Cyclone – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 12 May 2022 05:07:44 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Cyclone – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 ‘যমজ ঘূর্ণিঝড়’, একা অশনি-তে রক্ষা নেই করিম দোসর, দু-দুটি ঘূর্ণিঝড় একসঙ্গে https://thenewsbangla.com/twin-cyclones-after-asani-cyclone-karim-cyclone-is-forming-over-indian-ocean/ Thu, 12 May 2022 05:07:01 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15063 একা অশনি-তে রক্ষা নেই করিম দোসর; দু-দুটি ঘূর্ণিঝড় আসছে একসঙ্গে। অশনির দোসর হিসাবে হাজির করিম! আতঙ্ক তৈরি করেও; সেই অর্থে তেমন ভোগায়নি ঘূর্ণিঝড় অশনি। তবে অশনির চোখ-রাঙানি পুরোপুরি মিলিয়ে যেতে না যেতেই; নাসার উপগ্রহে ধরা পড়ল আরও এক ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত। উপগ্রহ-চিত্র বলছে, ভারতের দক্ষিণে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে। ভারত মহাসাগরে তৈরি হওয়া; এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম করিম।

অশনির পরে এবার, ভারতের উপকূলে; দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। ‘অশনি’র পিছু-পিছুই; ধেয়ে আসছে ‘করিম’। একসঙ্গে দুই ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাব বিরল না হলেও; মূলত উঁচু জায়গাতেই এতদিন তা দেখা গিয়েছে। নিরক্ষরেখার দক্ষিণে, অপেক্ষাকৃত নীচু জায়গায়; এমন ঘটনা সচরাচর চোখে পড়ে না বলে মত বিশ্বের আবহবিদদের।

‘Twin Cyclones’, যমজ ঘূর্ণিঝড়; ধরা পরেছে, নাসার উপগ্রহে। আমেরিকার দ্য ওয়েদার চ্যানেল জানিয়েছে; “দুই ঘূর্ণিঝড় যদি পরস্পরের ১০০০ কিলোমিটারের মধ্যেও এসে পড়ে; তাদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ তৈরি হয়। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত দুই ঘূর্ণিঝড়ের; ব্যবধান ছিল ২৮০০ কিলোমিটার। ‘অশনি’ এবং ‘করিম’ এর ঘূর্ণি বিপরীতমুখী; একটি নিরক্ষরেখার উত্তর অভিমুখে, অন্যটির দক্ষিণ অভিমুখে। ‘অশনি’র ঘূর্ণি ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী; ‘করিম’-এর ঘূর্ণির অভিমুখ ঘড়ির কাঁটার ন্যায়। তাই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার; কোনও ইঙ্গিত আপাতত নেই”।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার আর্থ অবজারভেটরি জানিয়েছে; “করিম হারিকেন ঝড় হতে চলেছে। তবে ভারতের এই ঘূর্ণিঝড়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই; কারণ নিরক্ষরেখার দক্ষিণে অবস্থান করছে করিম”। ঘণ্টায় ১১২ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ‘করিম’-কে; তীব্রতার নিরিখে দ্বিতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড় চিহ্নিত করা হয়েছে। সমুদ্রে শক্তি খুইয়ে দুর্বল হয়ে পড়ার আগে; ‘অশনি’র গতিবেগও ছিল ১০০-১১০ কিলোমিটার/ঘণ্টা।

দু-দিক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড় আসার ঘটনা; শেষবার ২০১৯ সালে বঙ্গোপসাগরে দেখা গিয়েছিল। সেবার ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ এবং ‘লর্না’র অবির্ভাব ঘটেছিল একইসঙ্গে। তবে ‘লর্না’র প্রভাবে, ‘ফণী’র শক্তি হ্রাস পায় সেইসময়।

