। গত বছর পুজোর তুলনায় ৩০.৯৪ শতাংশ বেশি। বিলিতি মদ বিক্রি হয়েছে ১,২০,০২,৬৪৭ লিটার যা গত বছরের তুলনায় ৫৬.৫৬ শতাংশ বেশি। তবে বিয়ারের বিক্রি ২০ শতাংশ কমেছে, বিয়ার বিক্রি হয়েছে ৪৯,৮৮,১৩৮ লিটার!

আরও পড়ুন: তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে তৃণমূল নেতাদেরই শাস্তির দাবীতে পোস্টার

এক কর্তার আক্ষেপ, ‘‘এর মধ্যে ৩ দিন মদের দোকান বন্ধ না থাকলে আর পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ না থাকলে হয়তো এ বার ১৫০০ কোটির মদ বিক্রি হয়ে যেত। অবশ্য যা হয়েছে তাও সর্বকালীন রেকর্ড।’’ ২ রা অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী, অষ্টমী ও ঈদের দিন মদের দোকান বন্ধ ছিল।

Image Source: Google

আবগারি দফতর জানাচ্ছে, রাজ্যে বরাবর দিশি মদের বিক্রিই বেশি হয়। সামগ্রিক মদ খাওয়ার বিচারে দিশি মদ এবারও বেশি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় বিলিতি মদের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫৭%।

তুলনামূলক ভাবে দিশি মদের বিক্রির হার তেমন মারাত্মক নয়। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাজ্যের মদপ্রেমীরা ক্রমেই বিলিতিতে মজছেন। তবে এ বার পুজোর মাসে বিয়ার বিক্রির হার বেশ কম। কেন? এক আবগারি কর্তার বক্তব্য,‘বিয়ার ছেড়ে অনেকেই হুইস্কি-রাম খাচ্ছেন। তাই বিলিতির বিক্রি প্রচুর বে়ড়েছে। তা ছাড়া বিয়ারের দাম বাড়াও বিক্রি কমার কারণ হতে পারে। এখন গরমও তেমন নেই।’

আরও পড়ুন: নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটে আর পড়াবেন না ‘দেশদ্রোহী’ প্রফেসর

তবে এখানেই শেষ নয়। মা দুর্গার ভক্তদের সঙ্গে এ বার মা কালীর ভক্তদের লড়াই শুরু হয়েছে! আবগারি কর্তাদের আশা, অক্টোবরে পূজার মাসে এসেছে ১২৭৫ কোটি টাকা। নভেম্বরে আছে কালীপূজা, ভাইফোঁটা এবং ছট পুজো। ফলে মদের বাজার চড়াই থাকবে।

Image Source: Google

এখন শুধু দেখার, মা দুর্গাকে হারিয়ে মা কালীর ভক্তরা নভেম্বর মাসে সরকারকে ১২৭৫ কোটি টাকার বেশি আবগারি রাজস্বের জোগান দিতে পারেন কি না। তাতে নবান্নের ভাঁড়ার উপচে পড়বে। মেলা, খেলা, উৎসবে কোনও ভাটার টান থাকবে না বলেই মত প্রশাসনিক কর্তাদের।

পুজোর মরসুমে মদ বিক্রি থেকে রাজস্ব বাড়াতে জেলার আধিকারিকদের নির্দেশই দিয়েছিল রাজ্য আবগারি দফতর। গত ১ অক্টোবর দফতরের তরফে জেলায় জেলায় আবগারি সুপারদের এই নির্দেশ (মেমো নম্বর ০৪ই/১৩-১৪) দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ‘মুসলিম’ নাম বদলে ‘রামরাজ্য’ আনতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

পুজোর মাসের আগে, চলতি আর্থিক বছরে সারা রাজ্যে মদ বিক্রি কিছুটা কম হয়েছিল। তারই জেরে আবগারি খাত থেকে প্রত্যাশা অনুসারে রাজস্ব সংগ্রহ হয়নি। তাই পুজোর সময়ে মদ বিক্রি বাড়িয়ে রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়ার জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে অবৈধ মদ বিক্রি বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছিল। নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, পুজোর সময়ে জেলার আধিকারিকরা ছুটি পাবেন না।

Image Source: Google

নভেম্বরেও মদের বাজার চাঙ্গাই থাকবে বলে মত আবগারি দফতরের। তাই কালীপুজোয় ও ভাইফোঁটায় এই নির্দেশ বহাল থাকছে। আবগারি দফতর সূত্রে খবর, গত আর্থিক বছরে রাজ্য সরকার আবগারি খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছিল। চলতি আর্থিক বছরে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৩২০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: রাহুলের ‘রাফায়েল’ আক্রমণে মোদীর ‘রথ’ গাড্ডায়

