debi durga – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Mon, 15 Oct 2018 18:14:59 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg debi durga – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের জমজমাট উৎসব https://thenewsbangla.com/the-4-day-durga-puja-is-now-a-15-day-festival-for-bengal/ Mon, 15 Oct 2018 17:44:11 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1246 বিশেষ রিপোর্ট : দুর্গা পুজো কতদিনের? ১০ বছর আগে হলেও এই প্রশ্নের উত্তর ছিল ৪ দিন। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী। তবে এখন দুর্গাপুজো প্রায় ১৫ দিনের। মহালয়া থেকে দ্বাদশী। যত দিন যাচ্ছে দুর্গাপুজোর সময়ের পরিধি বাড়ছে। ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের মনমাতানো জমজমাট উৎসব।

যত দিন যাচ্ছে, কলকাতার শারোদৎসবও এগোচ্ছে। কয়েক বছর আগেও ষষ্ঠীতে মণ্ডপগুলোয় দেবীদর্শন করা যেতো না। চতুর্থী, পঞ্চমীর আগে তো মণ্ডপে প্রতিমাই ঢুকতো না। ষষ্ঠীর আগে যদিও বা ঢুকতো, ঢাকা থাকতো দুর্গা দুর্গতিনাশিনীর চিন্ময়ী মুখ। ফলে প্রশ্নই উঠতো না দেবীদর্শনের।

যদিও ওই সময় ফাঁকায় ফাঁকায় নামকরা মণ্ডপ আর তাদের চিত্র-বিচিত্র রকমারি আলোর বাহার দেখে, তার বর্ণনা দিয়ে পাড়ার আড্ডায় ‘হিরো’ বনতেন অনেকে। তা সত্ত্বেও পুজোর আগেই পুজোয় মাতায় বেশিরভাগেরই মন সায় দিতো না।

ধীরে ধীরে সময়ের বিবর্তনে কলকাতার সাবেকী ঘরনা পরিবর্তন হতে থাকে থিমে। পঞ্চমী, চতুর্থী, এমনকি তৃতীয়াতেও শুরু হতে থাকে দেবীদর্শন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পুজো উদ্বোধন শুরু করার পর মহালয়া থেকেই এখন পুজো শুরু হচ্ছে। কারণ, মহালয়া থেকেই প্রতিমা উদ্বোধন শুরু করেন তিনি।

আর এ বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে মূলপূজার অনেক আগেই, মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনার আগেই উৎসবে সামিল বাঙালি। কারণ এবার মহালয়ার আগেই উদ্বোধন হয়েছে পুজোর। মহালয়াতেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমেছে মানুষ। ভিড়ও বেড়েছে, বেড়েছে আলোর ছটাও। উৎসবে মাতোয়ারা মানুষ মূল পূজা শুরুর অনেক আগে থেকেই।

ফলে বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এতদিনকার ঐতিহ্য, ধারণা ও মিথ-সবই ভেঙে নতুন ট্রেন্ড গড়ছেন বাঙালিরাই। আগে সপ্তমী থেকে দশমী, চারদিন ও পরে ষষ্ঠী থেকে দশমী- এই পাঁচদিনেও আর বাধা রইল না পূজার আনন্দ-উচ্ছ্বলতা।

ছোট-বড় মণ্ডপে মহালয়ার পর থেকেই মানুষের আনাগোনা, উৎসাহ ও আগ্রহ দেখে বলা যায়, এ বছর থেকে বাঙালির সেরা এ উৎসব ১৫ দিনের! মহালয়া থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত !

কিন্তু কেন এতো আগে থেকে দেবী দর্শনের তাড়া? পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, কলকাতায় এখন আর সেই একই ধরনের প্রতিমা বা সেই মান্ধাতা আমলের মতো মণ্ডপ তৈরি হয় না। সবকিছুর মধ্যে আধুনিকতা ও শিল্পের ছোঁয়া লেগেছে।

সারা কলকাতায় ৩ হাজার পুজোর মধ্যে অন্ততঃ ৫০০ মতো পুজোর চিন্তাধারা ভিন্ন। কারোর সঙ্গে কারো মিল নেই। অসাধারণ কিছু শিল্পকর্ম দেখা যায় এই ৫০০ পুজোয়। আরও কম করলে, উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে অন্ততঃ ১০০ পুজো হয় দেখার মত। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ।

এরপর যোগ হয়েছে সল্ট লেক। শেষ কয়েক বছরে কলকাতা পুরসভার পুজোগুলোকে রীতিমত লড়াই দিচ্ছে সল্টলেকের বেশ কিছু ব্লকের পুজো। এসব কি মিস করা যায়?

