Boroma Binapani Devi – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Fri, 08 Mar 2019 03:47:36 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Boroma Binapani Devi – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 মরে গিয়েও তৃণমূল বিজেপির হাত থেকে রেহাই পেলেন না বড়মা https://thenewsbangla.com/boroma-binapani-devi-cant-escape-after-death-from-the-hands-of-tmc-bjp/ Thu, 07 Mar 2019 18:27:26 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7785 একেই বলে বাংলার রাজনীতি। যেখানে বেঁচে থাকা মানুষের চেয়েও কখনও মৃতদেহ অনেক দামি হয়ে ওঠে। ঠিক সেটাই আবার হল মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর সঙ্গেও। মরে গিয়েও তৃণমূল বিজেপির হাত থেকে রেহাই পেলেন না বড়মা। টানাটানি চলল তাঁর নশ্বর দেহ ঘিরে।

দুই বাংলার মতুয়ারা মাতৃহারা হয়েছেন। ভারত ও বাংলাদেশের একেশ্বরবাদী মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবী মঙ্গলবার রাত ৮টা ৫২মিনিট নাগাদ চলে গেছেন না ফেরার দেশে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার রাতেই তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন ডাক্তাররা। বড়মার মৃত্যুতে দুই বাংলার মতুয়া সমাজে শোকের ছায়া। শোকের মধ্যেই তীব্র রাজনীতি তৃণমূল বিজেপির।

আরও পড়ুনঃ দুই বাংলার মতুয়ারা মাতৃহারা হলেন

এতদিন বড়মা বীণাপাণি দেবী ছিলেন তৃণমূলের একচেটিয়া। গত ২ ফেব্রয়ারি ঠাকুরনগরের বড়মার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর থেকেই বেড়ে যায় লড়াই। বড়মা তথা মতুয়া ভোট পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণের বড়সড় প্রভাব ফলতে পারে। সে কারণেই রাজ্যের প্রধান দুটি দলই চায় মতুয়ারা তাদের সঙ্গে থাকুন। এর জেরেই মরার পরেও তৃণমূল বিজেপির হাত থেকে রেহাই পেলেন না বড়মা।

মতুয়া সম্প্রাদায়ের বড়মা বীণাপাণিদেবীর মৃত্যুতে ঠাকুর পরিবারের রাজনৈতিক বিভাজনের চিত্র একেবারে প্রকাশ্যে চলে এল। বড়মা-র শেষকৃত্য নিয়ে দুদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে চলল চরম কাদা ছোড়াছুড়ি। চিৎকার, চেঁচামেচি, উত্তেজনা, ঠেলাঠেলি, খুনের অভিযোগ কিছুই বাদ গেল না এই পর্বে।

আরও পড়ুনঃ এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের অ্যাসিড আক্রান্তরা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বীণাপাণিদেবীর মৃত্যু থেকে দাহ ঘিরে যা যা ঘটল, সেই ঘটনা পরাম্পরার একটাই উদ্দেশ্য মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বঁনগা লোকসভা আসন দখলের যে লড়াই হতে চলেছে, তারই একটা ঝলক দেখা গেল বৃহস্পতিবার ঠাকুরবাড়িতে। বিগত দুদিন ধরে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী-নেতারা মাটি আঁকড়ে পড়ে রইলেন, তেমনি মুহূর্তের জন্য ময়দান ছাড়ল না বিজেপি নেতৃত্বও।

বড়মার পরিবার এখন তৃণমূল-বিজেপির টানাটানিতে বিভক্ত। ঠাকুর পরিবারের নানা সদস্যের নেতৃত্বেই বিভাজিত হয়ে গিয়েছে সাধারন মতুয়াদের একটা বড় অংশ। তবে এসবের মধ্যেও অনেকেই আবার বড়মার মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতির বিরোধিতাও করেছেন সরবে। এই ‘লাশের রাজনীতি’ নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ ঠাকুরনগরের বাসিন্দারাও।