দফতরের শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার কাছাকাছি রাজস্ব এসেছিল, যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটাই কম। তবে পুজোর মাসেই সেই লক্ষ্যমাত্রা টপকে গেল রাজ্য।

Image Source: Google

পুজোতেও প্রতিদিন মদের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেয় রাজ্য সরকার। এত দিন পুজোর সময়ে দু’দিন মদের দোকান বন্ধ রাখা ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ বারে সেই নিয়ম শিথিল হয়ে যাওয়ায় মদের কালোবাজারি হয়নি। ক্রেতাদের অতিরিক্ত পয়সা গুনতে হয়নি নেশার জন্য। ফলে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত মদের দোকান থেকে দেদার মদ বিক্রি হয়েছে চারদিনই।

পুজোর প্রথম দিন থেকেই অসুরের ভূমিকায় নামে বৃষ্টি। যার ফলে বহু মানুষই ঘরবন্দি থেকেছেন। আর তাতেও নাকি মদের বিক্রি বেড়েছে। আপাততঃ শিল্পবিহীন রাজ্যে ‘মদশিল্প’ এর জয়জয়কার।

]]>
৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের জমজমাট উৎসব https://thenewsbangla.com/the-4-day-durga-puja-is-now-a-15-day-festival-for-bengal/ Mon, 15 Oct 2018 17:44:11 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1246 বিশেষ রিপোর্ট : দুর্গা পুজো কতদিনের? ১০ বছর আগে হলেও এই প্রশ্নের উত্তর ছিল ৪ দিন। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী। তবে এখন দুর্গাপুজো প্রায় ১৫ দিনের। মহালয়া থেকে দ্বাদশী। যত দিন যাচ্ছে দুর্গাপুজোর সময়ের পরিধি বাড়ছে। ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের মনমাতানো জমজমাট উৎসব।

যত দিন যাচ্ছে, কলকাতার শারোদৎসবও এগোচ্ছে। কয়েক বছর আগেও ষষ্ঠীতে মণ্ডপগুলোয় দেবীদর্শন করা যেতো না। চতুর্থী, পঞ্চমীর আগে তো মণ্ডপে প্রতিমাই ঢুকতো না। ষষ্ঠীর আগে যদিও বা ঢুকতো, ঢাকা থাকতো দুর্গা দুর্গতিনাশিনীর চিন্ময়ী মুখ। ফলে প্রশ্নই উঠতো না দেবীদর্শনের।

যদিও ওই সময় ফাঁকায় ফাঁকায় নামকরা মণ্ডপ আর তাদের চিত্র-বিচিত্র রকমারি আলোর বাহার দেখে, তার বর্ণনা দিয়ে পাড়ার আড্ডায় ‘হিরো’ বনতেন অনেকে। তা সত্ত্বেও পুজোর আগেই পুজোয় মাতায় বেশিরভাগেরই মন সায় দিতো না।

ধীরে ধীরে সময়ের বিবর্তনে কলকাতার সাবেকী ঘরনা পরিবর্তন হতে থাকে থিমে। পঞ্চমী, চতুর্থী, এমনকি তৃতীয়াতেও শুরু হতে থাকে দেবীদর্শন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পুজো উদ্বোধন শুরু করার পর মহালয়া থেকেই এখন পুজো শুরু হচ্ছে। কারণ, মহালয়া থেকেই প্রতিমা উদ্বোধন শুরু করেন তিনি।

আর এ বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে মূলপূজার অনেক আগেই, মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনার আগেই উৎসবে সামিল বাঙালি। কারণ এবার মহালয়ার আগেই উদ্বোধন হয়েছে পুজোর। মহালয়াতেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমেছে মানুষ। ভিড়ও বেড়েছে, বেড়েছে আলোর ছটাও। উৎসবে মাতোয়ারা মানুষ মূল পূজা শুরুর অনেক আগে থেকেই।

ফলে বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এতদিনকার ঐতিহ্য, ধারণা ও মিথ-সবই ভেঙে নতুন ট্রেন্ড গড়ছেন বাঙালিরাই। আগে সপ্তমী থেকে দশমী, চারদিন ও পরে ষষ্ঠী থেকে দশমী- এই পাঁচদিনেও আর বাধা রইল না পূজার আনন্দ-উচ্ছ্বলতা।

ছোট-বড় মণ্ডপে মহালয়ার পর থেকেই মানুষের আনাগোনা, উৎসাহ ও আগ্রহ দেখে বলা যায়, এ বছর থেকে বাঙালির সেরা এ উৎসব ১৫ দিনের! মহালয়া থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত !

কিন্তু কেন এতো আগে থেকে দেবী দর্শনের তাড়া? পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, কলকাতায় এখন আর সেই একই ধরনের প্রতিমা বা সেই মান্ধাতা আমলের মতো মণ্ডপ তৈরি হয় না। সবকিছুর মধ্যে আধুনিকতা ও শিল্পের ছোঁয়া লেগেছে।

সারা কলকাতায় ৩ হাজার পুজোর মধ্যে অন্ততঃ ৫০০ মতো পুজোর চিন্তাধারা ভিন্ন। কারোর সঙ্গে কারো মিল নেই। অসাধারণ কিছু শিল্পকর্ম দেখা যায় এই ৫০০ পুজোয়। আরও কম করলে, উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে অন্ততঃ ১০০ পুজো হয় দেখার মত। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ।

এরপর যোগ হয়েছে সল্ট লেক। শেষ কয়েক বছরে কলকাতা পুরসভার পুজোগুলোকে রীতিমত লড়াই দিচ্ছে সল্টলেকের বেশ কিছু ব্লকের পুজো। এসব কি মিস করা যায়?

তাই মহালয়া থেকে যদি কিছুটা আগেভাগেই উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য কলকাতা, সল্টলেক প্রভৃতি এলাকার ঠাকুর দর্শন সেরে ফেলা যায় ! তাহলে পূজায় তুঙ্গে থাকা ওই চারটে দিনে ভিড়ের অত্যাচার সহ্য করতে হবে না।

ওই সময়টা পাড়ায় বা আত্মীয় বাড়িতে নিজের মতো করে কটা দিন কাটানো যাবে। তবে যে বা যারা যাই যুক্তি দিক না কেন, মহালয়া থেকে দেবীদর্শনে নেমে এ বছর পূজার আগেই উৎসব শুরু করে দিয়েছে কলকাতাবাসী।

আর তাতে, ৪ দিনের সেই পুজো এখন রীতিমতো ১৫ দিনের উৎসব। এরপর রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা পুরস্কার পেলে রেড রোডে ঠাকুর নিয়ে শোভাযাত্রা আছে, তারপর তো বিসর্জন। সবমিলিয়ে ৪ দিনের দুর্গাপূজা সময়ের পরিধি বাড়াতে বাড়াতে এখন ১৫ দিনের উৎসবে রূপ নিয়েছে।

]]>
কি হবে দুর্গাপুজো অনুদানে, সবার নজর সুপ্রিম কোর্টে https://thenewsbangla.com/what-will-be-the-durga-pujo-donation-case-all-the-attention-is-in-the-supreme-court/ Fri, 12 Oct 2018 03:48:51 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1073 নিজস্ব সংবাদদাতা: সাড়ে ১১ টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে উঠছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পুজো অনুদান সংক্রান্ত মামলা। তবে, ইতিমধ্যেই অনুদানের ১০ হাজার টাকা পেয়ে গিয়েছেন কলকাতা সহ রাজ্যের অনেক পুজো উদ্যোক্তারা। এই মুহূর্তে সবার নজর এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে, প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের দিকে।

কলকাতা হাইকোর্ট- এর রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্টে যায় ‘দুর্গা পুজো অনুদান’ সংক্রান্ত মামলা। শুক্রবার, দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হবে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি জানিয়ে এই মামলা করা হয়েছে। জরুরিকালীন ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি হবে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর ডিভিশন বেঞ্চে।

কলকাতা হাইকোর্ট পুজোর আগে স্বস্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্ট, রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো অনুদান সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করে নি। পুজো উদ্যোক্তাদের অনুদানের সরকারি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

গত শুক্রবার, রাজ্যের ২৮ হাজার দুর্গাপুজোয় ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কথা ঘোষণাও করে।
মঙ্গলবারও কলকাতা হাইকোর্ট পুজোয় অনুদান সংক্রান্ত মামলায় স্থগিতাদেশ বহাল রাখে। শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত মান্যতা পাবে কিনা তাই নিয়ে রয়ে যায় ধোঁয়াশা।

কিন্তু বুধবার, রাজ্য সরকারকে স্বস্তি দেয় হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, পুজোর অনুদান সংক্রান্ত ব্যাপারে নাক গলাবে না তারা। পুজোর মুখে রাজ্যকে স্বস্তি দিয়ে এই রায় দেয়, প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।

সেপ্টেম্বর মাসে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসই-র সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সরকারি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিটি পুজোকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ওই বৈঠকে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কলকাতার ৩ হাজার সহ রাজ্যের ২৫ হাজার দুর্গা পুজোকে রাজ্য সরকারের তরফে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। খরচ হবে 28 কোটি টাকা।

