Dr Shyama Prasad Mukherjee – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Tue, 09 Aug 2022 18:25:30 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Dr Shyama Prasad Mukherjee – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 বেমালুম উধাও হয়ে যান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-কে ইঞ্জেকশন দেওয়া নার্স রাজদুলারী টিকু https://thenewsbangla.com/nurse-rajdulari-tiku-who-injected-shyama-prasad-mukherjee-goes-missing/ Thu, 23 Jun 2022 06:19:56 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15678 বেমালুম উধাও হয়ে যান; শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-কে ইঞ্জেকশন দেওয়া নার্স রাজদুলারী টিকু। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, হিন্দু মহাসভার অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা; এবং জনসংঘ দলের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু; আজও ভারতবাসীর মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। জওহরলাল নেহেরুর আমলে, কাশ্মীরে শেখ আবদুল্লার হাতে ব’ন্দি অবস্থায়; শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর কারণ আজও ভারতবাসীর কাছে রহস্য। কাশ্মীরে জওহরলাল নেহেরু ও শেখ আবদুল্লার পুলিশ কাস্টডিতে; অদ্ভুতভাবে মৃ’ত্যু হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। আর অনেকটাই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর মত উধাও হয়ে গিয়েছিলেন; শ্যামাপ্রসাদকে শেষ ইঞ্জেকশন দেওয়া নার্স রাজদুলারী টিকু।

কাশ্মীর উপত্যকার সু’ন্নী মু’সলিমদের একটি অংশের নেতা; শেখ আবদুল্লার সঙ্গে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরুর দারুণ সখ্যতা গড়ে ওঠে। শেখ আবদুল্লার আবদারে, ভারতীয় সংবিধানে ৩৭০ ধারাটি ঢোকাতে; উঠে পরে লাগেন নেহেরু। এই ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরে থাকবে আলাদা সংবিধান, আলাদা পতাকা; ভারতবর্ষের অন্যান্য অংশের মানুষ এখানে জমি কিনে থাকতে পর্যন্ত পারবেন না; কোন কাশ্মীরি মেয়েকে বিয়েও করতে পারবে না।

তখনও বাবাসাহেব আম্বেদকরের নেতৃত্বে সংবিধান সভা; সংবিধান রচনার কাজ করছে। আম্বেদকর দেশের অ’খণ্ডতা বিরোধী, জাতীয় স্বা’র্থবিরোধী এই কা’লাকানুন; সংবিধানে ঢোকাতে পরিষ্কার অস্বীকার করেন। তখন নেহরু ঘুরপথে সংসদ হয়ে, এই আইনকে পাশ করিয়ে; সংবিধানে ঢোকাতে বাধ্য করেন। নেহরুর প্রশ্রয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্স-এর নেতা শেখ আবদুল্লা; বাদশাহ-র মতো কাশ্মীর শাসন শুরু করেন। ১৯৪৮ সালের ১৭ মার্চ নেহরুর আশীর্বাদ ও সমর্থন নিয়ে; তিনি নিজেকে কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করলেন, মুখ্যমন্ত্রী নয়।

১৯৫২ সাল নাগাদ অবস্থাটা এরকম দাঁড়াল যে, ভারত রাষ্ট্র, জম্মু-কাশ্মীরকে যার অবিচ্ছিন্ন অংশ বলে মনে করা হচ্ছে; দুজন প্রধানমন্ত্রী, নেহরু ও আবদুল্লা; দুজন রাষ্ট্রপ্রধান, ভারতের রাষ্ট্রপতি ও কাশ্মীরের সদর-ই-রিয়াসৎ; দুটি সংবিধান, তার মধ্যে কাশ্মীরেরটি তখনও লিখিত হচ্ছে ও দুটি পতাকা। দেশের এই অসম্মানের বিরুদ্ধেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ঘোষণা করেন; “এক দেশ মে দো বিধান, দো প্রধান ঔর দো নিশান নেহি চলেঙ্গে’; এক দেশের মধ্যে দুরকম সংবিধান, দুই প্রধানমন্ত্রী ও দুই পতাকা চলবে না।

