BJP Rath Jatra – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 20 Dec 2018 10:33:12 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg BJP Rath Jatra – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 মোদীর গেরুয়া রথকে আটকাতে পারল না মমতার সরকার https://thenewsbangla.com/mamatas-government-did-not-stop-modis-geruya-rath/ Thu, 20 Dec 2018 09:11:57 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=4513 The News বাংলা, কলকাতাঃ মোদীর গেরুয়া রথকে আটকাতে পারল না মমতার সরকার। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে হার রাজ্য সরকারের। শর্তসাপেক্ষে রথ যাত্রার অনুমতি দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী। রায়ের পরই বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বাংলায় রথ যাত্রার উদ্বোধন করবেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ’।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষিতদের বিধায়ক করল তেলাঙ্গানা, কবে শিখবে বাংলা

গেরুয়া রথ নিয়ে বৃহস্পতিবার ফের লড়াই শুরু হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে। আবার সম্মুখ সমরে নামে বঙ্গ বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। সোমবার, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ বা ‘রথ যাত্রা’র পক্ষে এবং বিপক্ষে দুটি মামলায় হয় সিঙ্গেল বেঞ্চ এবং ডিভিশন বেঞ্চে। দুই বিচারপতির উপর নির্ভর করছিল যে বিজেপির এই রথযাত্রা আদৌ বাংলায় চালতে পারবে কিনা। দুই বিচারপতির কাছেই আজ জিত হয়েছে বিজেপির।

আরও পড়ুনঃ মঙ্গলবার হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ঘরে বাংলায় ‘গেরুয়া রথ’ এর ভবিষ্যৎ

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি, বিজেপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারপর রাজ্যের সিদ্ধান্ত জানাবেন। বৈঠকের পরই নবান্ন থেকে রথ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয় নি। তারই বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চে মামলা করে বিজেপি।

আরও পড়ুনঃ নেতাদের গুন্ডা পোষা না গুন্ডাদের নেতা হওয়া, প্রকাশ্যে বন্দুকবাজির কারন কি

আজ বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী রাজ্যের রথ অনুমতি না দেওয়া বাতিল করে শর্তসাপেক্ষে রথ যাত্রার অনুমতি দিলেন। এর ফলে বিজেপির রথকে বাংলায় চলা থেকে আর আটকাতে পারছে না মা মাটি মানুষের সরকার। তবে সিঙ্গেল বেঞ্চে এই রায়ের পর ফের কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা নিয়ে যেতে চলছে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: কলকাতা থেকে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের টাকা যাচ্ছে জঙ্গিদের হাতে

হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর এই সিদ্ধান্ত, ‘রাজ্য সরকারের গালে একটা থাপ্পড়’ বলেছেন বিজেপি নেতারা। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি পাবার পরই বিজেপির তরফ থেকে রাজ্য জুড়ে ৫টি রথ বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ শহীদ জওয়ানকে সম্মান নয়, সেনাকে পাথর ছুঁড়ে দেশদ্রোহীরাই ভারতে ‘নায়ক’

অন্যদিকে, প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে এই ‘রথ যাত্রা’ বন্ধ করতে চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী রমাপ্রসাদ সরকার। তার বক্তব্য ছিল, এই ‘রথ যাত্রা’র ফলে রাজ্যের আইন শৃংখলার অবনতি ঘটতে পারে। পাশাপাশি জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষকে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। এই মামলাও আজ খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে জোড়া মামলায় সিঙ্গেল ও ডিভিশন বেঞ্চে জয় পেল বিজেপির রথ।

আরও পড়ুনঃ ‘কৃষি ঋণ মকুব’, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের

গত বৃহস্পতিবার লালবাজারে বৈঠক শেষে, নবান্ন ‘রথ যাত্রা’র অনুমতি দেয় নি। নবান্ন জানায়, ‘গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে কয়েকটি জেলায় আরএসএস, বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মত উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই যাত্রায় যোগ দেবে। সে ক্ষেত্রে রথযাত্রার সময়ে এবং পরবর্তীকালে শান্তিভঙ্গের গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে’। এর প্রমাণে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দাদের ৩১ টি রিপোর্ট কোর্টে জমা দিয়েছিল রাজ্য। তবে, সবকিছুই খারিজ করে রথযাত্রার অনুমতি দিল আদালত।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: ডাক্তারের প্রোফাইল হ্যাক করে মহিলাদের ন্যুড ভিডিও পাঠাল ইঞ্জিনিয়ার

তবে, বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে রথ যাত্রার অনুমতি দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী। রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে তা ক্ষতিপূরণ করতে হবে বিজেপিকেই। কোন রকম আইন শৃঙ্খলা অবনতি হলে দায়ী থাকবে বিজেপি।

আরও পড়ুনঃ ‘ইন্দিরা গান্ধী ভারতে এমারজেন্সি লাগু করেছিলেন, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’

আরও বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে আদালত। রথ যাত্রার ১২ ঘণ্টা আগে জানাতে হবে প্রশাসনকে। যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটান যাবে না। রাজ্যকেও উপযুক্ত পুলিশি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী।

পড়ুন হাড়হিম করা অদ্ভুত সত্য গল্প:
পড়ুন প্রথম পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা
পড়ুন দ্বিতীয় পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা
পড়ুন তৃতীয় ও শেষ পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

]]>
কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর ‘রথ যাত্রা’ আটকালেন মমতা https://thenewsbangla.com/mamata-win-modis-rath-yatra-do-not-get-permission-from-kolkata-high-court/ Thu, 06 Dec 2018 11:26:08 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3592 The News বাংলা, কলকাতা: মমতার কাছে ‘গোহারা’ হেরে গেলেন মোদী। রাজ্য সরকার না করে দেবার পরে বিজেপির ‘রথ যাত্রা’য় অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্টও। ফের একবার আদালতের লড়াইয়ে জিতল মা মাটি মানুষের সরকার। আগামী ৯ তারিখ পর্যন্ত কোন ‘রথ যাত্রা’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ করা যাবে না বলেই রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকার অনুমতি দেয় নি। বৃহস্পতিবারই আদালতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোচবিহারে বিজেপির ‘রথ যাত্রা’য় পরিষ্কার না বলে দেওয়া হয়। নরেন্দ্র মোদীর ‘রথ যাত্রা’র অনুমতি পেতে বিজেপির শেষ ভরসা ছিল সেই কলকাতা হাইকোর্টই। বলাই যায়, বিজেপির রথের দড়ি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের হাতে। সেই দড়ি আদালত এখন তুলে দিল রাজ্য সরকারের হাতেই।

কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর 'রথ যাত্রা' আটকালেন মমতা/The News বাংলা
কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর ‘রথ যাত্রা’ আটকালেন মমতা/The News বাংলা

বিজেপির ‘রথ যাত্রা’ শুরু করার অনুমতি দেয় নি রাজ্য সরকার, আজ জানিয়ে দেয় কলকাতা হাইকোর্টে। আগামীকাল শুক্রবার, ৭ তারিখ কোচবিহার থেকে বিজেপির ‘রথ যাত্রা’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ শুরুর কথা। তবে সেই যাত্রা শুরু করতে পারবে কিনা সেই নিয়েই ছিল প্রশ্ন। রাজ্যকে এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। রাজ্য সরকার না করে দেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তই বহাল রাখল আদালত। আগামী ৯ তারিখ পর্যন্ত কোন রথযাত্রা নয়, নির্দেশ আদালতের।

আরও পড়ুন: মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে

প্রথম থেকেই বিজেপির ‘রথযাত্রা’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’র অনুমতি দেয়নি রাজ্য সরকার। আবার ‘রথযাত্রা’ করা যাবে না এমনটাও প্রথমে জানানো হয়নি রাজ্যের তরফে। তাই ‘রথযাত্রা’র বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন ‘নীরব’ এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য বিজেপি। বিজেপির তরফে প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগে এবং এবিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার।

কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর 'রথ যাত্রা' আটকালেন মমতা/The News বাংলা
কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর ‘রথ যাত্রা’ আটকালেন মমতা/The News বাংলা

মামলার শুনানিতে বিজেপির আইনজীবী সপ্তাংশু বসু ও অনিন্দ্য মিত্র জানিয়েছিলেন,’আসন্ন বিজেপির ‘রথ যাত্রা’ অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় প্রচুর মানুষের সমাগম হবে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। তা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন এখনও কেন নিশ্চুপ? তাঁরা আদালতে আরও জানিয়েছিলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তাও জানাচ্ছে না সরকার। এর আগেও একাধিকবার রাজ্য প্রশাসন এই কাজ করেছে’।

আরও পড়ুন: মমতার পদে ইস্তফা, বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় কেপিপি সভাপতি

শুক্রবার ৭ ডিসেম্বর কোচবিহার থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বিজেপির প্রথম রথ। দ্বিতীয় রথটি কাকদ্বীপ থেকে যাত্রা শুরু করবে ৯ তারিখ। তৃতীয় রথের যাত্রা তারাপীঠ থেকে শুরু হওয়ার ১৪ ডিসেম্বর। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তিনটি রথের উদ্বোধনেই হাজির থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। শুধু তাই নয় ‘রথযাত্রা’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ চলাকালীন বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি জনসভা করবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে আদালতের এই রায়ের পর, কি করবেন বিজেপি নেতারা সেটাই এখন প্রশ্ন।

কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর 'রথ যাত্রা' আটকালেন মমতা/The News বাংলা
কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর ‘রথ যাত্রা’ আটকালেন মমতা/The News বাংলা

এর পরিপেক্ষিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘রথযাত্রায় অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রথমে ডিজি তারপর আইজিকে জানানো হয়। তারপরও কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি? রথযাত্রার অনুমতি নিয়ে স্বয়ং রাজ্যপালও প্রশাসনের কাছে জানতে চান। তাঁকেও কিছু জানানো হয়নি’।

উত্তরে এজি বলেন, ‘ওরা ডিজি, আইজির কাছে অনুমতি চায়, তারা যথাযত কর্তৃপক্ষ নন যে অনুমতি দেবেন। আর রাজ্যপালের সাংবিধানিক অধিকার নেই যে এবিষয় হস্তক্ষেপ করবেন’।

আরও পড়ুন: ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’র মধ্যেই শিলিগুড়িতে প্রথম জনসভা নরেন্দ্র মোদীর

এজির উত্তর শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। মন্তব্য করেন, ‘ডিজি, আইজি সেকথা জানাতে পারতেন যে কোথায় অনুমতি নিতে হবে। এজির উদ্দেশ্যে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলই তো মিছিল করবে, বারবার আদালত কেন সব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করবে? এই সব সমস্যা সমাধানের কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকার। আপনারা আপনাদের সমস্যার সমাধান করুন’।

কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর 'রথ যাত্রা' আটকালেন মমতা/The News বাংলা
কলকাতা হাইকোর্টে জিতে মোদীর ‘রথ যাত্রা’ আটকালেন মমতা/The News বাংলা

বিচারপতির এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে কিশোরবাবু জানান, ‘আমরা জানি না কত মানুষ আসবেন এখানে? বিজেপির কোন কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন? তিনি কী ক্যাটেগরি নিরাপত্তা পান? সব জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে বসতে হবে’। শেষ পর্যন্ত কোচবিহারের পুলিশ সুপার এই যাত্রা নাকচ করে দিয়েছেন বলে আদালতে বৃহস্পতিবার শুরুতেই জানিয়ে দেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত।