জনগণের করের টাকা এ ভাবে অনুদান হিসাবে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে দুদিন পরপর স্থগিতাদেশ দিলেও কিন্তু গত বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়ে দিল, ক্লাবকে পুজো অনুদানের বিষয়টি আদালতগ্রাহ্য নয়।

রাজ্যের উন্নয়নে খরচা না করে কেন ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় ওই জনস্বার্থ মামলায়। ওই জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোয় বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অনুদান দিলে তা দেশের সংবিধানকে আঘাত করে। কারণ, বিশেষ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এমন অনুদান দিয়ে উৎসাহিত করা সংবিধান-বিরোধী।

কিন্তু গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনসভার সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাবে না। ওই বিষয়টি দেখার জন্য পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রয়েছে। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, সেই বিষয়টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি দেখবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে পুজোর আগে ও লোকসভা ভোটের আগে স্বস্তিতে রাখে রাজ্য সরকারকে। মমতার ঘোষণা করা ২৮ হাজার পুজোর ১০ হাজার করে প্রাপ্তিও এই রায়ের পর আর আটকাবে না যদি না সুপ্রিম কোর্ট কোন স্থগিতাদেশ না দেয়। হাইকোর্টের রায়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা যাওয়ার কথা আগেই অনুমান করে গত ২ দিনে রাত জেগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অনুদানের চেক বিলি শুরু করল রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের রায়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই অনুদানের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার সন্ধে থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়া শুরু হয়। অন্যদিকে, কলকাতাতেও বেশ কিছু পুজো কমিটিকে অনুদানের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্টে মামলায় কি হবে এই আশঙ্কায় কলকাতার বহু পুজো কমিটি বৃহস্পতিবারই অনুদানের টাকা নিয়ে নিয়েছে। আদালতের রায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গেলে এইসব অনুদানের টাকা কি আবার ফেরত নেওয়া হবে? প্রশ্ন উঠছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই নিয়ে কি রায় দেয় সেটাই এখন দেখার।

]]>
দিক বদলে বাংলায় ঢুকছে তিতলি, দুর্গাপুজোয় আশঙ্কার ছায়া https://thenewsbangla.com/cyclone-titali-is-on-the-way-to-bengal-feared-rain-in-durga-puja/ Thu, 11 Oct 2018 10:41:13 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1039 নিজস্ব সংবাদদাতা : তিতলি, এই নামটাই এখন দুর্গা পুজোর মুখে মানুষের চিন্তার কারন। পুজোর আনন্দ মাটি করে দেবে না তো ? তবে, কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে খুব বেশি হলে আর ২ দিন বৃষ্টি হবে। ষষ্ঠীর অনেক আগেই সব দুর্যোগ কেটে যাবে বলেই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড় তিতলির অভিমুখ রয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় তিতলি অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। কিন্তু, গত কয়েক ঘণ্টায় আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে তিতলি। যার ফলে আবহাওয়াবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। মনে করা হচ্ছে, এভাবে অগ্রসর হলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেই আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। সেক্ষেত্রে অপেক্ষা রয়েছে প্রবল দুর্যোগ। ঝড় বৃষ্টির কারণে মাটি হতে চলেছে পুজোর ঠিক আগে পুজোর কেনাকাটা।

ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পর তিতলির প্রধান অভিমুখ এবার বাংলা। হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করে বাংলা উপকূলের দিকেই আসছে তিতলি। ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি হয়েছে দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমনি সহ বাংলা উপকূলে। আগামী কয়েক দিনেও হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। তবে, তিতলি ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হচ্ছে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

ঝড় বৃষ্টি কতদিন চলবে সেটাই এখন মানুষের বড় প্রশ্ন। পুজোর বাজার, পুজোর কেনাকেটাতে তো সমস্যা হবেই। কিন্তু, পুজোর কদিন ঠাকুর দেখতে বেরোব কিভাবে সেটাও বড় প্রশ্ন মানুষের। এমনিতেই, পুজোর আয়োজকরা পড়েছেন সমস্যায়। শেষ মুহূর্তের কাজের সময় বৃষ্টি এতটা সমস্যায় ফেলবে ভাবেন নি উদ্যোক্তারা।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বৃহস্পতিবার ভোরেই শক্তিশালী তিতলি ঝড় আছড়ে পড়েছে ৷ ওড়িশা উপকূলের গঞ্জাম জেলার গোপালপুরে ও অন্ধ্র উপকূলের পালসায় ভয়ঙ্কর ঘূর্ণীঝড় আছড়ে পড়ে৷ সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ১৩০-১৪০ কিমি বেগে ঝড় শুরু হয়েছে। দুই রাজ্য উপকূল থেকে প্রায় ১০,০০০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হয়েছে এখনও পর্যন্ত।