তাই মহালয়া থেকে যদি কিছুটা আগেভাগেই উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য কলকাতা, সল্টলেক প্রভৃতি এলাকার ঠাকুর দর্শন সেরে ফেলা যায় ! তাহলে পূজায় তুঙ্গে থাকা ওই চারটে দিনে ভিড়ের অত্যাচার সহ্য করতে হবে না।

ওই সময়টা পাড়ায় বা আত্মীয় বাড়িতে নিজের মতো করে কটা দিন কাটানো যাবে। তবে যে বা যারা যাই যুক্তি দিক না কেন, মহালয়া থেকে দেবীদর্শনে নেমে এ বছর পূজার আগেই উৎসব শুরু করে দিয়েছে কলকাতাবাসী।

আর তাতে, ৪ দিনের সেই পুজো এখন রীতিমতো ১৫ দিনের উৎসব। এরপর রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা পুরস্কার পেলে রেড রোডে ঠাকুর নিয়ে শোভাযাত্রা আছে, তারপর তো বিসর্জন। সবমিলিয়ে ৪ দিনের দুর্গাপূজা সময়ের পরিধি বাড়াতে বাড়াতে এখন ১৫ দিনের উৎসবে রূপ নিয়েছে।

]]>
সুপ্রিম কোর্টেও জিত মমতার, পুজো অনুদানে কোন আসুবিধা নেই https://thenewsbangla.com/victory-for-mamata-banerjee-in-the-supreme-court-mamata-pujo-grant-is-legal/ Fri, 12 Oct 2018 07:04:58 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1082 নিজস্ব সংবাদদাতা: পুজো ও লোকসভা ভোটের আগে বড় জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের। কলকাতা হাইকোর্টের পর এবার সুপ্রিম কোর্টেও জিত মমতার। পুজোর অনুদান নিয়ে হাইকোর্টের রায়কেই মান্যতা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের ডিভিশন বেঞ্চ মুখ বন্ধ করে দিল বিরোধীদের।

মমতার পুজো অনুদান সিদ্ধান্তে কলকাতা হাইকোর্ট এর রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল ‘দুর্গা পুজো অনুদান’ সংক্রান্ত মামলা। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি জানিয়ে এই মামলা করা হয়। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে, ৬ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এই অভিযোগ নিয়ে আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

কলকাতা হাইকোর্ট পুজোর আগে স্বস্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্ট রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো অনুদান সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করে নি। পুজো উদ্যোক্তাদের অনুদানের সরকারি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

সেপ্টেম্বর মাসে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসই-র সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সরকারি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিটি পুজোকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ওই বৈঠকে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কলকাতার ৩ হাজার সহ রাজ্যের ২৫ হাজার দুর্গা পুজোকে রাজ্য সরকারের তরফে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। খরচ হবে ২৮ কোটি টাকা।

জনগণের করের টাকা এ ভাবে অনুদান হিসাবে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে দুদিন পরপর স্থগিতাদেশ দিলেও, গত বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়ে দেয়, ক্লাবকে পুজো অনুদানের বিষয়টি আদালত গ্রাহ্য নয়।

রাজ্যের উন্নয়নে খরচা না করে কেন ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় ওই জনস্বার্থ মামলায়। ওই জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোয় বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অনুদান দিলে তা দেশের সংবিধানকে আঘাত করে। কারণ, বিশেষ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এমন অনুদান দিয়ে উৎসাহিত করা সংবিধান-বিরোধী।

কিন্তু গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনসভার সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাবে না। ওই বিষয়টি দেখার জন্য পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রয়েছে। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, সেই বিষয়টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি দেখবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে পুজোর আগে ও লোকসভা ভোটের আগে স্বস্তিতে রাখে রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্টের এই রায়ের ওপরই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছিল শীর্ষ আদালতের কাছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা যাওয়ার কথা আগেই অনুমান করে রাত জেগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অনুদানের চেক বিলি শুরু করে রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের রায়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই অনুদানের টাকা দেওয়া শুরু হয়ে যায়। বুধবার রাতেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বর্ধমান ও হুগলিতেও বেশ কিছু পুজো কমিটিকে অনুদানের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর, আপাতত পুজো নিয়ে বিতর্ক চাপা পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি হাঁফ ছেড়ে বাঁচল পুজো উদ্যোক্তারাও। এই রায়ে পুজো ও লোকসভা ভোটের আগে বড় জয় পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

]]>
কি হবে দুর্গাপুজো অনুদানে, সবার নজর সুপ্রিম কোর্টে https://thenewsbangla.com/what-will-be-the-durga-pujo-donation-case-all-the-attention-is-in-the-supreme-court/ Fri, 12 Oct 2018 03:48:51 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1073 নিজস্ব সংবাদদাতা: সাড়ে ১১ টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে উঠছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পুজো অনুদান সংক্রান্ত মামলা। তবে, ইতিমধ্যেই অনুদানের ১০ হাজার টাকা পেয়ে গিয়েছেন কলকাতা সহ রাজ্যের অনেক পুজো উদ্যোক্তারা। এই মুহূর্তে সবার নজর এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে, প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের দিকে।