এরপরই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী নিজের রায় শুনিয়ে দেন। আদালত বিজেপিকে এই যাত্রার অনুমতি না দেওয়ায় মুখ পুড়ল বিজেপির। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ আপাতত বিশ বাঁও জলে। ফের আদালতের লড়াই এ জয় হল মমতার রাজ্য সরকারের। ‘লোকসভা ভোটের আগেই কলকাতা হাইকোর্টে মমতার কাছে হারলেন মোদী’, বলছেন তৃণমূল নেতারা।

]]>
‘জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা’ শুভেন্দু অধিকারী https://thenewsbangla.com/its-not-jagannaths-rath-yatra-its-enjoyment-jatra-said-suvendu-adhikari-on-bjps-rath-jatra/ Thu, 06 Dec 2018 09:41:28 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3596 The News বাংলা, হলদিয়াঃ ‘জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা’। এবার বিজেপির রথ যাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সকালে হলদিয়া শহরে দিলীপ ঘোষদের এই ভাষাতেই কটাক্ষ শুভেন্দুর অধিকারীর।

'জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা' শুভেন্দু অধিকারী/The News বাংলা
‘জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা’ শুভেন্দু অধিকারী/The News বাংলা

বাবরি কাণ্ডের সমালোচনায় শান্তি রক্ষার্থে, বৃহস্পতিবার সকালে হলদিয়া শহর তৃণমূলের আয়োজনে হলদিয়ার ব্রজলালচকে সম্প্রীতির পদয়াত্রা ও সভার আয়োজন করা হয়। সেই পদযাত্রা ও সভায় যোগদান করেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারী।

আরও পড়ুনঃ মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে

নিজের ভাষণে তিনি বলেন, ‘এই সময় কি রথ বের হয়। তাছাড়া যারা এই রথ বের করেছেন সেই দলের রাজ্য সভাপতি বলছে, মারলে আহত হলে তো ৬ মাস হাসপাতালে থাকে, একেবারে ফিনিশ করে দাও। আর একজন মহিলা বলছে রথের সামনে পড়লেই পিষে দিয়ে চলে যাবো’।

'জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা' শুভেন্দু অধিকারী/The News বাংলা
‘জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা’ শুভেন্দু অধিকারী/The News বাংলা

রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারী আরও বলেন, ‘ওরা জানেই না রথের ইতিহাস। আমরা মেদিনীপুরের মানুষ, পাশেই উড়িষ্যা, আমরা একসময় উড়িষ্যা সঙ্গেই ছিলাম। আমরা প্রভু জগন্নাথকে জানি। প্রথমে থাকে বলরাম, তাকে গৌরবের প্রতীক বলা হয়। তার পরে থাকে বোন শুভদ্রা ও তার পরে থাকে প্রভু জগন্নাথ। তাকে ঈশ্বর বলা হয়’।

আরও পড়ুনঃ আন্দোলনের এক যুগ পূর্তিতে সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা

তিনি বলেন, ‘২০৬ টি কাঠ দিয়ে তৈরি এই রথ। আর মানব দেহেও ২০৬ টি হাড় রয়েছে। এর এই জগন্নাথ শান্তির কথা বলে। আর এরা দেড় কোটি টাকা দামের উন্নতমানের এসি গাড়ি নিয়ে এসেছে। সেখানে খানা, পিনা, নাচ, গান, এসি, বাথরুম, পায়খানা, স্নান করার জায়গা, ফুর্তি করার জায়গা সব আছে। এটা জগন্নাথের রথ নয়’।

'জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা' শুভেন্দু অধিকারী/The News বাংলা
‘জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা’ শুভেন্দু অধিকারী/The News বাংলা

তিনি বলেন, বিজেপি কিছুই করিতকর্মের নয়। এই ভাবে রথকে নিয়ে প্রচারে নেমে কিছু করতে পারবে না। কারন তৃণমূল সম্প্রীতি ও ঐক্য বহন করে সবধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে উন্নয়ন করতে পারে। তিনি বলেন, ‘ওরা কিছু করতে পারবে না। কিভাবে সম্প্রীতি বজায় রাখতে হয় আমাদের জানা আছে। আমরা কাজ করে দেখাই। ভারতে বেশি করে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হোক আমরা চাই কিন্তু সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে নয়’।