আরও পড়ুনঃ বাংলার বাঘের ছেলে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ভূমিকার কথা জানুন ও জানান

ইতিমধ্যেই গোঁ’ড়া সু’ন্নী শেখ আবদুল্লা-র সা’ম্প্রদায়িক ও পক্ষ’পাতদুষ্ট শাসনের ফলে; জম্মু-কাশ্মীর-লাদাখ অঞ্চলের কাশ্মীরি পণ্ডিত, ডোগরা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, শিয়া মুসলিম ও বিভিন্ন উপজাতীয় মু’সলিম জনগোষ্ঠী সবাই তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছিল। জম্মুর অবিসংবাদিত নেতা প্রেমনাথ ডোগরা-র নেতৃত্বাধীন জম্মু-কাশ্মীর প্রজা পরিষদের ওপর; শেখ আবদুল্লার পুলিশ ভয়াবহ দ’মনপী’ড়ন, হ’ত্যা, নারী ধ’র্ষণ নামিয়ে আনে। লড়াই শুরু করে কাশ্মীরের হিন্দুরা; তাঁরা ভারতীয় সংবিধান ছাড়া কিছুই মানতে রাজি ছিলেন না।

এই ন্যায্য দাবীকে সমর্থন জানাতেই, ১৯৫৩ সালের ১১ মে পারমিট ছাড়াই; (তখন জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকতে ভারতীয়দের পারমিট করাতে হত) জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকতে গিয়ে জম্মুর মাধোপুর সীমান্তে শেখ আবদুল্লা-র পুলিশ শ্যামাপ্রসাদকে গ্রেফতার করে। সেখান থেকে তাঁকে ডাল লেকের তীরে; একটি ছোট্ট কুটিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিনা বিচারে তাঁকে প্রায় ৪০ দিন, আটক করে রাখার পর; কাশ্মীরের একটি হাসপাতালে খুবই রহস্যজনকভাবে ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে মাত্র ৫১ বছর বয়সে শ্যামাপ্রসাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

একথা পরে প্রমাণ হয়েছিল যে, ভারত সরকার বিনা অনুমতিতে; কাশ্মীর প্রবেশের জন্য তাঁকে গ্রেফতার করেনি। আসলে প্রধানমন্ত্রী নেহরু ভয় পেয়েছিলেন। যদি তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কাশ্মীরে ঢুকে; জনসাধারণের কাছে প্রকৃত সত্যটা তুলে। তাহলে চরম বিপদ। বিশেষ করে জনরোষের কবলে পড়বেন তিনি। অতএব তাঁরই নির্দেশে কাশ্মীর সরকার; শ্যামাপ্রসাদকে গ্রেফতার করে জন নিরাপত্তা আইনে।

গ্রেফতার করার পরে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে আসা হয়; কাশ্মীর সেন্ট্রাল জেলে। পরে হঠাৎ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত একটি কুটিরে। শ্যামাপ্রসাদের অপরাধ ছিল, তিনি কাশ্মীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জানতে চেয়েছিলেন; কাশ্মীর-বাসীরা কী চান। কাশ্মীর-বাসীরা কেমন আছেন। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে নিয়েই শুরু করবেন জন আন্দোলন; নেহরু তা মেনে নিতে পারলেন না। অগত্যা শ্যামাপ্রসাদ ও তার দুই সঙ্গীকে একরাতের জন্য, শ্রীনগর সেন্ট্রাল জেলে রাখলেও; পরদিনই তাদের নিয়ে যাওয়া হল এক অজানা জায়গায়। ডাল লেক তীরবর্তী পাহাড়ের খাড়াই চূড়ায় এক ছোট্ট কুটিরে; চারপাশে কোনো বসতি নেই; কোনও চিকিৎসালয় নেই।