কলকাতা হাইকোর্ট- এর রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্টে যায় ‘দুর্গা পুজো অনুদান’ সংক্রান্ত মামলা। শুক্রবার, দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হবে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি জানিয়ে এই মামলা করা হয়েছে। জরুরিকালীন ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি হবে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর ডিভিশন বেঞ্চে।

কলকাতা হাইকোর্ট পুজোর আগে স্বস্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্ট, রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো অনুদান সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করে নি। পুজো উদ্যোক্তাদের অনুদানের সরকারি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

গত শুক্রবার, রাজ্যের ২৮ হাজার দুর্গাপুজোয় ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কথা ঘোষণাও করে।
মঙ্গলবারও কলকাতা হাইকোর্ট পুজোয় অনুদান সংক্রান্ত মামলায় স্থগিতাদেশ বহাল রাখে। শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত মান্যতা পাবে কিনা তাই নিয়ে রয়ে যায় ধোঁয়াশা।

কিন্তু বুধবার, রাজ্য সরকারকে স্বস্তি দেয় হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, পুজোর অনুদান সংক্রান্ত ব্যাপারে নাক গলাবে না তারা। পুজোর মুখে রাজ্যকে স্বস্তি দিয়ে এই রায় দেয়, প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।

সেপ্টেম্বর মাসে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসই-র সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সরকারি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিটি পুজোকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ওই বৈঠকে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কলকাতার ৩ হাজার সহ রাজ্যের ২৫ হাজার দুর্গা পুজোকে রাজ্য সরকারের তরফে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। খরচ হবে 28 কোটি টাকা।

জনগণের করের টাকা এ ভাবে অনুদান হিসাবে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে দুদিন পরপর স্থগিতাদেশ দিলেও কিন্তু গত বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়ে দিল, ক্লাবকে পুজো অনুদানের বিষয়টি আদালতগ্রাহ্য নয়।

রাজ্যের উন্নয়নে খরচা না করে কেন ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় ওই জনস্বার্থ মামলায়। ওই জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোয় বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অনুদান দিলে তা দেশের সংবিধানকে আঘাত করে। কারণ, বিশেষ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এমন অনুদান দিয়ে উৎসাহিত করা সংবিধান-বিরোধী।

কিন্তু গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনসভার সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাবে না। ওই বিষয়টি দেখার জন্য পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রয়েছে। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, সেই বিষয়টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি দেখবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে পুজোর আগে ও লোকসভা ভোটের আগে স্বস্তিতে রাখে রাজ্য সরকারকে। মমতার ঘোষণা করা ২৮ হাজার পুজোর ১০ হাজার করে প্রাপ্তিও এই রায়ের পর আর আটকাবে না যদি না সুপ্রিম কোর্ট কোন স্থগিতাদেশ না দেয়। হাইকোর্টের রায়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা যাওয়ার কথা আগেই অনুমান করে গত ২ দিনে রাত জেগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অনুদানের চেক বিলি শুরু করল রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের রায়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই অনুদানের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার সন্ধে থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়া শুরু হয়। অন্যদিকে, কলকাতাতেও বেশ কিছু পুজো কমিটিকে অনুদানের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্টে মামলায় কি হবে এই আশঙ্কায় কলকাতার বহু পুজো কমিটি বৃহস্পতিবারই অনুদানের টাকা নিয়ে নিয়েছে। আদালতের রায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গেলে এইসব অনুদানের টাকা কি আবার ফেরত নেওয়া হবে? প্রশ্ন উঠছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই নিয়ে কি রায় দেয় সেটাই এখন দেখার।

]]>
দিক বদলে বাংলায় ঢুকছে তিতলি, দুর্গাপুজোয় আশঙ্কার ছায়া https://thenewsbangla.com/cyclone-titali-is-on-the-way-to-bengal-feared-rain-in-durga-puja/ Thu, 11 Oct 2018 10:41:13 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1039 নিজস্ব সংবাদদাতা : তিতলি, এই নামটাই এখন দুর্গা পুজোর মুখে মানুষের চিন্তার কারন। পুজোর আনন্দ মাটি করে দেবে না তো ? তবে, কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে খুব বেশি হলে আর ২ দিন বৃষ্টি হবে। ষষ্ঠীর অনেক আগেই সব দুর্যোগ কেটে যাবে বলেই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড় তিতলির অভিমুখ রয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় তিতলি অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। কিন্তু, গত কয়েক ঘণ্টায় আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে তিতলি। যার ফলে আবহাওয়াবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। মনে করা হচ্ছে, এভাবে অগ্রসর হলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেই আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। সেক্ষেত্রে অপেক্ষা রয়েছে প্রবল দুর্যোগ। ঝড় বৃষ্টির কারণে মাটি হতে চলেছে পুজোর ঠিক আগে পুজোর কেনাকাটা।

ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পর তিতলির প্রধান অভিমুখ এবার বাংলা। হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করে বাংলা উপকূলের দিকেই আসছে তিতলি। ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি হয়েছে দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমনি সহ বাংলা উপকূলে। আগামী কয়েক দিনেও হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। তবে, তিতলি ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হচ্ছে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

ঝড় বৃষ্টি কতদিন চলবে সেটাই এখন মানুষের বড় প্রশ্ন। পুজোর বাজার, পুজোর কেনাকেটাতে তো সমস্যা হবেই। কিন্তু, পুজোর কদিন ঠাকুর দেখতে বেরোব কিভাবে সেটাও বড় প্রশ্ন মানুষের। এমনিতেই, পুজোর আয়োজকরা পড়েছেন সমস্যায়। শেষ মুহূর্তের কাজের সময় বৃষ্টি এতটা সমস্যায় ফেলবে ভাবেন নি উদ্যোক্তারা।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বৃহস্পতিবার ভোরেই শক্তিশালী তিতলি ঝড় আছড়ে পড়েছে ৷ ওড়িশা উপকূলের গঞ্জাম জেলার গোপালপুরে ও অন্ধ্র উপকূলের পালসায় ভয়ঙ্কর ঘূর্ণীঝড় আছড়ে পড়ে৷ সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ১৩০-১৪০ কিমি বেগে ঝড় শুরু হয়েছে। দুই রাজ্য উপকূল থেকে প্রায় ১০,০০০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হয়েছে এখনও পর্যন্ত।

ইতিমধেই বঙ্গোপসাগরের উত্তর ভাগ ও ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে সবচেয়ে তীব্র হয়েছে তিতলির আক্রমণ। অন্যদিকে, ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে এর তীব্রতা রয়েছে ১২০-১৩০ কিলোমিটার মতো। তবে, তিতলি ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হচ্ছে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বাংলা উপকূলের দিকে অভিমুখ পরিবর্তন করায় বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তিতলির জেরে কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৷ জানিয়েছে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

উপগ্রহ চিত্র পর্যবেক্ষণ করে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই আরও শক্তি বাড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। শেষ কয়েক ঘণ্টায় উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে এই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। আর এর ফলে জোরালো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তিতলির আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে এখবর জানা গেছে।

পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি আর বাড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ঝড়ের দাপট থাকবে কম। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ইতিমধ্যেই দিঘা সহ সব উপকূলেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে পর্যটকদের। সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদেরও। মাইকিং করে সতর্কতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

তবে সব ঝড় বৃষ্টি, ষষ্ঠীর আগে থেমে যাবে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও সেটা খুব একটা আশ্বস্ত করছে না বাঙালিদের। পুজোতেও তিতলির প্রভাবে বৃষ্টি হবে, এটাই আশঙ্কায় রেখেছে পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে আপামর বাঙালিকে।

]]>
সুপ্রিম কোর্টে গেল মমতার পুজো অনুদানের বিরুদ্ধে মামলা https://thenewsbangla.com/the-case-against-mamata-pujo-donation-went-to-the-supreme-court/ Thu, 11 Oct 2018 10:21:08 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1029 নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতা হাইকোর্ট এর রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে গেল ‘দুর্গা পুজো অনুদান’ সংক্রান্ত মামলা। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হবে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি জানিয়ে এই মামলা করা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্ট পুজোর আগে স্বস্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্ট রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো অনুদান সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করে নি। পুজো উদ্যোক্তাদের অনুদানের সরকারি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

গত শুক্রবার, রাজ্যের ২৮ হাজার দুর্গাপুজোয় ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কথা ঘোষণাও করে। মঙ্গলবারও কলকাতা হাইকোর্ট পুজোয় অনুদান সংক্রান্ত মামলায় স্থগিতাদেশ বহাল রাখে। শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত মান্যতা পাবে কিনা তাই নিয়ে রয়ে যায় ধোঁয়াশা।

কিন্তু বুধবার, রাজ্য সরকারকে স্বস্তি দেয় হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, পুজোর অনুদান সংক্রান্ত ব্যাপারে নাক গলাবে না তারা। পুজোর মুখে রাজ্যকে স্বস্তি দিয়ে এই রায় দেয়, প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।

সেপ্টেম্বর মাসে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসই-র সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সরকারি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিটি পুজোকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কলকাতার ৩ হাজার সহ রাজ্যের ২৫ হাজার দুর্গা পুজোকে রাজ্য সরকারের তরফে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। খরচ হবে 28 কোটি টাকা।

