Babri Masjid – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Tue, 17 May 2022 07:19:11 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Babri Masjid – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 বাবরি-র পর জ্ঞানবাপি, ‘মন্দির ওহি বনেগা’ https://thenewsbangla.com/babri-masjid-now-gyanvapi-masjid-mandir-wahi-banega/ Tue, 17 May 2022 07:18:01 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15094 বাবরি-র পর জ্ঞানবাপি, ‘মন্দির ওহি বনেগা’। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে গড়া; উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক জ্ঞানবাপী মসজিদ সিল করে দেওয়া হল আদালতের নির্দেশে; আদালতের রায় না বেরোনো পর্যন্ত। বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ তৈরি হয়েছিল মন্দির ধ্বংস করেই; প্রমাণ পেল আদালত। ভূগর্ভস্থ ঘর (তহ্খানা), ওজুখানা এবং আশপাশের এলাকা; সিল করে দিল উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন।

তথাকথিত জ্ঞানবাপী মসজিদে শিবলিঙ্গ পাওয়া গেছে। এছাড়াও মসজিদ চত্বরের পশ্চিম দেওয়ালের দিকে; হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষও মিলেছে। এটাই স্বাভাবিক, কারণ উপরিকাঠামোর উপর মসজিদ বানালেও; আদিকাল থেকে ওটা মন্দিরই ছিল। সত্যকে ধামাচাপা দিলেও, সত্য সামনে আসবেই; সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

১৬৬৯ সালে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব কাশী বিশ্বনাথ মন্দির (শিব মন্দির) ভেঙে; একটি অংশে মসজিদ তৈরি করেছিল। নাম দিয়েছিল জ্ঞানবাপী মসজিদ; সমীক্ষায় সেই প্রমাণও পাওয়া গেছে। পশ্চিমদিকের দেওয়ালে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি এবং সংলগ্ন কুয়োতে; শিবলিঙ্গ পাওয়া গেছে। মসজিদের পরতে পরতে হিন্দু সংস্কৃতির ছোঁয়া।

কাশী বা বারাণসীর বিখ্যাত বিশ্বনাথ মন্দিরের গায়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে জ্ঞানবাপী মসজিদ। ঐতিহাসিকদের মতে, একাধিকবার বিদেশি হানাদারদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় মন্দিরটি। ১৬৬৯ সালে মূল মন্দিরটি দখল করে, জ্ঞানবাপী মসজিদ তৈরি করেন; মুঘল বাদশাহ ঔরঙ্গজেব। অষ্টাদশ শতকে হিন্দুদের আবেগকে মান্যতা দিয়ে, মসজিদের কাছেই আজকের বিশ্বনাথ মন্দিরটি; তৈরি করেন মারাঠা রাজ্য মালওয়া-র রানি অহল্যাবাই হোলকর।

বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়েল বর্তমানে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ‘স্বয়ম্ভু জ্যোতির্লিঙ্গ ভগবান বিশ্বেশ্বর’ নামক একটি সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে; মসজিদটি যে জমির উপরে তৈরি, সেখানে আসলে হিন্দু মন্দির ছিল। পাঁচজন মহিলাও দাবি করেন যে; মসজিদের ভিতরে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি রয়েছে। এরপরই গতবছর বারাণসী আদালতের তরফে; মসজিদের ভিডিয়োগ্রাফির নির্দেশ দেওয়া হয়।

বেনারস আদালত আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার উপর; এই সমীক্ষার দায়িত্ব দেয়। সেই সমস্ত পদ্ধতিই এতদিন ধরে চলছিল। আদালতের নির্দেশে প্রায় আড়াই দিন ধরে চলে এই সমীক্ষা; মঙ্গলবার থেকেই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি শুরু হবে। জলাশয়ের ভিডিওগ্রাফির জন্য সমস্ত জল বের করে দেওয়া হয়; তখনই শিবলিঙ্গের উপস্থিতি ধরা পড়ে বলে দাবি। সেই তথ্য আদালতে জানান আইনজীবী বিষ্ণু জৈন; এরপরই ওই জলাশয়টি সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

আরেক আইনজীবী মদন মোহন আদালতকে জানিয়েছেন; শিবলিঙ্গটির উচ্চতা ১২ ফুট, ব্যাস ৮ ইঞ্চি। এরপরই আদালতের তরফে বারাণসীর জেলাশাসক কৌশলরাজ শর্মাকে; জলাশয়টিকে সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জলাশয়টি যাতে কেউ ব্যবহার করতে না পারেন; তার দিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফ থেকে।

জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে; মা শৃঙ্গার গৌরীস্থলে পুজো করার আবেদন জানিয়েছিলেন পাঁচজন মহিলা। গত একবছর ধরেই ওই অঞ্চলটি খুলে দেওয়া হয়েছে প্রার্থনা করার জন্য। কিন্তু ওই মহিলাদের আবেদন ছিল; তাঁরা চান ওই পুরনো মন্দির চত্বরের অন্যান্য দেববিগ্রহের সামনেও প্রার্থনা করতে। গত এপ্রিলে এই বিষয়ে একটি তদন্তের নির্দেশ দেয় বারাণসী আদালত; কয়েকদিন আগেই মসজিদের ভিতরে শুরু হয়েছিল ভিডিও সার্ভে।

সোমবার মসজিদের অন্দরের দুটি গম্বুজ, ভূগর্ভস্থ অংশ, পুকুর-সহ কয়েকটি এলাকা সিল করে; সিআরপিএফ মোতায়েনের নির্দেশ দেয় উত্তরপ্রদেশের বারাণসী আদালত। বারাণসীর জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনারের পাশাপাশি, সিআরপিএফের একজন কমান্ডান্ট (সুপার) স্তরের আধিকারিককে; মসজিদ দখল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন নগর-দায়রা আদালতের বিচারক রবিকুমার দিবাকর।

এত গেল ইতিহাসের ঘটনা ও নিউজ। লড়াই চলছে আদালতে; বর্তমানে প্রশ্ন এখন চারটে।

১. এই ঔরঙ্গজেব-ও আমাদের মাধ্যমিকের বইয়ে উদারমনা, শিক্ষিত, ধর্মপ্রাণ শাসক; যে হিন্দুদের একের পর এক মন্দির ভেঙে মসজিদ গড়ে গেছে। কংগ্রেসের লেখা ইতিহাস কি পরিবর্তন করা হবে?

২. ‘মন্দির ওহি বনেগা’; ফের ডাক দিয়েছে বিজেপির মন্দির কমিটিগুলো। ২০২৪ এর লোকসভা ভোট বৈতরণী পার করার বড় হাতিয়ার কি গেরুয়া শিবির পেয়ে গেল; ঠিক রামমন্দির ইস্যুর মত?

৩. বেকারত্ব, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া, দেশের ব্যাঙ্ক লুঠ করে দুর্নীতিবাজদের বিদেশে কেটে পরা; সব কি মানুষকে ভুলিয়ে দেওয়া যাবে ফের এই মন্দির ইস্যুতে?

৪. বিরোধীরা চুপ কেন ? বিরোধীরা কি বুঝতেই পারছেন না; পক্ষে বলবেন না বিরুদ্ধে। মন্দিরের পক্ষে বললে বিজেপিকে সমর্থন করা হবে; আর বিরুদ্ধে বললে মন্দিরের বিরুদ্ধেও যেতে হবে। কি করবে বুঝতে না পেরেই কি এই ইস্যুতে চুপ বিরোধীরা?

লিখলেন, মানব গুহ

]]>
রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ, লড়াই পিছিয়ে গেল https://thenewsbangla.com/ram-mandir-or-babri-masjid-the-fight-will-be-in-the-new-year/ Mon, 29 Oct 2018 06:52:44 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1627 নিউ দিল্লি: রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ, অযোধ্যায় বিতর্কিত জমির মালিকানা কার ? আসল লড়াই শুরুর আগেই সুপ্রিম কোর্ট পিছিয়ে দিল শুনানির দিন। সোমবার, দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে ৩ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মূল মামলার শুনানি শুরুর আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়। মুল মামলা শুরু হতে পারে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। নতুন ডিভিশন বেঞ্চ নতুন বছরে ঠিক করবে কবে মুল মামলার শুনানি শুরু হবে।

রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ ? জানা যায়, মসজিদটি ১৫২৭ খ্রীষ্টাব্দে ভারতের প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে নির্মিত হয় এবং তাঁর নাম অনুসারে নামাঙ্কিত হয়। মুঘল সম্রাট বাবর ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর ভারতের কিছু অংশ দখল করেন।

কিন্তু শাসন সংক্রান্ত সংগঠন গড়ে তোলার আগেই বাবর মারা যান। বাবরি মসজিদ বাবর নির্মাণ করেন নি। বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন বাবরের সঙ্গে আসা মীর বাকী নামে একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। বাবরি মসজিদের মধ্যে প্রাপ্ত প্রস্তরফলক থেকে জানা যায়, মীর বাকী মসজিদটি স্খাপন করেন ৯৩৫ হিজরিতে, খ্রিষ্টাব্দের হিসাবে যা দাঁড়ায় ১৫২৭ ১৫২৮।