কাশ্মীর তাঁর দেখাশনার দায়িত্বে থাকা নার্স রাজদুলারী টিক্কু পরে জানান; সেদিন গভীর রাতে ডাক্তারের নির্দেশ মতো তিনি একটি ইঞ্জেকশন শ্যামাপ্রসাদকে দেওয়ার পর তিনি প্রচণ্ড ছটফট আর চিৎকার করতে লাগলেন, ‘জ্বল যাতা হ্যায়, হামকো জ্বল রাহা হ্যায়’। তারপরেই শ্যামাপ্রসাদ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন ও সব শেষ হয়ে যায়। মৃত্যুর অফিসিয়াল কারণ; হার্ট অ্যা’টাক।

আরও পড়ুনঃ কলকাতা জানতেই পারেনি, তার ‘পাগল প্রেমিক’ ছেড়ে চলে গেল চিরবিদায়ে

২৩ জুন সকালেও ব্যারিস্টার ত্রিবেদী; সুস্থই দেখে গেলেন শ্যামাপ্রসাদকে। দু-একদিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে; ছাড়া পেয়ে যাবেন শ্যামাপ্রসাদ; এমনটাই বলা হল। ঐদিনই ভোর পৌনে চারটের সময় ব্যারিস্টার ত্রিবেদীকে খবর দেওয়া হল; শ্যামাপ্রসাদের অবস্থা ভালো নয়। গুরু দত্ত বেদ, টেকচাঁদ, পন্ডিত প্রেমনাথ ডোগরা প্রমুখকে সঙ্গে নিয়ে; ব্যারিস্টার ত্রিবেদী যখন হাসপাতালে পৌঁছলেন ততক্ষণে সব শেষ। হাসপাতালের বক্তব্য ৩.৪০ মিনিটেই মারা গেছেন শ্যামাপ্রসাদ। কিন্তু কীভাবে? কেন?

নার্সের বয়ান অনুযায়ী, ‘যন্ত্রণায় কাতর শ্যামাপ্রসাদকে ইঞ্জেকশন রেডি করে দিয়েছিলেন চিকিত্‍সক; সেই ইঞ্জেকশন শ্যামাপ্রসাদের শরীরে পুশ করেছিলেন নার্স রাজদুলারী টিকু। তারপরেই ছটফট করতে করতে মারা যান; বাংলা ও হিন্দুদের রক্ষাকর্তা শ্যামাপ্রসাদ। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর পর কাশ্মীরে গিয়ে, নার্স রাজদুলারির সঙ্গে দেখা করেছিলেন; শ্যামাপ্রসাদের কন্যা সবিতা এবং তাঁর স্বামী নিশীথ। পরিচয় গোপন করেই তারা দেখে এসেছিলেন; পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত সেই কুটির, যেখানে বন্দি করে রাখা হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদকে।

তারপর অনেক অনুসন্ধান করে পৌঁছেছিলেন রাজদুলারীর কাছে। রাজদুলারী সব সত্য ফাঁস করে দিয়ে; ডুকরে কেঁদে উঠেছিলেন। বলেছিলেন, “আমি পাপ করেছি, মহাপাপ”। শ্যামাপ্রসাদের মেয়ে সবিতার চোখের জল; তাকে সত্য বলতে বাধ্য করে। তারপরই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান; আর তাঁর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন সেই বাড়িতে গিয়ে সবিতাদেবী; আর রাজদুলারীকে দেখতে পাননি। আজও তিনি নিখোঁজ; কেউ জানে না তিনি কোথায়। যেমন নিখোঁজ শ্যামাপ্রসাদের গুরুত্বপূর্ণ ডায়েরি; প্রেসক্রিপশন এবং সেই ইনজেকশনের অ্যাম্পুলটিও।

শুধু সরকারি সত্য হিসেবে বেঁচে আছে; হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসান। রহস্যজনক ভাবে, বেমালুম উধাও হয়ে যান; শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-কে শেষ ইঞ্জেকশন দেওয়া নার্স রাজদুলারী টিকু। সারা দেশব্যাপী শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত দাবী করা হলেও; কোন এক অজ্ঞাত কারণে প্রধানমন্ত্রী নেহরু কোনরকম তদন্ত করাতে রাজী হলেন না।