জনগণের করের টাকা এ ভাবে অনুদান হিসাবে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে দুদিন পরপর স্থগিতাদেশ দিলেও কিন্তু বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়ে দিল, ক্লাবকে পুজো অনুদানের বিষয়টি আদালতগ্রাহ্য নয়।

রাজ্যের উন্নয়নে খরচা না করে কেন ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় ওই জনস্বার্থ মামলায়। ওই জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোয় বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অনুদান দিলে তা দেশের সংবিধানকে আঘাত করে। কারণ, বিশেষ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এমন অনুদান দিয়ে উৎসাহিত করা সংবিধান-বিরোধী।

কিন্তু গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনসভার সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাবে না। ওই বিষয়টি দেখার জন্য পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রয়েছে। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, সেই বিষয়টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি দেখবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে পুজোর আগে ও লোকসভা ভোটের আগে স্বস্তিতে রাখে রাজ্য সরকারকে। মমতার ঘোষণা করা ২৮ হাজার পুজোর ১০ হাজার করে প্রাপ্তিও এই রায়ের পর আর আটকাবে না যদি না সুপ্রিম কোর্ট কোন স্থগিতাদেশ না দেয়। হাইকোর্টের রায়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা যাওয়ার কথা আগেই অনুমান করে রাত জেগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অনুদানের চেক বিলি শুরু করল রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের রায়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই অনুদানের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। বুধবার রাতেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বর্ধমান ও হুগলিতেও বেশ কিছু পুজো কমিটিকে অনুদানের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

]]>
‘ম্যাডামে’র মুখের আদলেই দেবী দুর্গার মুখ https://thenewsbangla.com/the-face-of-madam-was-placed-in-the-face-of-goddess-durga/ Mon, 08 Oct 2018 10:15:36 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=855 বিশেষ রিপোর্ট, কলকাতা: ম্যাডামের মুখের আদলেই করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ। দাবি, চাহিদা এটাই। কে এই ম্যাডাম? ওটাই তো রহস্য। এই ম্যাডাম আর কেউ নয়। মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। এই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করলেই বেরিয়ে আসে বাংলার সোনার যুগের সোনার অক্ষরে লেখা ‘নস্টালজিয়ার’ গল্প।

পঞ্চাশ-ষাটের দশকের বিখ্যাত দমকলের ঠাকুর। শিল্পী রমেশ পালের ঠাকুর দেখতে সেন্ট্রাল এভিনিউয়ে দমকল স্টেশনে যেতেন সবাই। অনবদ্য প্রতিমা, শাড়ীর রং আগুন কমলা, কি অপূর্ব শিল্প, কি অপূর্ব চিন্তাধারা।

কলকাতা দমকল বাহিনী এই পুজো করত যা দেখতে ভীড় উপচে পড়ত, মিডিয়ার ভাষায় যাকে বলে দর্শনার্থীর ঢল। তখনকার কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত পুজো। এই পুজো বন্ধ হয় আনুমানিক ১৯৬৩ সালে। এই পূজা বন্ধ করে দেওয়া হয় কারণ, যদি দমকল বাহিনী পূজাব্যস্ততার কারনে ঠিকমত পরিষেবা কলকাতার অন্য প্যান্ডেলে দিতে না পারে।

একটা সময় কলেজ স্কোয়ার, পার্ক সার্কাস, খিদিরপুর যুবক সংঘ ছাড়া একডালিয়ার প্রতিমাও গড়তেন শিল্পী রমেশ পাল। দমকল বাহিনীর পুজো বন্ধ হয়ে যাবার পর এই পুজোর বেশ কিছু উদ্যোক্তাই পরে পাশের পার্কে মহম্মদ আলি পার্কের পুজো চালু করেন।

একটা সময়ে প্রতিমার মুখ মানে অবশ্যই ‘ম্যাডাম’ সুচিত্রা সেন। তখন মিসেস সেন ফুলফর্মে। প্রথম হায়েস্ট পেড নায়িকা, তাই দর্শক থেকে ক্লাব উদ্যোক্তারা সবাই চাইত প্রতিমা হবে ম্যাডামের মুখের আদলে। আর তারই সযত্নে রূপ দিতেন শিল্পী রমেশ পাল।

সে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দেবী দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের আদল। রক্ষনশীল বাংলা সমাজে সম্ভবতঃ সেই প্রথম, মা দুর্গার মুখ করা হত ম্যাডাম মিসেস সেনের মুখের আদলে।

প্রথম দিকে লক্ষী, সরস্বতীর মুখের আদল করা হত সুচিত্রা সেনের মুখের মত। তারপর জনতার দাবি মেনে মা দুর্গার মুখে বসানো হল ম্যাডামের মুখ। আর তাই দেখতে ভিড় করতেন হাজার হাজার মানুষ। কলকাতা, জেলার মানুষ ছাড়াও দমকল বাহিনীর ‘সুচিত্রা প্রতিমা’ দেখতে একসময় দলে দলে কলকাতায় আসতেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ।