ইতিমধেই বঙ্গোপসাগরের উত্তর ভাগ ও ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে সবচেয়ে তীব্র হয়েছে তিতলির আক্রমণ। অন্যদিকে, ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে এর তীব্রতা রয়েছে ১২০-১৩০ কিলোমিটার মতো। তবে, তিতলি ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হচ্ছে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বাংলা উপকূলের দিকে অভিমুখ পরিবর্তন করায় বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তিতলির জেরে কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৷ জানিয়েছে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

উপগ্রহ চিত্র পর্যবেক্ষণ করে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই আরও শক্তি বাড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। শেষ কয়েক ঘণ্টায় উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে এই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। আর এর ফলে জোরালো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তিতলির আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে এখবর জানা গেছে।

পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি আর বাড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ঝড়ের দাপট থাকবে কম। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ইতিমধ্যেই দিঘা সহ সব উপকূলেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে পর্যটকদের। সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদেরও। মাইকিং করে সতর্কতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

তবে সব ঝড় বৃষ্টি, ষষ্ঠীর আগে থেমে যাবে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও সেটা খুব একটা আশ্বস্ত করছে না বাঙালিদের। পুজোতেও তিতলির প্রভাবে বৃষ্টি হবে, এটাই আশঙ্কায় রেখেছে পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে আপামর বাঙালিকে।

]]>
পুজো অনুদানে মমতার সিদ্ধান্তই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট https://thenewsbangla.com/the-calcutta-high-court-has-upheld-mamtas-decision-in-puja-grant-issue/ Wed, 10 Oct 2018 10:48:10 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=979 নিজস্ব সংবাদদাতা : শেষ পর্যন্ত পুজোর আগে স্বস্তি রাজ্য সরকারের। কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো অনুদান সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করল না। পুজো উদ্যোক্তাদের অনুদানের সরকারি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, পরিস্কার জানিয়ে দিল হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

গত শুক্রবার, রাজ্যের ২৮ হাজার দুর্গাপুজোয় ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কথা ঘোষণাও করে।
মঙ্গলবারও কলকাতা হাইকোর্ট পুজোয় অনুদান সংক্রান্ত মামলায় স্থগিতাদেশ বহাল রাখে। শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত মান্যতা পাবে কিনা তাই নিয়ে রয়ে যায় ধোঁয়াশা।

শেষ পর্যন্ত বুধবার রাজ্য সরকারকে স্বস্তি দিল হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিল, পুজোর অনুদান সংক্রান্ত ব্যাপারে কোন নাক গলাবে না তারা। পুজোর মুখে রাজ্যকে স্বস্তি দিয়ে এই রায় দেন, প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।

সেপ্টেম্বর মাসে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসই-র সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সরকারি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিটি পুজোকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ওই বৈঠকে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কলকাতার ৩ হাজার সহ রাজ্যের ২৫ হাজার দুর্গা পুজোকে রাজ্য সরকারের তরফে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। খরচ হবে 28 কোটি টাকা।

জনগণের করের টাকা এ ভাবে অনুদান হিসাবে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে দুদিন পরপর স্থগিতাদেশ দিলেও কিন্তু বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়ে দিল, ক্লাবকে পুজো অনুদানের বিষয়টি আদালতগ্রাহ্য নয়।

রাজ্যের উন্নয়নে খরচা না করে কেন ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় ওই জনস্বার্থ মামলায়। ওই জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোয় বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অনুদান দিলে তা দেশের সংবিধানকে আঘাত করে। কারণ, বিশেষ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এমন অনুদান দিয়ে উৎসাহিত করা সংবিধান-বিরোধী।

কিন্তু এদিন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনসভার সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাবে না। ওই বিষয়টি দেখার জন্য পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রয়েছে। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, সেই বিষয়টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি দেখবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে পুজোর আগে ও লোকসভা ভোটের আগে স্বস্তিতে রাখল রাজ্য সরকারকে। মমতার ঘোষণা করা ২৮ হাজার পুজোর ১০ হাজার করে প্রাপ্তিও এই রায়ের পর আর আটকাবে না। আপাততঃ দুর্গা পুজো নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পেল মা-মাটি-মানুষের সরকার।

]]>
আজ মহালয়া, কিন্তু মহালয়া সম্পর্কে সবকিছু জানেন কি ? https://thenewsbangla.com/today-is-mahalaya-but-do-you-know-about-mahalaya/ Mon, 08 Oct 2018 07:52:48 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=845 নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ভোরে উঠে রেডিওতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রর মহালয়া শুনেছেন। তারপর, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণও করেছেন। ‘শুভ মহালয়া’ আজ অনেকবার শুনেছেন, সারাদিনই শুনবেন। কিন্তু মহালয়া কি এবং কেন এই মহালয়া? জানেন কি?

ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন, লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য। আসল দুর্গাপুজো হলো বসন্তে, সেটাকে বাসন্তি পুজো বলা হয়। শ্রীরামচন্দ্র অকালে, অসময়ে পুজো করেছিলেন বলে এই শরতের পুজোকে দেবির অকাল-বোধন বলা হয়।

Image Source: Google Image

সনাতন ধর্মে কোন শুভ কাজ করতে গেলে, বিবাহ বা অন্যান্য আচার অনুষ্ঠান করতে গেলে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে হয়, কার্যাদি-অঞ্জলি প্রদান করতে হয়। তর্পণ মানে খুশি করা। ভগবান শ্রীরাম লঙ্কা বিজয়ের আগে এদিনে এমনই করেছিলেন।

সেই অনুসারে এই মহালয়া তিথিতে মানুষ পূর্বপুরুষদের স্মরন করে, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয় তাকে মহালয় বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া । পিতৃপক্ষেরও শেষদিন এটি। মাতৃপক্ষের শুরু।

পিতৃপক্ষ পূর্বপুুরুষদের তর্পণাদির জন্য প্রশস্ত এক বিশেষ পক্ষ। এই পক্ষ পিত্রপক্ষ, মহালয়া পক্ষ ও অপরপক্ষ নামেও পরিচিত। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যেহেতু পিতৃপক্ষে প্রেতকর্ম (শ্রাদ্ধ), তর্পণ ইত্যাদি মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, সেই হেতু এই পক্ষ শুভকার্যের জন্য প্রশস্ত নয়।

দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে গণেশ উৎসবের পরবর্তী পূর্ণিমা (ভাদ্রপূর্ণিমা) তিথিতে এই পক্ষ সূচিত হয় এবং সমাপ্ত হয় সর্বপিতৃ অমাবস্যা, মহালয়া অমাবস্যা বা মহালয়া দিবসে। উত্তর ভারত ও নেপালে ভাদ্রের পরিবর্তে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষকে পিতৃপক্ষ বলা হয়।

পুরাণ অনুযায়ী :

পুরাণ অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃলোকে বাস করেন। এই লোক স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। পিতৃলোকের শাসক মৃত্যুদেবতা যম। তিনিই সদ্যমৃত ব্যক্তির আত্মাকে মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের একজনের মৃত্যু হলে পূর্ববর্তী প্রজন্মের একজন পিতৃলোক ছেড়ে স্বর্গে গমন করেন এবং পরমাত্মায় (ঈশ্বর) লীন হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের উর্ধ্বে উঠে যান।

এই কারণে, কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির পূর্ববর্তী তিন প্রজন্মেরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে থাকে এবং এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষ সূচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় পূর্বপুরুষগণ পিতৃলোক পরিত্যাগ করে তাঁদের উত্তরপুরুষদের গৃহে অবস্থান করেন। এরপর সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে, তাঁরা পুনরায় পিতৃলোকে ফিরে যান। পিতৃগণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে হিন্দুদের পিতৃপুরুষগণের উদ্দেশ্যে তর্পণাদি করতে হয়।

মহাভারত অনুযায়ী:

মহাভারত অনুযায়ী, প্রসিদ্ধ দাতা কর্ণের মৃত্যু হলে তাঁর আত্মা স্বর্গে গমন করলে, তাঁকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। কর্ণ, ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র বলেন, কর্ণ সারাজীবন স্বর্ণই দান করেছেন, তিনি পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনোদিন খাদ্য প্রদান করেননি। তাই স্বর্গে তাঁকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। কর্ণ বলেন, তিনি যেহেতু তাঁর পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, তাই তিনি পিতৃগণকে খাদ্য বা অন্য কিছু প্রদান করতে পারেন নি। এই কারণে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। কোন কোন বইয়ে এই কাহিনিতে ইন্দ্রের বদলে যমকে দেখা যায়।

মহালয়া পক্ষের পনেরোটি তিথির নাম হল প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবস্যা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তর্পণে ইচ্ছুক হন, তাঁকে তাঁর পিতার বা কোন পূর্বপুরুষের মৃত্যুর তিথিতে তর্পণ করতে হয়।