শ্যামাপ্রসাদের মা যোগমায়া দেবী একটি চিঠিতে নেহরুকে লেখেন যে; “আপনি সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন। আমি মনে করি আমার পুত্রের অকালমৃ’ত্যুর জন্য; জম্মু-কাশ্মীর সরকার দায়ী। আমি আপনার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছি যে; এই যো’গসাজসে আপনারাও আছেন। কিন্তু সত্য একদিন উদ্‌ঘাটিত হবেই; ও এর জন্য আপনাকে দেশের মানুষ ও ঈশ্বরের মুখোমুখি হতে হবে”।

]]>
গভীর চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা পশ্চিমবঙ্গের আজ জন্মদিন https://thenewsbangla.com/west-bengal-birthday-dr-shyama-prasad-mookerjee-creator-of-west-bengal/ Mon, 20 Jun 2022 06:49:40 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15545 গভীর চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা; পশ্চিমবঙ্গের আজ জন্মদিন। আজ ২০ শে জুন, পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ২০ শে জুন, অফিসিয়ালি পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল; অভিব্যক্ত বাংলা ভেঙে। যে বাংলা ভাগ আটকানোর জন্য বাঙালিদের লড়াই, রবীন্দ্রনাথের রাখি বন্ধন; সেই বাংলা ভাগ হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব বাংলায়। শুনতে খুব খারাপ লাগলেও, ভাগ হয়েছিল হি’ন্দু অধ্যুষিত বাংলা ও মু’সলিম অধ্যুষিত বাংলার; আর তাই আজ আমরা ভারতে, না হলে হয় থাকতাম পাকিস্তানে বা বাংলাদেশে।

১৬ই আগস্ট ১৯৪৬ শুক্রবার, পাকিস্তানের দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে অবিভক্ত ভারতে; ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ বা ‘Direct Action Day’র ডাক দিলেন মু’সলিম লীগের নেতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ। অবিভক্ত বঙ্গে তখন সুহরাওয়ার্দি-র নেতৃত্বাধীন; মুসলিম লীগের প্রাদেশিক সরকার। পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রেখে; ১৬ আগস্ট কলকাতায় মু’সলিম লীগের গু’ন্ডারা হিন্দুদের ওপর এক ভ’য়াবহ সা’ম্প্রদা’য়িক হা’মলা করে। কয়েক হাজার হি’ন্দুকে হ’ত্যা করা হয়; হাজার হাজার হিন্দু নারী ধ’র্ষি’তা হন এবং হি’ন্দুদের সম্পত্তি লু’ঠ করা হয়।

“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম”; তখন গঙ্গায় দাঁড়িয়ে হাওয়া খাচ্ছিল। ১৭ই আগস্ট গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হি’ন্দুরা; মুস’লিমদের এই হা’মলা প্রতিহত করে। ১৮ তারিখ সংগঠিত হি’ন্দুদের নেতৃত্বে শি’খ ও বিহা’রীরা; কলকাতার মুস’লিম মহ’ল্লাগুলোতে হা’মলা চালিয়ে, প্র’তিহিং’সা নেয়।

কলকাতা দা’ঙ্গার প্রতি’শোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়; অবিভক্ত বাংলার নোয়াখালিতে। তখন পূর্ববঙ্গের এই জেলাতে হি’ন্দুরা ছিল; মোট জনসংখ্যার ১৮%। ১৯৪৬-এর ১০ই অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন, উৎসবমুখর হিন্দু বাড়িগুলিতে; এক ভয়ং’কর বিভী’ষিকা নেমে আসে। শুরু হয়, গ’ণহ’ত্যা, লু’ঠ, বাড়িতে আ’গুন দেওয়া, অ’পহর’ণ, ব্যাপকহারে নারী ধ’র্ষ’ণ; মহিলাদের তু’লে নিয়ে গিয়ে আ’টক করে রাখা এবং ব’লপূর্ব’ক ধ’র্মান্ত’করণ।