৫০ এর দশক থেকে প্রায় ৭০ এর দশক পর্যন্ত বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘রাজ’ করেছেন মহানায়িকা। উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর জুটিকে বাংলা সিনেমার ‘Golden Era’ বা সোনার যুগ বলা হয়।

কিন্তু দুর্গা পুজোপ্রেমী মানুষ ও সাধারণ দর্শকদের চাপে, মা দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের মুখের আদল দেওয়া হচ্ছে, এটাই ছিল সেই যুগের অবিস্মরণীয় একটা অধ্যায়।

]]>
আজ মহালয়া, কিন্তু মহালয়া সম্পর্কে সবকিছু জানেন কি ? https://thenewsbangla.com/today-is-mahalaya-but-do-you-know-about-mahalaya/ Mon, 08 Oct 2018 07:52:48 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=845 নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ভোরে উঠে রেডিওতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রর মহালয়া শুনেছেন। তারপর, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণও করেছেন। ‘শুভ মহালয়া’ আজ অনেকবার শুনেছেন, সারাদিনই শুনবেন। কিন্তু মহালয়া কি এবং কেন এই মহালয়া? জানেন কি?

ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন, লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য। আসল দুর্গাপুজো হলো বসন্তে, সেটাকে বাসন্তি পুজো বলা হয়। শ্রীরামচন্দ্র অকালে, অসময়ে পুজো করেছিলেন বলে এই শরতের পুজোকে দেবির অকাল-বোধন বলা হয়।

Image Source: Google Image

সনাতন ধর্মে কোন শুভ কাজ করতে গেলে, বিবাহ বা অন্যান্য আচার অনুষ্ঠান করতে গেলে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে হয়, কার্যাদি-অঞ্জলি প্রদান করতে হয়। তর্পণ মানে খুশি করা। ভগবান শ্রীরাম লঙ্কা বিজয়ের আগে এদিনে এমনই করেছিলেন।

সেই অনুসারে এই মহালয়া তিথিতে মানুষ পূর্বপুরুষদের স্মরন করে, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয় তাকে মহালয় বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া । পিতৃপক্ষেরও শেষদিন এটি। মাতৃপক্ষের শুরু।

পিতৃপক্ষ পূর্বপুুরুষদের তর্পণাদির জন্য প্রশস্ত এক বিশেষ পক্ষ। এই পক্ষ পিত্রপক্ষ, মহালয়া পক্ষ ও অপরপক্ষ নামেও পরিচিত। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যেহেতু পিতৃপক্ষে প্রেতকর্ম (শ্রাদ্ধ), তর্পণ ইত্যাদি মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, সেই হেতু এই পক্ষ শুভকার্যের জন্য প্রশস্ত নয়।

দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে গণেশ উৎসবের পরবর্তী পূর্ণিমা (ভাদ্রপূর্ণিমা) তিথিতে এই পক্ষ সূচিত হয় এবং সমাপ্ত হয় সর্বপিতৃ অমাবস্যা, মহালয়া অমাবস্যা বা মহালয়া দিবসে। উত্তর ভারত ও নেপালে ভাদ্রের পরিবর্তে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষকে পিতৃপক্ষ বলা হয়।

পুরাণ অনুযায়ী :

পুরাণ অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃলোকে বাস করেন। এই লোক স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। পিতৃলোকের শাসক মৃত্যুদেবতা যম। তিনিই সদ্যমৃত ব্যক্তির আত্মাকে মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের একজনের মৃত্যু হলে পূর্ববর্তী প্রজন্মের একজন পিতৃলোক ছেড়ে স্বর্গে গমন করেন এবং পরমাত্মায় (ঈশ্বর) লীন হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের উর্ধ্বে উঠে যান।

এই কারণে, কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির পূর্ববর্তী তিন প্রজন্মেরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে থাকে এবং এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষ সূচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় পূর্বপুরুষগণ পিতৃলোক পরিত্যাগ করে তাঁদের উত্তরপুরুষদের গৃহে অবস্থান করেন। এরপর সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে, তাঁরা পুনরায় পিতৃলোকে ফিরে যান। পিতৃগণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে হিন্দুদের পিতৃপুরুষগণের উদ্দেশ্যে তর্পণাদি করতে হয়।

মহাভারত অনুযায়ী:

মহাভারত অনুযায়ী, প্রসিদ্ধ দাতা কর্ণের মৃত্যু হলে তাঁর আত্মা স্বর্গে গমন করলে, তাঁকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। কর্ণ, ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র বলেন, কর্ণ সারাজীবন স্বর্ণই দান করেছেন, তিনি পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনোদিন খাদ্য প্রদান করেননি। তাই স্বর্গে তাঁকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। কর্ণ বলেন, তিনি যেহেতু তাঁর পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, তাই তিনি পিতৃগণকে খাদ্য বা অন্য কিছু প্রদান করতে পারেন নি। এই কারণে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। কোন কোন বইয়ে এই কাহিনিতে ইন্দ্রের বদলে যমকে দেখা যায়।