গত সপ্তাহে আন্দামান সাগরের কাছে; ‘অশনি’র উৎপত্তি। ধীরে ধীরে তা শক্তি বাড়িয়ে; ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। কিন্তু তারপরেই শক্তি হারিয়ে; দুর্বল হয়ে পড়ে ‘অশনি’। অন্যদিকে, ভারত মহাসাগরে ‘করিম’ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে খোলা সমুদ্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সে। তবে আমেরিকার জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে; খুব শীঘ্রই শক্তি হারাবে করিম।

]]>
‘অশনি সংকেত’, আয়লা, ফণী, আমফানের মতোই কি বাংলায় আছড়ে পড়বে অশনি https://thenewsbangla.com/asani-cyclone-will-hit-bengal-like-aila-fani-amphan-cyclone-people-question/ Mon, 09 May 2022 06:05:53 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15014 ‘অশনি সংকেত’, আয়লা, ফণী, আমফানের মতোই কি বাংলায় আছড়ে পড়বে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। এগোচ্ছে অশনি ঘূর্ণিঝড়; বাংলাতে প্রভাব হবে কি আয়লা, ফণী, আমফানের মতোই? কয়েকদিন ধরেই উঠেছে প্রশ্ন; বিশেষ করে রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে। এই নিয়ে এখনও পরিষ্কার রিপোর্ট; দিতে পারেনি আবহাওয়া দফতর।

গতি বাড়িয়ে বাংলার উপকূলের আরও কাছে ‘অশনি’; দক্ষিণবঙ্গে সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি, চলবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত। রবিবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ গতি বাড়িয়ে; তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবারই তা পৌঁছে যাবে; উপকূলের কাছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর বরাবর, ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে অশনি; দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে।

নয়া-দিল্লির মৌসম ভবনের দেওয়া শেষ খবর অনুযায়ী, সোমবার সকালে ঝড়টি পুরী থেকে ৭০০ কিলোমিটার এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে; এখন অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’। আবহবিদদের অনুমান, আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই; বাংলার উপকূলের কাছে চলে আসবে ‘অশনি’।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে; উত্তর অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলের অদূরে পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র অবস্থান। তারপর ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পূর্ব দিক পরিবর্তন করে; উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ওড়িশা উপকূলে অবস্থানের সম্ভাবনা।

অশনি-র প্রভাবে ইতিমধ্যেই কলকাতা সহ গোটা দক্ষিনবঙ্গেই; শুরু হয়েছে তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টি হচ্ছে উপকূলবর্তী দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়; বৃষ্টি হচ্ছে হাওড়াতেও। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত; বাংলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, সোমবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে; কলকাতা সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ‘অশনি’ ঘূর্ণিঝড় কোন পথে স্থলভাগে ঢুকবে; তা এখনও স্পষ্ট নয়। সোমবার সকালে আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী; ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র তৈরি হয়নি। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের উপকূলের দিকে এগোনোর গতিবেগ জানা গেলেও; ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণাবর্তের গতি কতটা, স্থলভাগে সেটি প্রবেশ করলে কত গতিতে ঝড় হবে তা জানা যায়নি।

সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত; মত্‍স্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এদিকে, ‘অশনি’ মোকাবিলায় তৎপর রাজ্য প্রশাসন; সোমবার দুপুরে নবান্নে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যসচিব। কোথায় কী কী সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে; সেই বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

]]>
ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর ধেয়ে আসছে বায়ু, আশঙ্কা ঘনাচ্ছে উপকূলে https://thenewsbangla.com/after-cyclone-fani-the-bayu-cyclone-is-coming-the-frightening-danger-is-on-the-coast/ Sat, 15 Jun 2019 08:43:21 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=13873 ফণীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই; গুজরাট উপকূলে আরও একবার তান্ডব শুরু করতে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ূ’। বৃহষ্পতিবারের মধ্যেই কচ্ছে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা।

কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন; শনিবারের মধ্যেই দিক পরিবর্তন করতে পারে ‘বায়ু’। তিনি জানান, সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে বায়ুর। এরই মধ্যে শুক্রবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী জানিয়েছিলেন, বায়ুর অভিমুখ বদল হওয়ার কথা। নিশ্চিন্ত হয়েছিল রাজ্য; কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কয়েকঘন্টা পরেই বায়ু আবার অভিমুখ বদল করে।