প্রাক্তন বিধায়ক মৌলানা গোলাম সারওয়ার ছিলেন; এই গ’ণহ’ত্যার মাস্টারমাইন্ড। প্রায় দশহাজার হি’ন্দুকে হ’ত্যা করা হয় নোয়াখালিতে। এর থেকেও বেশি মানুষকে জোর করে ধ’র্মান্ত’রিত করা হয়; এবং গো’মাং’স খেতে বাধ্য করা হয়। গোটা জেলায় এমন কোনও হি’ন্দু বাড়ি ছিল না; যার অন্তত একজন মহিলা ধ’র্ষিতা বা অপ’হৃতা হননি।

কলকাতার দা’ঙ্গা ও নোয়াখালির গ’ণহ’ত্যার অভিজ্ঞতা থেকে, কলকাতার বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও শুভবুদ্ধিযুক্ত বুদ্ধিজীবীরা বুঝতে পারেন যে; হি’ন্দুরা শত চেষ্টা করলেও মু’সলিমদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অসম্ভব, যেখানে মু’সলিমরা সংখ্যাগুরু। আর দুই বঙ্গ মিলিয়ে তখন; মু’সলিমরাই সংখ্যাগুরু।

মুস’লিম লীগ নেতৃত্ব প্রথমে কলকাতা সহ সমগ্র বাংলাকেই; পা’কিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। কংগ্রেসী নেতৃত্বও এই বিষয়ে কিছু মনঃস্থির করতে পারছিলেন না। কিন্তু পা’কিস্তানে অন্তর্ভুক্তিকরণের বিরুদ্ধে, বাঙালি হি’ন্দু জনমত প্রবল থাকায়; মু’সলিম লীগ নেতৃত্ব অন্য চাল দেয়। সমগ্র বাংলাকে পা’কিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করা অসম্ভব বুঝে; মুস’লিম লীগ নেতা ক’ট্টর ধ’র্মা’ন্ধ সুহরাওয়ার্দি হঠাৎ বাঙালির ভেক ধারণ করলেন। তিনি বললেন- “দুই বাংলা নিয়ে অখণ্ড বঙ্গ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হোক; যা কিনা ভারত-পা’কিস্তান কোনপক্ষেই যোগদান করবে না”।

কিন্তু অখণ্ড বাংলাতেও বাঙালি হি’ন্দুরা সংখ্যাল’ঘু হত; জিন্নাহও এই প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করলেন। অনুমান করা যেতেই পারে, এই অখণ্ড বঙ্গ; পরবর্তীকালে পা’কিস্তানে যোগ দিত। যাই হোক, সুহরাওয়ার্দির পাতা ফাঁ’দে পা দিলেন; কংগ্রেসের দুই বর্ষীয়ান বাঙালি নেতা শরৎচন্দ্র বসু ও কিরণশঙ্কর রায়। মাত্র কয়েকমাস আগে ঘটে যাওয়া কলকাতা দা’ঙ্গা ও নোয়াখালি গ’ণহ’ত্যায়; সুহরাওয়ার্দির ভূমিকার কথা তাঁরা ভুলে গেলেন।

এখানেই খেলা শুরু হল; শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর। যে মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারলেন যে, বাঙালি হি’ন্দু জাতটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হচ্ছে বাংলাকে ভাগ করা; সেই সময় থেকেই তিনি তাঁর সমস্ত শক্তি নিয়োজিত করলেন বাঙালি হি’ন্দুদের বিষয়টি; মানুষকে বুঝিয়ে জনমত তৈরি করার জন্য।

১৯৪৭-এর ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি হি’ন্দু মহাসভার নেতৃত্বে; একটি কমিটি গঠন করেন এবং তিনি নিজে সারা বাংলা চষে বেড়াতে লাগলেন; এবং বড় বড় জনসভায় ভাষণ দিয়ে মানুষকে বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে লাগলেন। তিনি কংগ্রেসের কাছে আবেদন রাখলেন যে; তারাও যেন এই দাবিকে সমর্থন জানায়।

পশ্চিমবঙ্গ হতে কারা ভোট দিয়েছিলেন আর আটকাতে কারা ভোট দিয়েছিলেন
পশ্চিমবঙ্গ হতে কারা ভোট দিয়েছিলেন আর আটকাতে কারা ভোট দিয়েছিলেন