আরও পড়ুনঃ ডিএ মামলায় হাইকোর্টে ফের মুখ পুড়ল রাজ্য সরকারের

দাহকার্যের সময় একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মন্ত্রী সুজিত বসু, সাংসদ ইদ্রিশ আলি, নির্মল ঘোষ হাজির ছিলেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতা মুকুল রায়, রাহুল সিনহারাও এসেছেন ঠাকুরবাড়িতে। কর্মী সমর্থকদের মধ্যেও চলল চিৎকার, চেঁচামেচি, উত্তেজনা, ঠেলাঠেলি। লাশের রাজনীতি কেমন করে করতে হয় বোঝাল লক্ষ্মীবারের ঠাকুরবাড়ি।

বড়মার মৃত্যুর পর চরম রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির সাক্ষী রয়ে গেল গাইঘাটার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি। মৃতদেহ নিয়ে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানিতে বিলম্বতি হল বড়মার শেষকৃত্যও। প্রথম থেকেই এলাকা জুড়ে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। রাজ্য সরকার গান স্যালুট দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। অন্যদিকে ফের মৃত্যু রহস্যজনক দাবি তুলে সাড়া ফেলে দিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর।

আরও পড়ুনঃ মতুয়াদের বড়মার মৃত্যু রহস্যজনক, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ইতিমধ্যে ঠাকুর পরিবারের উত্তরাধিকার নিয়ে টানাপোড়েনও শুরু হয়ে গিয়েছে। যারা নাগরিকত্ব দেবে তাদের পাশেই থাকবে মতুয়ারা, এই স্লোগানও উঠেছে ঠাকুরবাড়ির অন্দরে। কোন দল ভেকধারী সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকেই। এভাবেই একদিকে বড়মার মৃতদেহ, আর অন্যদিকে দুদল ‘রাজনৈতিক মতুয়া’ ভক্তদের নির্লজ্জ ঝগড়ার সাক্ষী থাকল ঠাকুরনগর।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এদিন বলেন, “এই রাজনীতি একেবারে কাম্য নয়। ঠাকুরপরিবারের সদস্যদের উচিত একসঙ্গে বসে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া। বড়মা জীবন্ত ঠাকুর ছিলেন”। বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, “ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বড়মা ডাক দিলেই আমি এখানে চলে আসতাম। আমার সাংসদ কোটার টাকা এখানকার উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছিল”।

এবারও এই লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হচ্ছেন গতবারের সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরই। আর বিজেপির প্রার্থী হওয়ার কথা রয়েছে ওই পরিবারের বড়মার নাতি শান্তনু ঠাকুরের। লোকসভা দখলের লড়াই এর আগেই বড়মার মৃতদেহ দখলের লড়াই দেখে নিল গোটা রাজ্য।

]]>
দুই বাংলার মতুয়ারা মাতৃহারা হলেন https://thenewsbangla.com/matua-community-head-boroma-binapani-devi-died-at-sskm-hospital/ Tue, 05 Mar 2019 16:18:19 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7598 দুই বাংলার মতুয়ারা মাতৃহারা হলেন। ভারত ও বাংলাদেশের একেশ্বরবাদী মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবী মঙ্গলবার রাতে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার রাতে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন ডাক্তাররা। মঙ্গলবার রাতে প্রয়াত হলেন বড়মা। দুই বাংলার মতুয়া সমাজে শোকের ছায়া।

বীণাপাণি দেবী ভর্তি ছিলেন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। গত কিছুদিন থেকেই ফুসফুসে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন ১০১ বছর বয়সী বড়মা। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় রবিবার তাঁকে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর চিকিৎসায় গঠিত হয় মেডিক্যাল বোর্ড। চিকিৎসকরা সর্বক্ষণ তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছিলেন। কিন্তু সব আশা ব্যর্থ করে চলে গেলেন বড়মা। গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মতুয়া হিন্দুধর্মীয় একটি লোকসম্প্রদায়। গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দি নিবাসী হরিচাঁদ ঠাকুর প্রেমভক্তিরূপ সাধনধারাকে প্রচার করার জন্য যে সহজ সাধনপদ্ধতি প্রবর্তন করেন, তাকে বলা হয় ‘মতুয়াবাদ’। এই মতবাদের অনুসারীরাই ‘মতুয়া’ নামে পরিচিত। মতুয়া সম্প্রদায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। তারা বৈদিক ক্রিয়া-কর্মে আস্থাশীল নয়। তাদের ভজন-সাধনের মাধ্যম হচ্ছে নাম সংকীর্তন। তাদের বিশ্বাস ভক্তিতেই মুক্তি। এই সাধনপদ্ধতির মাধ্যমে সত্যদর্শন অর্থাৎ ঈশ্বরলাভই তাদের মূল লক্ষ্য।