অবশেষে সুর নরম, পরিবহকে দেখতে হাসপাতালে মমতা

কেন্দ্রের খবর সূত্রে জানা যাচ্ছে; বৃহষ্পতিবারে গুজরাট উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বায়ু। ঘন্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিমি হবে তার গতিবেগ। ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব এম রাজীবন বলেন, “১৬ জুন অভিমুখ বদলে ১৭ বা ১৮ জুন কচ্ছে আছড়ে পড়তে পারে বায়ু।” তবে অভিমুখ পরিবর্তন হলেও এর শক্তিক্ষয় হবে। সম্ভাবনা রয়েছে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টির; এবিষয়ে রাজ্য সরকারকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ খরার প্রকোপে বাড়ছে খাবারহীন মৃত্যুযন্ত্রণা

তবে শুরু হয়েছে এই পূর্বাভাস নিয়ে মত পার্থক্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এই পূর্বাভাসের সঙ্গে; সহমত নয় আমদাবাদ আবহাওয়া দপ্তর। তাদের মতে এই ঝড় উপকূল পর্যন্ত না এসে; শক্তিক্ষয় করে দিক পরিবর্তনও করতে পারে। সঠিক সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ হাসপাতাল কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে তলব রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর

পূর্বাভাসের মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠে; ইতিমধ্যেই গুজরাট সরকার কড়া নজর রেখেছে পরিস্থিতির দিকে। রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কচ্ছ বা সৌরাষ্ট্রে বায়ু ফিরে এলেও তা উল্লেখযোগ্য ভাবে শক্তি হারাবে। তবে তা-ও আমরা সতর্ক রয়েছি। রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় মোতায়েন থাকবে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।”

ফলে এখনও আশঙ্কা ঘনিয়ে আছে; সকলের সুস্থতা বজায় রাখতেই তৎপর গুজরাট সরকার। কি হতে চলেছে ফলাফল; সেদিকে তাকিয়ে সমগ্র দেশ। আপাতত বায়ুর প্রভাবে বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে; আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

]]>
ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় https://thenewsbangla.com/cm-mamata-banerjee-led-from-the-front-to-fight-against-cyclone-fani/ Sat, 04 May 2019 06:23:05 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=12314 শুধু বাংলা কেন; ভারতের কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কখনও এই জিনিসটা করেছেন কিনা জানা নেই। পূর্ব মেদিনীপুরে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে; নেতৃত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুদিন ভোট প্রচার বন্ধ রেখে; মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

খড়গপুরের উপকূলবর্তী এলাকায় গিয়ে; গত ২ দিন থেকে নিজে ফণীর পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষকে উদ্বেগ না-করে; সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ৪৮ ঘণ্টার জন্য যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মসুচি তিনি বাতিল করেছেন। আর এতেই মুগ্ধ রাজ্যবাসী।

আরও পড়ুনঃ কলকাতাকে ফণীর হাত থেকে বাঁচাল কলকাতা নিজেই, রহস্য গরম

টুইটারে মমতা জানিয়েছিলেন, দুর্যোগের পরিস্থিতিতে সব কর্মসুচি তিনি বাতিল করেছেন। খোলা হয়েছে ২৪*৭ মনিটরিং সেল। খড়গপুরে থেকে নিজে মনিটরিং করছেন তিনি। প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাবতীয় ব্যবস্থা; নিয়ে প্রস্তুত থেকে সামনে থেকে লড়াইটা করলেন তিনি। আগে কোনদিন কোন মুখ্যমন্ত্রীকে; স্পটে গিয়ে সামনা সামনি লড়াই করতে দেখা যায়নি।

