Bharat Ratna – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Fri, 25 Jan 2019 18:56:59 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Bharat Ratna – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন https://thenewsbangla.com/pranab-mukherjee-former-president-is-seventh-bengali-to-get-bharat-ratna-award/ Fri, 25 Jan 2019 18:44:07 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6027 প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে আরও ছয়জন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন। এঁরা হলেন বিধানচন্দ্র রায় (১৯৬১), মাদার টেরিজা (১৯৮০), সত্যজিৎ রায় (১৯৯২), অরুণা আসফ আলি (১৯৯৭), পণ্ডিত রবি শংকর (১৯৯৯) ও অমর্ত্য সেন (১৯৯৯)। প্রণব মুখোপাধ্যায় হলেন সপ্তম বাঙালি যিনি ভারতরত্ন হলেন।

আরও পড়ুনঃ ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায়

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

১. ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় (১ জুলাই,১৮৮২– ১ জুলাই,১৯৬২) ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক হিসেবেও তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। কলকাতার ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ) শিক্ষকতা ও চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন ও আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানের ফেলো নির্বাচিত হন। পরে কলকাতা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন (১ জুলাই) সারা ভারতে “চিকিৎসক দিবস” রূপে পালিত হয়।

আরও পড়ুনঃ

কালামের নামে ছাত্রদের তৈরি হালকা উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে নজির ভারতের

কলেজে অধ্যাপক পিটিয়ে এগিয়ে বাংলার মুখে ফের চুনকালি দিল তৃণমূল

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

২. মাদার টেরেজ়া (আগস্ট ২৬, ১৯১০ – সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৯৭) ছিলেন একজন আলবেনিয় বংশোদ্ভুত ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসী। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি কলকাতায় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯৮০ সালে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়। ১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি দ্য মিশনারিজ অফ চ্যারিটির প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সালে পোপ ফ্রান্সিস তাঁকে ‘সন্ত’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং ক্যাথলিক গির্জায় তিনি ‘কলকাতার সন্ত টেরিজা’ হিসেবে আখ্যায়িত হন। তাঁকে বাঙালি বলেই মনে করেন সবাই।

আরও পড়ুনঃ

পিটিটিআই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ফের মুখ পুড়ল রাজ্যের

নেতাদের পর সিনেমার প্রয়োজক, চিটফান্ড দুর্নীতিতে গ্রেফতার শ্রীকান্ত মোহতা

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

৩. সত্যজিৎ রায় (২ মে, ১৯২১ – ২৩ এপ্রিল, ১৯৯২) ছিলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা। চলচ্চিত্র জগতে অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়। সত্যজিৎ রায় একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া “শ্রেষ্ঠ মানব দলিল” (Best Human Documentary) পুরস্কারটি। এছাড়াও তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তবে এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ১৯৯২ সালে পাওয়া একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার বা অস্কার। যা তিনি সমগ্র কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার, পোস্টার কংগ্রেসের

জন্মদিনে নেতাজি সুভাষের মৃত্যুদিন নিয়ে ছেলেখেলা রাহুলের কংগ্রেসের

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

৪. অরুণা আসফ আলী (১৯০৯-১৯৯৬) ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগ্রামী ও একজন সমাজকর্মী। অরুণা আসফ আলীকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালে জওহরলাল নেহরু পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৯৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্ব্বোচ্চ সম্মান ভারতরত্ন উপাধিতে সম্মানিত করে। আর ১৯৬৪ সালে তাকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় লেলিন শান্তি পুরস্কারে বিভূষিত করা হয়। সমাজে প্রগতি আর শান্তি রক্ষার কারণে ১৯৫৫ সালে তাকে সোভিয়েট দেশে নেহরু পুরস্কারে সম্মানিত করে। তিনি দিল্লী মহানগরের প্রথম মহিলা মেয়র ছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের সভানেত্রীও ছিলেন। জাতীয় মহিলা কনফারেন্সের সাথে জড়িত থাকার কারণে দিল্লী কংগ্রেস কমিটির সভানেত্রীও হন তিনি।

আরও পড়ুনঃ

মোদীর মাস্টারস্ট্রোকে দেশ পেতে পারে প্রথম মহিলা বাঙালি সিবিআই প্রধান

ব্রিগেড থেকে ফিরেই ভোলবদল, মমতা নয় রাহুলকেই প্রধানমন্ত্রী চাইলেন নেতারা

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

৫. পণ্ডিত রবিশঙ্কর (৭ই এপ্রিল, ১৯২০- ১১ই ডিসেম্বর, ২০১২) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ যিনি সেতারবাদনে কিংবদন্তিতুল্য শ্রেষ্ঠত্বের জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মাইহার ঘরানার স্রষ্টা আচার্য আলাউদ্দীন খান সাহেবের শিষ্য রবিশঙ্কর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্য। এবং ভারতীয় সঙ্গীতকে ১৯৬০-এর দশকে পাশ্চাত্য বিশ্বের কাছে প্রথম তুলে ধরেন। তাঁর সাঙ্গীতিক কর্মজীবনের পরিব্যাপ্তি ছয় দশক জুড়ে। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুকালে রবিশঙ্কর দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের জন্য গিনেস রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ

রাজ্যের হাতে টাকা নেই বাজারে ধার, তারপরেও বিধায়কদের ভাতা বাড়ছে

পাহাড়ে মোর্চা বিজেপির সঙ্গেই, গোপন আস্তানা থেকে বার্তা বিমল গুরুংয়ের

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

৬. অমর্ত্য সেন (জন্ম ৩রা নভেম্বর, ১৯৩৩) একজন বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক। দুর্ভিক্ষ, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও দারিদ্রের কারণ নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁকে ১৯৯৯ সালে ভারতরত্ন দেওয়া হয়। অমর্ত্য সেন একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ। দুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়ন তত্ত্ব, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণদারিদ্রের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিষয়ে গবেষণা এবং উদারনৈতিক রাজনীতিতে অবদান রাখার জন্য ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অফ সুইডেন পুরস্কার (যা অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত) লাভ করেন। অমর্ত্য সেনই জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য মানব উন্নয়ন সূচক আবিষ্কার করেন। তিনিই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও ন্যাশনাল হিউম্যানিটিস মেডালে ভূষিত হন।

আরও পড়ুনঃ

বাংলায় ক্ষোভ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়াচ্ছে মোদী সরকার

লোকাল ট্রেনকে এক্সপ্রেস ভাবলেন ষ্টেশন মাস্টার, তারপরেই হল বিপদ

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

আর এবার সপ্তম বাঙালি হিসাবে ভারতরত্ন পেলেন প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ৭. প্রণব মুখোপাধ্যায় (জন্মঃ ১১ ডিসেম্বর ১৯৩৫) ছিলেন ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি (জুলাই, ২০১২-এ কার্যভার গ্রহণকারী)। তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবন ছয় দশকব্যাপী। তিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা। বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় সমস্যা-সমাধানকারী নেতা।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

আরও পড়ুনঃ

মন্দিরে ঢোকার অপরাধে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়ানো হল দুর্গাকে

মন্দিরে ঢুকে বিপ্লবের শাস্তি, পিটিয়ে বৌমাকে হাসপাতালে পাঠাল শাশুড়ি

নারী ঢোকায় ‘অপিবত্র’ শবরীমালা, ‘শুদ্ধ’ করার জন্য বন্ধ মন্দির

ভোরবেলায় শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি ‘মা দুর্গার’

]]>
ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায় https://thenewsbangla.com/pranab-mukherjee-the-former-president-of-india-will-be-conferred-with-bharat-ratna/ Fri, 25 Jan 2019 15:43:46 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6014 দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ পাচ্ছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি মরণোত্তর এই সম্মান পাচ্ছেন সমাজসেবী নানাজি দেশমুখ ও সঙ্গীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকা। রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রে এই খবর জানা গেছে। শুক্রবার রাতেই এই ঘোষণা করা হল। নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার বাঙালি রাজনীতিবিদ ও দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এর নামই এবার ভারতরত্ন-র জন্য বেছে নিয়েছেন।

ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই খবর জানিয়ে টুইট করেছেন। মোদী লিখেছেন, “প্রণবদা আমাদের আমলের সেরা রাষ্ট্রনায়ক। তিনি নিঃস্বার্থভাবে ও অক্লান্তভাবে দেশের সেবা করেছেন। দেশের বৃদ্ধিতে তিনি এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানকে শ্রদ্ধা জানাতেই হয়। এমন একজন মানুষ ভারতরত্ন পাচ্ছেন জেনে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত”। প্রণব মুখোপাধ্যায় এর ভারতরত্ন পাবার খবরে খুশির ছোঁয়া কংগ্রেস শিবিরেও।

আরও পড়ুনঃ

কালামের নামে ছাত্রদের তৈরি হালকা উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে নজির ভারতের