১৯৪৭-এর ১৫ই মার্চ কলকাতায় হিন্দু মহাসভা; একটি দু’দিন ব্যাপী আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে লর্ড সিনহা, রমেশচন্দ্র মজুমদার, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ভবতোষ ঘটক, ঈশ্বরদাস জালান, হেমেন্দ্রচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ বিশিষ্ঠজন ছাড়াও; হি’ন্দু মহাসভার সঙ্গে সম্পর্কশূন্য বহু মানুষও উপস্থিত হন। এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হল যে; বাংলা প্রদেশের হি’ন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলিকে নিয়ে একটি আলাদা প্রদেশ গঠন করতে হবে। এই সভায় একটি কমিটিও গঠিত হল, যাদের কাজ হবে একটি স্মারকলিপি প্রস্তুত করা; যা সরকারের কাছে পেশ করা হবে।

বাংলা ভাগ করা উচিত কিনা এই প্রসঙ্গে ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’; ১৯৪৭-এর ২৩-এ মার্চ থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত একটি জনমত সমীক্ষা করে। ফলাফল ঘোষিত হয় ২৩-এ এপ্রিল। এতে মোট ৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৪৯টি উত্তর আসে; এর মধ্যে ১.১% উত্তর বাতিল হয়। বাকি উত্তরের মধ্যে ৯৮.৩% বাংলা ভাগের পক্ষে ও ০.৬% বিপক্ষে মত দেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে মাত্র ০.৪% ছিল মু’সলমান। অর্থাৎ, এ সময়ে বাঙ্গালী হি’ন্দুরা প্রায় সকলেই; বাংলা ভাগের পক্ষে ছিলেন তা বোঝা যায়।

১৯৪৭-এর ২৩-এ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে একটি বৈঠকে তাঁকে বুঝিয়ে বলেন; কেন বাংলা ভাগ করা দরকার। এই পরিকল্পনা বোঝানোর জন্য তিনি প্রচুর দলিল-দস্তাবেজ এবং মানচিত্র তৈরি করেছিলেন; এবং এইগুলি বড়লাটের আপ্তসহায়ক লর্ড ইসমে-র কাছে দিয়ে আসেন।

১৯৪৭-এর মে মাসে হি’ন্দু মহাসভা ও কংগ্রেস একত্রে একটি জনসভা ডাকে; যার সভাপতি ছিলেন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য স্যর যদুনাথ সরকার। ১৯৪৭-এর ২ মে শ্যামাপ্রসাদ; লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে একটি দীর্ঘ পত্র লেখেন। এই তথ্যনির্ভর পত্রে তিনি বাংলাভাগের পক্ষে যুক্তি দেন। এই চিঠিতে বাংলা ভাগের দাবী করে, শ্যামাপ্রসাদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লেখেন যে; ‘‘Sovereign undivided Bengal will be a virtual Pakistan”।

তখন কলকাতার ব্রিটিশ মালিকানাধীন দৈনিক ‘The Statesman’ ১৯৪৭-এর ২৪-এ এপ্রিল, ‘‘Twilight of Bengal’’ শিরোনামে একটি সংবাদে লেখে; গত ১০ সপ্তাহের মধ্যে বাংলা ভাগ করার আন্দোলন একটি ছোট মেঘপুঞ্জের আকার থেকে একটি বিশাল ঝড়ের আকার নিয়েছে; এবং এই ঝড় পুরো প্রদেশ জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে; যদিও এর কেন্দ্রভূমি হচ্ছে কলকাতা। এই ঝড় আরম্ভ করেছিল হি’ন্দু মহাসভা।

ইতিমধ্যে শরৎ বসু ও আবুল হাশিম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার; একটি খসড়া সংবিধান তৈরি করেন। বর্ধমানের মানুষ এই আবুল হাশিম ছিলেন বাংলা মুস’লিম লীগের সেক্রেটারি; যিনি কলকাতা দা’ঙ্গার আগে খুব স্পষ্ট ভাষায় ‘হিন্দু খু’ন’ করতে উ’স্কা’নি দিয়েছিলেন।