আরও পড়ুনঃ মমতার পদে ইস্তফা, বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় কেপিপি সভাপতি

এদিন হলদিয়া ব্লকের হকদিয়া মেচেদা ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে ২ কিমি সম্প্রীতির পদযাত্রা হয়। সেখানে সব ধর্মের মানুষ হাতে হাত রেখে হেঁটেছেন। এদিন মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামল আদক, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মধুরিমা মন্ডল, আনন্দময় অধিকারী, হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুব্রত হাজরা সহ অন্যান্যরা।

]]>
মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে https://thenewsbangla.com/mamata-says-no-modis-chariot-rope-is-in-the-hands-of-the-kolkata-high-court/ Thu, 06 Dec 2018 06:01:26 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3581 The News বাংলা, কলকাতা: মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকার অনুমতি দিল না। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পরিষ্কার কোচবিহারে রথ যাত্রায় না বলে দেওয়া হল আদালতে। নরেন্দ্র মোদীর ‘রথ যাত্রা’র অনুমতি পেতে বিজেপির শেষ ভরসা এখন কলকাতা হাইকোর্ট। বলাই যায়, বিজেপির রথের দড়ি এখন কলকাতা হাইকোর্টের হাতে।

বিজেপির ‘রথ যাত্রা’ শুরু করার অনুমতি দিল না রাজ্য সরকার, জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টে। শুক্রবার ৭ তারিখ কোচবিহার থেকে বিজেপির ‘রথ যাত্রা’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ শুরুর কথা। তবে সেই যাত্রা শুরু করতে পারবে কিনা তা জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার। রাজ্যকে এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। রাজ্য সরকার না করে দেওয়ায় দুপুর ১২ টায় চূড়ান্ত রায় দেবে আদালত।

মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে/The News বাংলা
মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে/The News বাংলা

বিজেপির ‘রথযাত্রা’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’র অনুমতি দেয়নি রাজ্য সরকার। আবার ‘রথযাত্রা’ করা যাবে না এমনটাও প্রথমে জানানো হয়নি রাজ্যের তরফে। তাই ‘রথযাত্রা’র বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন ‘নীরব’ এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য বিজেপি। বিজেপির তরফে প্রশাসনের নিরবতার অভিযোগে এবং এবিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার।

গত শুক্রবারই বিজেপির তরফে জয়প্রকাশ মজুমদার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা দায়ের করেছেন। আজ বৃহস্পতিবারই শুনানি শেষে রথ যাত্রা নিয়ে রায় দেবার সম্ভাবনা আছে। কারন আগামীকালই রথ যাত্রা শুরুর সব প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে বিজেপি।

মামলা দায়ের করার পরে জয়প্রকাশ বলেন, ‘গত ২৯ অক্টোবর থেকে রথযাত্রার অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়ে যাচ্ছি। অথচ প্রশাসন কিছু করছে না। বিজেপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন। আমাদের আশঙ্কা, রাজ্য প্রশাসন শেষ মুহূর্তে কর্মসূচি নাকচ করে দিতে পারে। তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি’। আর ঠিক সেটাই হল। শেষ মুহূর্তে বিজেপির ‘রথযাত্রা’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’র অনুমতি দিল না মমতা সরকার।

মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে/The News বাংলা
মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে/The News বাংলা

কদিন আগে নেতাজি ইন্ডোরে দলের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘ওরা রথ করুক, আপনারা ইগনোর করুন। পাত্তা দেবেন না। পাত্তা দিলে পাত্তা পেয়ে যাবে। কেউ কোথাও কোনও গণ্ডগোলে জড়াবেন না। প্রশাসন তার কাজ করবে।’ কিন্তু তারপরেও মমতা সরকার এই ‘রথ যাত্রা’র অনুমতি দিল না।