ফণীর আতঙ্কে কলকাতার মানুষ; নিজেদের ঘরবন্দি করে ফেলেছিলেন। তবে তখনই বিনিদ্র রজনী কাটালেন; কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার সারারাত পুরসভার দফতরে বসে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেন তিনি। সেইসঙ্গে দুর্যোগ মাথায় নিয়ে শহরের একপ্রাপ্ত থেকে অন্যপ্রান্ত ছুটে বেড়ালেন।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় গতিহারা ফণী, হুগলি, বর্ধমান নদিয়া হয়ে ভোরে প্রবেশ করল বাংলাদেশে

খতিয়ে দেখলেন প্রশাসনিক প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত কলকাতার দূর থেকেই ফনী বর্ধমান হয়ে বাংলাদেশে চলে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে প্রশাসন। মেয়রের এই তৎপরতা অব্যহত ছিল মধ্যরাতেও। একের পর এক বোরো অফিসে ছুটে বেড়ান তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না; সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে পৌঁছে যান পুরসভা ভবনে। সেখান থেকে খোঁজখবর নিতে থাকেন সারারাত ধরেই।

এমনকি সাধারণ মানুষ কোনও সমস্যায় পড়লে; সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিয়েছিলেন মেয়র। হোয়াটসঅ্যাপে কী খবর আসছে; প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছিলেন তিনি। এর মধ্যেই অনেক রাতে খড়গপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বেশ কয়েকবার শহরের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন বলে স্বয়ং মেয়র জানিয়েছেন। মেয়রের সঙ্গে কাঁধে কাধ মিলিয়ে সারারাত লড়লেন; বোরো চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলাররাও।

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ছাদে ফুটবলটি এখন ফণীর খবর দিচ্ছে

মমতা ও মেয়রের এই রাতজাগা লড়াইয়ে মুগ্ধ বাংলা। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে গিয়ে ঝড়ের মনিটরিং করার উদ্যোগ নিয়ে; মুখ্যমন্ত্রী অসাধারণ দৃষ্টান্তস্থাপন করলেন বলেই মনে করছে বাংলার আমজনতা।

]]>
মানুষকে বিপদে ফেলতে আসছে ফণী, ফণীর পর আসবে ঘূর্ণিঝড় বায়ু ও হিক্কা https://thenewsbangla.com/cyclone-bayu-hikka-kayar-bulbul-paban-and-amphan-after-fani/ Thu, 02 May 2019 16:27:25 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=12218 ফণীতেই বিপদের শেষ নয়। ফণীর পরেও আসবে ঘূর্ণিঝড় বায়ু। তারপর আসবে হিক্কা। ঝড় আসার আগেই ঠিক হয়ে থাকে নাম। আটটি দেশ ঘুরিয়ে ফিরিরে ঝড়ের নাম দেয়। পরের নামটি দিয়েছে ভারত। পরের সাইক্লোনটির নাম বায়ু।

ফণী নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লুএমও); আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে। এরপর যে ঘূর্ণিঝড় আসবে তার নাম দেবে ভারত। ইতিমধ্যেই তার নাম দেওয়া হয়েছে বায়ু। ফলে ফণীর পর আসবে বায়ু।

আরও পড়ুনঃ ধেয়ে আসছে ফণী, ওড়িশার পুরী গোপালপুরে তুমুল ঝড় বৃষ্টি শুরু

ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত আটটি দেশ। দেশগুলি হল; বাংলাদেশ; ভারত; পাকিস্তান; মায়ানমার; মলদ্বীপ; শ্রীলঙ্কা; থাইল্যান্ড ও ওমান। এই প্যানেলকে বলা হয়; ইকনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দা প্যাসিফিক (এএসসিএপি)।

ঝড়ের নামকরণের এই রীতি কিন্তু খুব একটা পুরনো নয়। মাত্র ২০০০ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগে ঝড়গুলোকে নানা নম্বর বা বর্ণ দিয়ে শনাক্ত করা হত। কিন্তু সে সব নম্বর সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য ছিল। ফলে সেগুলোর পূর্বাভাস দেওয়া; মানুষ বা জাহাজ বা জলযানগুলোকে সতর্ক করাও কঠিন ছিল।