মহালয়া পক্ষের পনেরোটি তিথির নাম হল প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবস্যা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তর্পণে ইচ্ছুক হন, তাঁকে তাঁর পিতার বা কোন পূর্বপুরুষের মৃত্যুর তিথিতে তর্পণ করতে হয়।

শ্রাদ্ধানুষ্ঠান:

পিতৃপক্ষে পুত্র কর্তৃক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হিন্দুধর্মে অবশ্য করণীয় একটি অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের ফলেই মৃতের আত্মা স্বর্গে প্রবেশাধিকার পান। এই প্রসঙ্গে গরুড় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, “পুত্র বিনা মুক্তি নাই”। ধর্মগ্রন্থে গৃহস্থদের দেব, ভূত ও অতিথিদের সঙ্গে পিতৃ-তর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কণ্ডেয় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, পিতৃগণ শ্রাদ্ধে তুষ্ট হলে স্বাস্থ্য, ধন, জ্ঞান ও দীর্ঘায়ু এবং পরিশেষে উত্তরপুরুষকে স্বর্গ ও মোক্ষ প্রদান করেন।

বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যাঁরা অপারগ, তাঁরা সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালন করে পিতৃদায় থেকে মুক্ত হতে পারেন। পুরাণ মতে, শ্রাদ্ধ বংশের প্রধান ধর্মানুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে পূর্ববর্তী তিন পুরুষের উদ্দেশ্যে পিণ্ড ও জল প্রদান করা হয়, তাঁদের নাম উচ্চারণ করা হয় এবং গোত্রের পিতাকে স্মরণ করা হয়। এই কারণে একজন ব্যক্তির পক্ষে বংশের ছয় প্রজন্মের নাম স্মরণ রাখা সম্ভব হয় এবং এর ফলে বংশের বন্ধন দৃঢ় হয়।

জীবিত ব্যক্তির পিতা বা পিতামহ যে তিথিতে মারা যান, পিতৃপক্ষের সেই তিথিতে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ হয় চতুর্থী (চৌথা ভরণী) বা পঞ্চমী (ভরণী পঞ্চমী) তিথিতে।

সধবা নারীর মৃত্যু হলে, তাঁর শ্রাদ্ধ হয় নবমী (অবিধবা নবমী) তিথিতে। বিপত্নীক ব্যক্তি, ব্রাহ্মণী নারীদের শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রণ করেন। শিশু বা সন্ন্যাসীর শ্রাদ্ধ হয় চতুর্দশী (ঘট চতুর্দশী) তিথিতে। অস্ত্রাঘাতে বা অপঘাতে মৃত ব্যক্তিদেরও শ্রাদ্ধ হয় এই তিথিতেই (ঘায়েল চতুর্দশী)।

সর্বপিতৃ অমাবস্যা দিবসে তিথির নিয়মের বাইরে সকল পূর্বপুরুষেরই শ্রাদ্ধ করা হয়। যাঁরা নির্দিষ্ট দিনে শ্রাদ্ধ করতে ভুলে যান, তাঁরা এই দিন শ্রাদ্ধ করতে পারেন। এই দিন গয়ায় শ্রাদ্ধ করলে তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়। উল্লেখ্য, গয়ায় সমগ্র পিতৃপক্ষ জুড়ে মেলা চলে।

বাংলায় মহালয়ার দিন দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন। মহালয়ার দিন অতি প্রত্যুষে চণ্ডীপাঠ করার রীতি রয়েছে। আশ্বিন শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে দৌহিত্র মাতামহের তর্পণ করেন। মহালয়ার দিন পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় দ্বিপ্রহরে নদী বা পুকুর তীরে বা শ্রাদ্ধকর্তার গৃহে।

শ্রাদ্ধকর্তাকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে ধুতি পরে শ্রাদ্ধ করতে হয়। শ্রাদ্ধের পূর্বে তিনি কুশাঙ্গুরীয় (কুশ ঘাসের আঙটি) ধারণ করেন। এরপর সেই আঙটিতে পূর্বপুরুষদের আবাহন করা হয়। শ্রাদ্ধ খালি গায়ে করতে হয়, কারণ শ্রাদ্ধ চলাকালীন যজ্ঞোপবীতের অবস্থান বারংবার পরিবর্তন করতে হয়। শ্রাদ্ধের সময় সিদ্ধ অন্ন ও ময়দা ঘি ও তিল দিয়ে মাখিয়ে পিণ্ডের আকারে উৎসর্গ করা হয়। একে পিণ্ডদান বলে। এরপর দুর্বাঘাস, শালগ্রাম শিলা বা স্বর্ণমূর্তিতে বিষ্ণু এবং যমের পূজা করা হয়। এরপর পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে খাদ্য প্রদান করা হয়। এই খাদ্য সাধারণত ছাদে রেখে আসা হয়।