গতবছরেই ঠাকুরনগর ঠাকুর বাড়িতে মতুয়াদের বড়মা বীণাপাণি দেবীর জন্ম শতবর্ষ উদযাপন করে তৃণমূল কংগ্রেস। মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান উপদেষ্টা বীণাপানি দেবীকে বঙ্গবিভুষণ সম্মানে সম্মানিত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রয়াণে মাথার ওপর ছাদ হারালেন রাজ্যের অসংখ্য মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

বড়মার জন্ম বরিশালের জব্দকাঠিতে। ১৯৩৩ সালে বিয়ে হয় ফরিদপুরের ওড়াকান্দির প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের সঙ্গে। মতুয়া মহাসংঘের প্রতিষ্ঠাতা হরিচাঁদ ঠাকুরের বংশধর প্রমথরঞ্জন ঠাকুর। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে মতুয়ার নানা কাজের সঙ্গে যু্ক্ত হয়ে পড়েন বীণাপাণি ঠাকুর। স্বাধীনতার লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন প্রমথরঞ্জন ঠাকুর। দেশ স্বাধীনের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন বীণাপাণি দেবীও।

১৯৪৭-এ দেশ স্বাধীন হয়। সেই সঙ্গে হল দেশভাগও। বড় ছেলে কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর ও পরিবারের সকলকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে এলেন বীণাপাণি দেবী। চব্বিশ পরগনায় উদ্বাস্তু কলোনি গড়ে তুললেন। নাম হল ঠাকুরনগর। এখান থেকেই ক্রমে ছড়াতে থাকে মতুয়াদের মহাসঙ্ঘের কাজকর্ম।

১৯৯০ সালে স্বামী প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের মৃত্যুর পর মতুয়া মহাসংঘের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বীণাপাণি ঠাকুর। হয়ে ওঠেন মতুয়াদের বড়মা। মতুয়াদের মাথার উপর ছাদ হয়ে দাঁড়ান তিনি। নানা বিপদে তিনিই হয়ে ওঠেন আশ্রয়, ভরসা। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। কিন্তু বয়স বাড়ছিল। ক্রমে বার্ধক্যজনিত সমস্যাও বাড়ছিল।

বড় ছেলে কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরকেই বেছে নিলেন তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে। ছোট ছেলে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। ২০১৪ তে মারা যান কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। বড় ছেলের পরিবার যখন তৃণমূলে, তখন ছোটছেলে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। রাজনীতিতে এসেছেন মমতাবালা ঠাকুর। বেড়েছে দুই ঘরের দূরত্ব। দুই রাজনীতির মানুষের মধ্যে ভাগ হয়ে গেলেন বড়মা। তবুও বড়মা ছিলেন সবার।

২০১৮র দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে জন্মশতবর্ষ পালন করা হল বীণাপাণি ঠাকুরের। ২০১৮-র ১৫ নভেম্বর, তাঁকে বিশেষ বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে এই রাজ্যে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেখা করলেন বড়মার সঙ্গে।

শতবর্ষ পালন করা বীণাপাণি দেবীর শারীরিক অবস্থার ক্রমে অবনতি হতে থাকল। বাড়ছিল শ্বাসকষ্ট। ফু্সফুসে জল। হাসপাতালে ভরতি করা হল বড়মাকে। সারা জীবন লড়াই করে যাওয়া বড়মা লড়লেন। কিন্তু এবারের লড়াইয়ে হার স্বীকার করতে হল। মাথার উপর ছাদ হারাল কয়েক হাজার মতুয়া সদস্য। তিনি ছিলেন মতুয়াদের বড়মা। শুধু এপাড় বাংলা নয়, তাঁর মৃত্যুতে আজ চোখের জল ফেলছে ওপাড় বাংলাও।

]]>