আরও পড়ুনঃ ফনীর ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে গেল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ধ্বজা

২০০৪ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোতে ঝড়ের নামকরণ শুরু হয়। আটটি দেশ মিলে মোট ৬৪টি নাম প্রস্তাব করে। সে সব ঝড়ের নামের মধ্যে এখন ফণীকে বাদ দিলে আর সাতটি নাম বাকি রয়েছে।

ভারতের প্রস্তাব অনুযায়ী পরের ঝড়টির নাম হবে বায়ু। আরও ছয়টি ঝড় এখনও নামের তালিকায় রয়েছে। সেগুলো হল হিক্কা; কায়ার; মাহা; বুলবুল; পবন এবং আম্ফান। এই নাম ফুরিয়ে গেলে আবার বৈঠকে বসে নতুন নামকরণ শুরু হবে।

আরও পড়ুনঃ স্কুলে ছুটি কত দিনের, নবান্নের ঘোষণায় গোটা বাংলার শিক্ষা জগতে আলোড়ন

আরও সাতটি ঝড়ের পর বাংলাদেশ ফের চারটি ঝড়ের নাম দেবে। ভারতের পক্ষে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তাবিত নাম হল অগ্নি; আকাশ; বিজলি; পানি; লহর; মেঘ; সাগর

এর আগে থেকেই ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়া এলাকায় ঝড়ের নামকরণ করা হত। ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা হলেও অতলান্তিক মহাসাগরীয় এলাকায়; ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় হারিকেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বলা হয় টাইফুন।

ফলে বলাই যায় একের পর এক ঘূর্ণিঝড়; নতুন কিছু নামের সঙ্গে এসেই যাবে। ফণীর পর আসছে বায়ু। তারপর আসবে হিক্কা।

]]>
EXCLUSIVE VDO অদ্ভুত ধুলোর ঝড় দেখল বাংলার স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা https://thenewsbangla.com/vairal-vdo-small-cyclone-watched-by-school-students-teachers-of-bengal/ Wed, 03 Apr 2019 13:31:07 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9877 অভূতপূর্ব ধুলোর ঝড় ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার ইন্দাস হাই স্কুলে। আগে কোনদিন এই ধরণের ঝড় দেখে নি ছাত্র ছাত্রীরা। আর সেই ঝড়ের ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ‘ভাইরাল’। দেখুন সেই ভাইরাল ভিডিও র প্রথমটা।

অদ্ভুত ধুলোর ঝড়ঃ

আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে গান্ধী ও বাংলায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারতন্ত্রকে ব্রিগেডে খোঁচা মোদীর

ইন্দাস হাই স্কুল সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২ টো নাগাদ স্কুলের খেলার মাঠে একটি ঘূর্ণি ঝড়ের সৃষ্টি হয়। যা সব ধুলো এক জায়গায় জড়ো করে পুরো মাঠ জুড়েই ঘুরতে থাকে। ১০০ মিটারের উপর উচ্চতা ও ১২-১৫ মিটার ব্যাসার্ধের প্রায় দশ মিনিট ধরে চলা এই ধুলি ঝড়ে পুরো এলাকা ধুলোয় ভরে যায়।

অদ্ভুত ধুলোর ঝড়ঃ

এই ঘটনায় স্কুল ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অতি উৎসাহী কয়েকজন শিক্ষক এই ঘটনা মোবাইল বন্দী করে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ারও করেন। তার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠেছে এই ধুলি ঝড়। তবে এই ঘটনায় কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই বলেই ইন্দাস হাই স্কুল সূত্রে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় উন্নতিতে বাধা ‘স্পীডব্রেকার’ মমতা, কটাক্ষ মোদীর

ইন্দাস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহদেব মণ্ডল বলেন, এই ধরণের ঘটনা আমি এই প্রথম দেখলাম। ঐ ঘটনার সময় কোন ছাত্র ছাত্রীকে নিরাপত্তার কারণে বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত গরমের কারণে এই ধরণের ধুলি ঝড় হলেও হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এই ঘটনার পিছনে আসল রহস্য কি তা আবহাওয়াবিদরাই বলতে পারবেন বলেই তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যে ৩০ শতাংশেরও কম স্পর্শকাতর বুথ