কলেজে অধ্যাপক পিটিয়ে এগিয়ে বাংলার মুখে ফের চুনকালি দিল তৃণমূল

প্রথম রাষ্ট্রপতি হবার আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রায় পাঁচ দশক ভারতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রথমবার কংগ্রেস দলের প্রতিনিধিস্বরূপ রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালেও তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে কেন্দ্রীয় শিল্পোন্নয়ন উপমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম ক্যাবিনেটে যোগদান করেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে ইউরোমানি পত্রিকার একটি সমীক্ষায় তাঁকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচ অর্থমন্ত্রীর মধ্যে অন্যতমের শিরোপা দেওয়া হয়। কিছুদিনের জন্য তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। এই সময় তিনি রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস নামে নিজস্ব একটি দলও গঠন করেছিলেন। তবে ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মিটমাট করে নেওয়ার পর এই দল নিয়ে তিনি আবার কংগ্রেসে যোগ দেন।

আরও পড়ুনঃ

পিটিটিআই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ফের মুখ পুড়ল রাজ্যের

নেতাদের পর সিনেমার প্রয়োজক, চিটফান্ড দুর্নীতিতে গ্রেফতার শ্রীকান্ত মোহতা

পরবর্তীকালে পিভি নরসিমা রাও তাঁকে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান নিযুক্ত করলে তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবনের পুনরুজ্জীবন ঘটে। রাওয়ের মন্ত্রিসভায় পরে তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রীরূপেও যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ সালে তিনি রাওয়ের মন্ত্রিসভায় বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ সাংসদ পুরস্কারে ভূষিত হন।

প্রণব মুখোপাধ্যায় জাতীয় কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ শাখারও সভাপতি ছিলেন। ২০০৪ সালে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ রাজ্যসভার সদস্য হওয়ায়, প্রণব মুখোপাধ্যায় লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতার দায়িত্ব পান। উল্লেখ্য, এই বছরই তিনি প্রথমবার জঙ্গীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন।

প্রণব মুখোপাধ্যায় বিভিন্ন সময়ে প্রতিরক্ষা, অর্থ, বিদেশ, রাজস্ব, জাহাজ-চলাচল, পরিবহন, যোগাযোগ এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের মতো একাধিক মন্ত্রকের দায়িত্ব গ্রহণের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি সারা দেশের কংগ্রেস সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে গঠিত যথাক্রমে কংগ্রেস সংসদীয় দল ও কংগ্রেস বিধানসভা দলেরও প্রধান ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার, পোস্টার কংগ্রেসের

জন্মদিনে নেতাজি সুভাষের মৃত্যুদিন নিয়ে ছেলেখেলা রাহুলের কংগ্রেসের

পঞ্চদশ লোকসভা নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্বে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের বাইপাস সার্জারির সময় তদনীন্তন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় রাজনীতি বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্যাবিনেট পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।

মনমোহন সিংহের দ্বিতীয় সরকারে প্রণব মুখোপাধ্যায় পুনরায় অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৮০-এর দশকে তিনি এই মন্ত্রকেরই দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের ৬ জুলাই তিনি সরকারের বার্ষিক বাজেট পেশ করেন। এই বাজেটে তিনি কয়েকটি কর সংস্কারের প্রস্তাব রেখেছিলেন। যেমন, ‘অস্বস্তিকর’ ফ্রিঞ্জ বেনেফিট ট্যাক্স ও কমোডিটিজ ট্র্যানজাকশান ট্যাক্সের অবলোপন ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ

মোদীর মাস্টারস্ট্রোকে দেশ পেতে পারে প্রথম মহিলা বাঙালি সিবিআই প্রধান

ব্রিগেড থেকে ফিরেই ভোলবদল, মমতা নয় রাহুলকেই প্রধানমন্ত্রী চাইলেন নেতারা

এছাড়া তিনি ঘোষণা করেন যে, অর্থমন্ত্রক শীঘ্রই গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স নামে একটি কর চালু করবে সরকার। তখন এই করের কাঠামোটির প্রশংসা করেন বিভিন্ন কর্পোরেট কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদগণ। এছাড়াও তিনি কয়েকটি সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থবরাদ্দ করেন ওই বাজেটেই।

এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান সুনিশ্চিতকরণ আইন, শিশুকন্যাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা ইত্যাদি। এছাড়াও অর্থবরাদ্দ করেন জাতীয় সড়ক উন্নয়ন কর্মসূচি, বিদ্যুদয়ন প্রকল্প, এবং জওহরলাল নেহেরু জাতীয় নগরোন্নয়ন মিশনের মতো পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিতেও।

২০১২ সালে, তৎকালীন এনডিএ প্রার্থী ও লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মেঘালয়ের ভূমিপুত্র পিএন সাংমাকে ৭১ শতাংশের বেশি ভোটে হারিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে ইউপিএ প্রাথী প্রণব মুখার্জি নির্বাচিত হন। তিনিই হন প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ

রাজ্যের হাতে টাকা নেই বাজারে ধার, তারপরেও বিধায়কদের ভাতা বাড়ছে

পাহাড়ে মোর্চা বিজেপির সঙ্গেই, গোপন আস্তানা থেকে বার্তা বিমল গুরুংয়ের

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার কীর্ণাহার শহরের নিকটস্থ মিরাটি গ্রামে। তাঁর পিতার নাম কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ও মাতার নাম রাজলক্ষ্মী দেবী। বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী কামদাকিঙ্কর ১৯২০ সাল থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনকালে তিনি দশ বছর কারারুদ্ধ ছিলেন।

পরে কামদাকিঙ্কর অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদের সদস্য (১৯৫২-৬৪) হন। তিনি বীরভূম জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতির পদও অলংকৃত করেন। বাবার দেখানো পথ ধরেই জাতীয় কংগ্রেসের নেতা হয়ে দেশসেবার কাজে নিজেকে সঁপে দেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ও। ২০১২ তে হন ভারতের রাষ্ট্রপতি।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
মোদী সরকারের কাছে মমতাকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার দাবি তুললেন ইদ্রিস https://thenewsbangla.com/tmc-mp-idris-ali-demands-mamata-banerjee-to-give-bharat-ratna-to-modi-government/ Fri, 09 Nov 2018 18:54:23 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2075 The News বাংলা, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে, তাঁকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার দাবী তুললেন তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিস আলী। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ‘অদ্বিতীয়া’ মমতাকে ‘ভারতরত্ন’ সম্মান দেবার দাবি তুলেছেন বসিরহাটের সাংসদ।

শুক্রবার, এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিস আলী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সংহতির প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেন এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিতে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা ও উন্নয়নের জন্য তাঁর ‘ভারতরত্নের’ দাবি জানান।

Image Source: Google

তৃণমূল সাংসদ মন্তব্য করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় সংহতি, সৌহার্দ্য ও উন্নয়নের প্রতীক। তিনি অদ্বিতীয়া, আমি মনে করি তাঁকে ভারতরত্ন প্রদান করা উচিত”।

আরও পড়ুন: মায়ের পুজোয় মদ বিক্রিতে রেকর্ড গড়ল মমতার বাংলা

সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজের দল ও রাজ্যের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অনেকগুলো ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে লড়াই করেছেন। নোটবন্দী থেকে শুরু করে জিএসটি, অসমের নাগরিক পঞ্জি তৈরি নিয়ে তাঁর মতে কেন্দ্রের বিভিন্ন ‘হঠকারী সিদ্ধান্তে’র বিরুদ্ধে তিনি প্রায়শই সোচ্চার হয়েছেন।

Image Source: Google

৮ই নভেম্বর নোটবন্দীর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পুনরায় তোপ দেগে বলেন, “কেন্দ্র সরকার নোটবন্দী জালিয়াতি করে দেশের সাথে প্রতারণা করেছে। যার ফলে অর্থনীতি ধাক্কা খাওয়ার সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন যন্ত্রনা বেড়েছে। যারা এর জন্য দায়ী, জনগন অবশ্যই তাদের সাজা দেবে”।

আরও পড়ুন: মোদীর ভারতে সর্দার প্যাটেলের রেকর্ড ভাঙবে ছত্রপতি শিবাজীর মূর্তি

বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধীরাও বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। যদিও বিরোধী সমালোচনার গুরুত্ব না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বিজেপির কোনও উদ্দেশ্যই বাংলায় সফল হবে না।

Image Source: Google

রাজ্যের উন্নয়ন ও তাঁর লড়াই, এই সব কারণেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ‘ভারতরত্ন’ দেবার দাবি তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিস আলী। তবে, বিরোধী মমতার নাম ‘ভারতরত্ন’ এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার তুলবেন কিনা সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ, লড়াই পিছিয়ে গেল

২০১৪ সালে বসিরহাট লোকসভা আসনে দাঁড়িয়ে ১ লাখেরও বেশি ভোটে জিতে সাংসদ হন ইদ্রিস আলী। এর আগেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভারতরত্ন দেবার দাবি তুলেছিলেন। এবার সরাসরি নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছেই মমতাকে ভারতের সবচেয়ে বড় সম্মান দেবার দাবি পেশ করলেন।

Image Source: Google

যদিও তৃণমূলের তরফ থেকে এই নিয়ে কোন মন্তব্য করা হয় নি। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেছেন, এটা ইদ্রিস আলির ব্যক্তিগত মত, দলের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। বাংলা বিজেপির তরফ থেকে এই নিয়ে কোন মন্তব্য না করে, এটাকে ইদ্রিসের পাগলামি বলেই অভিহিত করা হয়েছে।

]]>