এই খসড়া সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী সব সময়েই হবেন একজন মু’সলিম; এবং সংবিধান প্রণয়নের জন্য যে সমিতি থাকবে তাতে ৩০ জনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি (১৬ জন) হবেন মু’সল’মান। অর্থাৎ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলায় হি’ন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রাখার; একটি পাকাপোক্ত বন্দোবস্ত করে রাখা হয়। যা পত্রপাঠ বাতিল করে দেন শ্যামাপ্রসাদ।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এইসময় চেষ্টা করছিলেন, সুহরাওয়ার্দি-বসু-হাশিম ত্রয়ীর; এই ভয়ং’কর পরিকল্পনাকে বানচাল করতে। ১৯৪৭ সালের মে মাসের প্রথম দিকে; গান্ধী ও নেহরু-কে তিনি বাংলা ভাগের পক্ষে বললে তাঁরা খুব একটা নির্দিষ্ট করে কিছু জানান নি।

১৯৪৭-এর ১৩ই মে শ্যামাপ্রসাদ সোদপুরে গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন; এবং সুহরাওয়ার্দির যুক্তবঙ্গের পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চান। গান্ধী বলেন, তিনি এখনও মনঃস্থির করে উঠতে পারেন নি। শ্যামাপ্রসাদ যখন গান্ধীকে জিজ্ঞাসা করেন; তিনি বাংলা ছাড়া ভারতবর্ষকে কল্পনা করতে পারেন কি না? স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে গান্ধী এর কোন উত্তর দেন নি।

হিন্দু মহাসভা বাংলা ভাগের দাবি নিয়ে সোচ্চার হতেই, কংগ্রেসিরা দেখল তাদের ভোটার যারা; সেই হি’ন্দুরা (বাংলার মুসলিমরা প্রায় সকলেই মু’সলিম লীগের সমর্থক ছিল) তাদের ন’পুংস’কতায় ক্ষুব্ধ হয়ে হি’ন্দু মহাসভার পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে। তখনই বাংলার কংগ্রেস দল নড়েচড়ে ওঠে। তারাও তখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের মতামতের তোয়াক্কা না করে; হিন্দু মহাসভার প্রস্তাবানুসারেই বাংলার হি’ন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মু’সল’মান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের জন্য দুটো আলাদা মন্ত্রীসভা গঠনের দাবি তোলে ১৯৪৭-এর ৪ঠা এপ্রিল।

বাংলার আঞ্চলিক কংগ্রেস নেতৃত্ব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্য মনীষীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে; বাঙালি হি’ন্দুর স্বার্থরক্ষায় ব্রতী হয়। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ১৯৪৭-এর ২০-এ জুন; বঙ্গীয় আইন পরিষদের পশ্চিম অংশের সদস্যরা বাংলার দ্বিখণ্ডীকরণ করে; বাঙালি হি’ন্দুর হোমল্যান্ড বা পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাব ৫৮-২১ ভোটে পাশ করান।

বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর পুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ গঠনে ভূমিকা নিয়ে; অনেকেই বলেন “তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠতম কীর্তি”।
নেহেরু একবার শ্যামাপ্রসাদকে বলেছিলেন যে; “আপনিও তো দেশভাগ সমর্থন করেছিলেন”। উত্তরে শ্যামাপ্রসাদ বলেন, ‘‘আপনারা ভারত ভাগ করেছেন; আর আমি পাকিস্তান ভাগ করেছি”।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল ফণিভূষণ চক্রবর্তী লিখেছেন যে; “শ্যামাপ্রসাদ তাঁর সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার প্রস্তাব প্রতিরোধ করতে সমর্থ হলেন; এবং দেশভাগের ভিতর আরেকটা দেশভাগ করিয়ে দিলেন”।

চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা; আমাদের সেই পশ্চিমবঙ্গের আজ জন্মদিন। নিজে জানুন ও অন্যকে জানান ইতিহাসে চেপে যাওয়া সব তথ্য।

]]>