তবে এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। আর দারুণ ভাইরাল হয়েছে এই দুটি ভিডিও। ভবিষ্যতে কি বড় ধরণের সাইক্লোন আসছে বাংলায়? উঠে গেছে প্রশ্ন।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
দিক বদলে বাংলায় ঢুকছে তিতলি, দুর্গাপুজোয় আশঙ্কার ছায়া https://thenewsbangla.com/cyclone-titali-is-on-the-way-to-bengal-feared-rain-in-durga-puja/ Thu, 11 Oct 2018 10:41:13 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1039 নিজস্ব সংবাদদাতা : তিতলি, এই নামটাই এখন দুর্গা পুজোর মুখে মানুষের চিন্তার কারন। পুজোর আনন্দ মাটি করে দেবে না তো ? তবে, কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে খুব বেশি হলে আর ২ দিন বৃষ্টি হবে। ষষ্ঠীর অনেক আগেই সব দুর্যোগ কেটে যাবে বলেই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড় তিতলির অভিমুখ রয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় তিতলি অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। কিন্তু, গত কয়েক ঘণ্টায় আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে তিতলি। যার ফলে আবহাওয়াবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। মনে করা হচ্ছে, এভাবে অগ্রসর হলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেই আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। সেক্ষেত্রে অপেক্ষা রয়েছে প্রবল দুর্যোগ। ঝড় বৃষ্টির কারণে মাটি হতে চলেছে পুজোর ঠিক আগে পুজোর কেনাকাটা।

ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পর তিতলির প্রধান অভিমুখ এবার বাংলা। হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করে বাংলা উপকূলের দিকেই আসছে তিতলি। ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি হয়েছে দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমনি সহ বাংলা উপকূলে। আগামী কয়েক দিনেও হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। তবে, তিতলি ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হচ্ছে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

ঝড় বৃষ্টি কতদিন চলবে সেটাই এখন মানুষের বড় প্রশ্ন। পুজোর বাজার, পুজোর কেনাকেটাতে তো সমস্যা হবেই। কিন্তু, পুজোর কদিন ঠাকুর দেখতে বেরোব কিভাবে সেটাও বড় প্রশ্ন মানুষের। এমনিতেই, পুজোর আয়োজকরা পড়েছেন সমস্যায়। শেষ মুহূর্তের কাজের সময় বৃষ্টি এতটা সমস্যায় ফেলবে ভাবেন নি উদ্যোক্তারা।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বৃহস্পতিবার ভোরেই শক্তিশালী তিতলি ঝড় আছড়ে পড়েছে ৷ ওড়িশা উপকূলের গঞ্জাম জেলার গোপালপুরে ও অন্ধ্র উপকূলের পালসায় ভয়ঙ্কর ঘূর্ণীঝড় আছড়ে পড়ে৷ সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ১৩০-১৪০ কিমি বেগে ঝড় শুরু হয়েছে। দুই রাজ্য উপকূল থেকে প্রায় ১০,০০০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হয়েছে এখনও পর্যন্ত।

ইতিমধেই বঙ্গোপসাগরের উত্তর ভাগ ও ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে সবচেয়ে তীব্র হয়েছে তিতলির আক্রমণ। অন্যদিকে, ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে এর তীব্রতা রয়েছে ১২০-১৩০ কিলোমিটার মতো। তবে, তিতলি ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হচ্ছে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বাংলা উপকূলের দিকে অভিমুখ পরিবর্তন করায় বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তিতলির জেরে কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৷ জানিয়েছে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

উপগ্রহ চিত্র পর্যবেক্ষণ করে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই আরও শক্তি বাড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। শেষ কয়েক ঘণ্টায় উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে এই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। আর এর ফলে জোরালো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তিতলির আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে এখবর জানা গেছে।

পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি আর বাড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ঝড়ের দাপট থাকবে কম। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ইতিমধ্যেই দিঘা সহ সব উপকূলেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে পর্যটকদের। সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদেরও। মাইকিং করে সতর্কতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

তবে সব ঝড় বৃষ্টি, ষষ্ঠীর আগে থেমে যাবে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও সেটা খুব একটা আশ্বস্ত করছে না বাঙালিদের। পুজোতেও তিতলির প্রভাবে বৃষ্টি হবে, এটাই আশঙ্কায় রেখেছে পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে আপামর বাঙালিকে।

]]>
পথ পরিবর্তন করে বাংলার দিকেই ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি https://thenewsbangla.com/cyclone-titali-is-changing-the-way-towards-bengal/ Thu, 11 Oct 2018 07:23:30 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1013 নিজস্ব সংবাদদাতা : ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পর তিতলির প্রধান অভিমুখ এবার বাংলা। হঠাৎই গতিপথ পরিবর্তন করে বাংলা উপকূলের দিকেই আসছে তিতলি। ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি হয়েছে দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমনি সহ বাংলা উপকূলে। হালকা থেকে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়।

প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান অভিমুখ রয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় তিতলি অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা।

কিন্তু, গত কয়েক ঘণ্টায় উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে তিতলি। যার ফলেই আবহাওয়াবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। মনে করা হচ্ছে, এভাবে অগ্রসর হলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেই আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। সেক্ষেত্রে অপেক্ষা করে রয়েছে প্রবল দুর্যোগ। তবে, ঝড়ের চেয়ে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ভোরেই শক্তিশালী তিতলি ঝড় আছড়ে পড়ে৷ ওড়িশা উপকূলের গঞ্জাম জেলার গোপালপুরে ও অন্ধ্র উপকূলের পালসায় ভয়ঙ্কর ঘূর্ণীঝড় আছড়ে পড়ে৷ সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ১৩০-১৪০ কিমি বেগে ঝড় শুরু হয়েছে। দুই রাজ্য উপকূল থেকে প্রায় ১০,০০০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে এখনও পর্যন্ত।

১১ তারিখ সকালেই অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলে তিতলির আছড়ে পড়ার পূর্বাভাষ দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছিল, ১৪০-১৫০ কিলোমেটার বেগে বইবে ঝড়ো হাওয়া। সেই আশঙ্কা সত্যি করেই আসছে তিতলি। হাওয়ার বেগ আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতিমধেই বঙ্গোপসাগরের উত্তর ভাগ ও ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে সবচেয়ে তীব্র হয়েছে তিতলির আক্রমণ। অন্যদিকে, ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে এর তীব্রতা রয়েছে ১০০-১২০ কিলোমিটার মতো।

বাংলা উপকূলের দিকে অভিমুখ পরিবর্তন করায় বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তিতলির জেরে কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে৷ জানিয়েছে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়ে এই ভয়ানক ঝড়। আগেই ওড়িশা জুড়ে ভারী সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ওড়িশা জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

উপগ্রহ চিত্র পর্যবেক্ষণ করে জানা যাচ্ছে, কিছুটা হলেও ইতিমধ্যেই শক্তি হারিয়েছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। শেষ কয়েক ঘণ্টায় উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। আর এর ফলে জোরালো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তিতলির আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে এখবর জানা গেছে।

পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি আর বাড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ঝড়ের দাপট কম থাকবে বলেই মনে করছে হাওয়া অফিস। তবে, ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ইতিমধ্যেই দিঘা সহ সব উপকূলেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে পর্যটকদের। সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদেরও। মাইকিং করে সতর্কতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জরুরি বৈঠক করেছেন তিতলি এফেক্ট নিয়ে। দুই রাজ্যের তরফেই প্রশাসনিক স্তরে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীরা। জরুরিকালীন অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন অফিসারদের। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশাসনিক স্তরে সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

]]>