কোনো কোনো পরিবারে পিতৃপক্ষে ভাগবত পুরাণ, ভগবদ্গীতা বা শ্রীশ্রীচণ্ডী পাঠ করা হয়। অনেকে পূর্বপুরুষের মঙ্গল কামনায় ব্রাহ্মণদের দান করেন।
বলা যায়, মহালয়া শুধু দুর্গাপুজোর শুরু নয়। এর ব্যাপ্তি সনাতন হিন্দু ধর্মের শুরুর সময় থেকেই।

]]>
দশ নয় চার হাতের দেবী দুর্গার অসাধারণ গল্প https://thenewsbangla.com/not-ten-hands-an-extraordinary-story-of-four-hand-goddess-durga/ Wed, 03 Oct 2018 07:11:13 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=754 মালদহঃ দশভূজা নয়, চতুর্ভূজা রুপে পুজিত হন দেবী। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এমনই রুপে দেবীর পুজো হয়ে আসছে পুরান মালদহের মুচিয়ার চক্রবতী বাড়িতে। নামে বাড়ির পুজো হলেও এখন পুজো হয়ে উঠেছে সর্বজনীন।

পুজোর চারটে দিন অরন্ধন থাকে পুরো মহাদেবপুর গ্রাম। পরিবারের প্রবীণ নাগরিক সন্তোষ চক্রবতী বলেন, “এখনকার বাংলাদেশ আগে ছিল পাকিস্থান। সেই পাকিস্থানের ভোলাহাটে আমাদের পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন। দেশ ভাগের সময় আমরা এপারে চলে আসি। তবে ভোলাহাটের মায়ের বেদীর মাটি নিয়ে এসে এখানে আমরা নতুন করে বেদী তৈরি করেছি। পূর্ব পুরুষদের নিয়ম মেনেই আজও আমরা বৈষ্ণব মতে মায়ের পুজো করে আসছি।”

পুরাতন মালদহের মুচিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের মহাদেবপুর গ্রাম। এই গ্রামেই বসবাস করেন সন্তোষ চক্রবতী। প্রাচীন কাল থেকেই চক্রবতী বাড়িতে পুজো হয়ে আসছে। তাই চক্রবতী বাড়ির পুজো নামে পরিচিত গ্রামে। গ্রামের প্রত্যেকেই সামিল হন পুজোতে। নিয়ম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর আরাধনা করা হয়। রথযাত্রার দিন থেকে শুরু হয়ে যায় পুজো। ওইদিনই শুরু হয় মুর্তি গড়ার কাজও। আর মহালয়ার দিন মায়ের চক্ষুদান হয়। ওই দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় বাড়িতে চন্ডীপাঠ। দেবীর রুপ এখানে মৃন্ময়ী।

দেবী মূর্তির উচ্চতা চার ফুট। একচালাতেই থাকেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষী ও সরস্বতী। ষষ্ঠীতে বোধন দিয়ে শুরু হয় পুজা। পঞ্চ বাজনা বাজিয়ে মহানন্দা নদীতে স্নান করানো হয় কলাবউকে। চক্রবতী বাড়ির সাত নদীর জল নিজেরাই সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন পরিবার সহ গ্রামের লোকেরা।

পুজোকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে নানান অলৌকিক কাহিনী। গ্রামের অনেকে এখানে এসে প্রার্থনা করেন। গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার পুজোর কটা দিন বাড়িতে উনন জ্বালান না। প্রত্যেকেই খাওয়া দেওয়া করেন চক্রবতীর বাড়িতে। ওই বাড়ির প্রবীণ এক সদস্য ছায়া চক্রবতী বলেন, “বাংলাদেশে আমাদের বাড়িতে এক শাঁখারু শাখা পড়াতেন। আমাদের বাড়ির মেয়ে পরিচয় দিয়ে জমিতে এক অপরুপা যুবতী দুই হাতে দুজোড়া শাঁখা পড়েন। আর দাম নিতে বলেন আমাদের পরিবারের কাছে। সেই থেকে আমরা মাকে দু’জোড়া করে শাঁখা পড়াই। আমরা নিজে হাতে মায়ের পায়ে আলতা পড়িয়ে দিই।”

বির্সজনেও চমক রয়েছে। বাংলাদেশে দেবীকে বির্সজন দেওয়া হত মহানন্দা নদীতে। সেই প্রথা মেনে আজও সেই মহানন্দা নদীতে বির্সজন দেওয়া হয় চতুর্ভূজার। আর সেই বির্সজন দেখতেই নদীর দুপাড়ে ভিড় জমান দুই বাংলার মানুষ।

]]>