মামলার শুনানিতে বিজেপির আইনজীবী সপ্তাংশু বসু ও অনিন্দ্য মিত্র জানান, ‘আসন্ন বিজেপির ‘রথ যাত্রা’ অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় প্রচুর মানুষের সমাগম হবে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রীরা আসছেন। তার সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন এখনও কেন নিশ্চুপ? তারা সম্মতিও জানাচ্ছে না আবার অসম্মতিও জানাচ্ছে না’।

তাঁরা আদালতে আরও জানিয়েছেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তাও জানাচ্ছে না সরকার। এর আগেও একাধিকবার রাজ্য প্রশাসন এই কাজ করেছে’।

মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে/The News বাংলা
মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে/The News বাংলা

শুক্রবার ৭ ডিসেম্বর কোচবিহার থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বিজেপির প্রথম রথ। দ্বিতীয় রথটি কাকদ্বীপ থেকে যাত্রা শুরু করবে ৯ তারিখ। তৃতীয় রথের যাত্রা তারাপীঠ থেকে শুরু হওয়ার ১৪ ডিসেম্বর। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তিনটি রথের উদ্বোধনেই হাজির থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

শুধু তাই নয় ‘রথযাত্রা’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ চলাকালীন বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি জনসভা করবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরেও রাজ্য সরকার অনুমতি পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে কোন কথা জানায় নি বলেই আদালতে জানিয়েছে বিজেপি।

এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘রথযাত্রায় অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রথমে ডিজি তারপর আইজিকে জানানো হয়। তারপরও কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি? রথযাত্রার অনুমতি নিয়ে স্বয়ং রাজ্যপালও প্রশাসনের কাছে জানতে চান। তাঁকেও কিছু জানানো হয়নি’।

উত্তরে এজি বলেন, ‘ওরা ডিজি, আইজির কাছে অনুমতি চায়, তারা যথাযত কর্তৃপক্ষ নন যে অনুমতি দেবেন। আর রাজ্যপালের সাংবিধানিক অধিকার নেই যে এবিষয় হস্তক্ষেপ করবেন’।

এজির উত্তর শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। মন্তব্য করেন, ‘ডিজি, আইজি সেকথা জানাতে পারতেন যে কোথায় অনুমতি নিতে হবে। এজির উদ্দেশ্যে বিচারপতির আরও মন্তব্য, ‘দুঃখিত এজি ! বিচারপতিরা কোন মাসিহা (দেবদূত) নন, যে প্রতিটা রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান কোর্টে করবেন’।

বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলই তো মিছিল করবে, বারবার আদালত কেন সব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করবে ? এই সব সমস্যা সমাধানের কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকার। আপনারা আপনাদের সমস্যার সমাধান করুন’।

মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে/The News বাংলা
মমতার অনুমতি নেই, মোদীর রথের দড়ি কলকাতা হাইকোর্টের হাতে/The News বাংলা

বিচারপতির এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে কিশোরবাবু জানান, ‘আমরা জানি না কত মানুষ আসবেন এখানে? বিজেপির কোন কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন? তিনি কী ক্যাটেগরি নিরাপত্তা পান? সব জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে বসতে হবে’। শেষ পর্যন্ত কোচবিহারের পুলিশ সুপার এই যাত্রা নাকচ করে দিয়েছেন বলে আদালতে বৃহস্পতিবার শুরুতেই জানিয়ে দিলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত। বেলা ১২ টায় রায় শোনাবেন বিচারপতি।

বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী কি রায় দেন সেটাই এখন দেখার। আদালত বিজেপিকে এই যাত্রার অনুমতি দিলে মুখ পুড়বে মমতার রাজ্য সরকারের। আর আদালত এই যাত্রার অনুমতি না দিলে বিজেপির এত বড় প্রস্তুতির কি হবে সেটাও প্রশ্ন। সব নজর এখন কলকাতা হাইকোর্টের দিকে।

]]>