শ্রাদ্ধানুষ্ঠান:

পিতৃপক্ষে পুত্র কর্তৃক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হিন্দুধর্মে অবশ্য করণীয় একটি অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের ফলেই মৃতের আত্মা স্বর্গে প্রবেশাধিকার পান। এই প্রসঙ্গে গরুড় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, “পুত্র বিনা মুক্তি নাই”। ধর্মগ্রন্থে গৃহস্থদের দেব, ভূত ও অতিথিদের সঙ্গে পিতৃ-তর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কণ্ডেয় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, পিতৃগণ শ্রাদ্ধে তুষ্ট হলে স্বাস্থ্য, ধন, জ্ঞান ও দীর্ঘায়ু এবং পরিশেষে উত্তরপুরুষকে স্বর্গ ও মোক্ষ প্রদান করেন।

বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যাঁরা অপারগ, তাঁরা সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালন করে পিতৃদায় থেকে মুক্ত হতে পারেন। পুরাণ মতে, শ্রাদ্ধ বংশের প্রধান ধর্মানুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে পূর্ববর্তী তিন পুরুষের উদ্দেশ্যে পিণ্ড ও জল প্রদান করা হয়, তাঁদের নাম উচ্চারণ করা হয় এবং গোত্রের পিতাকে স্মরণ করা হয়। এই কারণে একজন ব্যক্তির পক্ষে বংশের ছয় প্রজন্মের নাম স্মরণ রাখা সম্ভব হয় এবং এর ফলে বংশের বন্ধন দৃঢ় হয়।

জীবিত ব্যক্তির পিতা বা পিতামহ যে তিথিতে মারা যান, পিতৃপক্ষের সেই তিথিতে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ হয় চতুর্থী (চৌথা ভরণী) বা পঞ্চমী (ভরণী পঞ্চমী) তিথিতে।

সধবা নারীর মৃত্যু হলে, তাঁর শ্রাদ্ধ হয় নবমী (অবিধবা নবমী) তিথিতে। বিপত্নীক ব্যক্তি, ব্রাহ্মণী নারীদের শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রণ করেন। শিশু বা সন্ন্যাসীর শ্রাদ্ধ হয় চতুর্দশী (ঘট চতুর্দশী) তিথিতে। অস্ত্রাঘাতে বা অপঘাতে মৃত ব্যক্তিদেরও শ্রাদ্ধ হয় এই তিথিতেই (ঘায়েল চতুর্দশী)।

সর্বপিতৃ অমাবস্যা দিবসে তিথির নিয়মের বাইরে সকল পূর্বপুরুষেরই শ্রাদ্ধ করা হয়। যাঁরা নির্দিষ্ট দিনে শ্রাদ্ধ করতে ভুলে যান, তাঁরা এই দিন শ্রাদ্ধ করতে পারেন। এই দিন গয়ায় শ্রাদ্ধ করলে তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়। উল্লেখ্য, গয়ায় সমগ্র পিতৃপক্ষ জুড়ে মেলা চলে।

বাংলায় মহালয়ার দিন দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন। মহালয়ার দিন অতি প্রত্যুষে চণ্ডীপাঠ করার রীতি রয়েছে। আশ্বিন শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে দৌহিত্র মাতামহের তর্পণ করেন। মহালয়ার দিন পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় দ্বিপ্রহরে নদী বা পুকুর তীরে বা শ্রাদ্ধকর্তার গৃহে।

শ্রাদ্ধকর্তাকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে ধুতি পরে শ্রাদ্ধ করতে হয়। শ্রাদ্ধের পূর্বে তিনি কুশাঙ্গুরীয় (কুশ ঘাসের আঙটি) ধারণ করেন। এরপর সেই আঙটিতে পূর্বপুরুষদের আবাহন করা হয়। শ্রাদ্ধ খালি গায়ে করতে হয়, কারণ শ্রাদ্ধ চলাকালীন যজ্ঞোপবীতের অবস্থান বারংবার পরিবর্তন করতে হয়। শ্রাদ্ধের সময় সিদ্ধ অন্ন ও ময়দা ঘি ও তিল দিয়ে মাখিয়ে পিণ্ডের আকারে উৎসর্গ করা হয়। একে পিণ্ডদান বলে। এরপর দুর্বাঘাস, শালগ্রাম শিলা বা স্বর্ণমূর্তিতে বিষ্ণু এবং যমের পূজা করা হয়। এরপর পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে খাদ্য প্রদান করা হয়। এই খাদ্য সাধারণত ছাদে রেখে আসা হয়।

কোনো কোনো পরিবারে পিতৃপক্ষে ভাগবত পুরাণ, ভগবদ্গীতা বা শ্রীশ্রীচণ্ডী পাঠ করা হয়। অনেকে পূর্বপুরুষের মঙ্গল কামনায় ব্রাহ্মণদের দান করেন।
বলা যায়, মহালয়া শুধু দুর্গাপুজোর শুরু নয়। এর ব্যাপ্তি সনাতন হিন্দু ধর্মের শুরুর সময় থেকেই।

]]>
দশ নয় চার হাতের দেবী দুর্গার অসাধারণ গল্প https://thenewsbangla.com/not-ten-hands-an-extraordinary-story-of-four-hand-goddess-durga/ Wed, 03 Oct 2018 07:11:13 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=754 মালদহঃ দশভূজা নয়, চতুর্ভূজা রুপে পুজিত হন দেবী। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এমনই রুপে দেবীর পুজো হয়ে আসছে পুরান মালদহের মুচিয়ার চক্রবতী বাড়িতে। নামে বাড়ির পুজো হলেও এখন পুজো হয়ে উঠেছে সর্বজনীন।

পুজোর চারটে দিন অরন্ধন থাকে পুরো মহাদেবপুর গ্রাম। পরিবারের প্রবীণ নাগরিক সন্তোষ চক্রবতী বলেন, “এখনকার বাংলাদেশ আগে ছিল পাকিস্থান। সেই পাকিস্থানের ভোলাহাটে আমাদের পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন। দেশ ভাগের সময় আমরা এপারে চলে আসি। তবে ভোলাহাটের মায়ের বেদীর মাটি নিয়ে এসে এখানে আমরা নতুন করে বেদী তৈরি করেছি। পূর্ব পুরুষদের নিয়ম মেনেই আজও আমরা বৈষ্ণব মতে মায়ের পুজো করে আসছি।”

পুরাতন মালদহের মুচিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের মহাদেবপুর গ্রাম। এই গ্রামেই বসবাস করেন সন্তোষ চক্রবতী। প্রাচীন কাল থেকেই চক্রবতী বাড়িতে পুজো হয়ে আসছে। তাই চক্রবতী বাড়ির পুজো নামে পরিচিত গ্রামে। গ্রামের প্রত্যেকেই সামিল হন পুজোতে। নিয়ম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর আরাধনা করা হয়। রথযাত্রার দিন থেকে শুরু হয়ে যায় পুজো। ওইদিনই শুরু হয় মুর্তি গড়ার কাজও। আর মহালয়ার দিন মায়ের চক্ষুদান হয়। ওই দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় বাড়িতে চন্ডীপাঠ। দেবীর রুপ এখানে মৃন্ময়ী।

দেবী মূর্তির উচ্চতা চার ফুট। একচালাতেই থাকেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষী ও সরস্বতী। ষষ্ঠীতে বোধন দিয়ে শুরু হয় পুজা। পঞ্চ বাজনা বাজিয়ে মহানন্দা নদীতে স্নান করানো হয় কলাবউকে। চক্রবতী বাড়ির সাত নদীর জল নিজেরাই সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন পরিবার সহ গ্রামের লোকেরা।

পুজোকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে নানান অলৌকিক কাহিনী। গ্রামের অনেকে এখানে এসে প্রার্থনা করেন। গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার পুজোর কটা দিন বাড়িতে উনন জ্বালান না। প্রত্যেকেই খাওয়া দেওয়া করেন চক্রবতীর বাড়িতে। ওই বাড়ির প্রবীণ এক সদস্য ছায়া চক্রবতী বলেন, “বাংলাদেশে আমাদের বাড়িতে এক শাঁখারু শাখা পড়াতেন। আমাদের বাড়ির মেয়ে পরিচয় দিয়ে জমিতে এক অপরুপা যুবতী দুই হাতে দুজোড়া শাঁখা পড়েন। আর দাম নিতে বলেন আমাদের পরিবারের কাছে। সেই থেকে আমরা মাকে দু’জোড়া করে শাঁখা পড়াই। আমরা নিজে হাতে মায়ের পায়ে আলতা পড়িয়ে দিই।”

বির্সজনেও চমক রয়েছে। বাংলাদেশে দেবীকে বির্সজন দেওয়া হত মহানন্দা নদীতে। সেই প্রথা মেনে আজও সেই মহানন্দা নদীতে বির্সজন দেওয়া হয় চতুর্ভূজার। আর সেই বির্সজন দেখতেই নদীর দুপাড়ে ভিড় জমান দুই বাংলার মানুষ।

]]>