আরও পড়ুনঃ রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ, সুপ্রিম কোর্টে শুরু আসল লড়াই

অন্যদিকে হিন্দুদের বিশ্বাস, অযোধ্যাই ছিল রাজা রামের রাজত্বের রাজধানী। রাম কেবল রাজা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিষ্ণুর অবতার। রামের মৃত্যুর পর অযোধ্যায় স্খাপিত হয় রাম মন্দির। মীর বাকী এই রাম মন্দির ভেঙে সেখানে নির্মাণ করেন বাবরের নামে বাবরি মসজিদ। রামায়ণ ভারতের বিখ্যাত একটি কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থে বলা হয়েছে, অযোধ্যা রামের জন্মভূমি।

১৯৯২ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের উদ্যোক্তারা, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ শুরু করে। যা পরে ১,৫০,০০০ জন করসেবক সম্মিলিত একটি- দাঙ্গার রূপ নেয় এবং মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ভূমিসাৎ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ সনাতন হিন্দু ধর্মকে ছোট করার চেষ্টা সফল হবে না

যার ফলে, ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় যা মুম্বাই ও দিল্লী শহরে প্রায় ২০০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। ভারতের অনেক রাজ্যে ধর্মীয় লড়াই শুরু হয়ে যায়।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাবরি মসজিদ যে স্থানে ছিল সেই ভূমি সম্পর্কিত রায় দেয়।এলাহবাদ হাইকোর্টের তিন জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের রায়ে ২.৭৭ বা ১.১২ হেক্টর ভূমি সমান তিনভাগে ভাগ করার রায় প্রদান করেন।

Image Source: Google

সেই রায় অনুযায়ী, তিন ভাগের এক অংশ পাবে হিন্দু মহাসভা। রাম জন্মভূমিতে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য। দ্বিতীয় অংশ পাবে ইসলামিক সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, মসজিদ নির্মাণের জন্য এবং বাকি তৃতীয় অংশ পাবে নির্মোহী আখরা নামে একটি হিন্দু সংগঠন।

এই স্থানে রামমন্দির ধ্বংস বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল এ বিষয়ে তিনজন বিচারকের দুজন একমত হয়েছিলেন। তবে তিনজন বিচারকই এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান যে, পূর্বে বাবরি মসজিদের জায়গায় একটি সুপ্রাচীন হিন্দু মন্দির বিদ্যমান ছিল।

আদালতের তিন জন বিচারপতি, বিচারপতি এস আর আলম, বিচারপতি ভানওয়ার সিং এবং বিচারপতি খেমকারণের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের আদেশে আরকিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া ওই স্থান খনন করে একটি সুবৃহৎ হিন্দু ধর্মীয় স্থাপত্য বা মন্দিরের সন্ধান পায়।

Image Source: Google

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যায় সব পক্ষই। সোমবার, দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার মূল শুনানি শুরু হবার আগেই থামিয়ে দেওয়া হল। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ছাড়া এই মামলার ডিভিশন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি সঞ্জয় কিষেন কওল ও বিচারপতি কে এম জোসেফ।

মামলার গুরুত্ব বিচার করে প্রতিদিনই এই মামলার শুনানি হবে, এমনটাই মনে করা হয়েছিল। আগামী লোকসভা ভোটের আগে, দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত এই মামলা নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্ক চরমে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ সিবিআই এর নিজেদের ঝামেলা বাংলায় স্বস্তিতে রাখবে তৃণমূলকে

তবে ইতিমধ্যেই গত ২৭ শে সেপ্টেম্বর তাদের এক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি অশোক ভূষণ জানিয়েছিলেন, ‘এই আদালত বিবেচনা করে দেখেছে যে হিন্দুদের কাছে অযোধ্যার একটি বাড়তি গুরুত্ব আছে, যেখানে ভগবান রামের জন্মস্থান ছিল বলে সুপ্রাচীন প্রবাদ রয়েছে’।

আর এখানেই মামলা জেতার ব্যপারে আশাবাদী হিন্দু মহাসভা। তবে মসজিদ গড়ার ব্যপারেই রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট, বিশ্বাস মুসলিম ওয়াকফ বোর্ডের। তবে আদালত বিশেষজ্ঞরা মনে করছিলেন, ২০১০ এর এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখতে পারে দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত। শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় আপাতত এই নিয়ে জটিলতা কিছুদিনের জন্য মুলতবি রইলো।

সোমবার সকাল থেকেই গোটা দেশের নজর ছিল দেশের শীর্ষ আদালতের দিকে। কি রায় দেবে দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত ? রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ ? নাকি ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে পাশাপাশি সহাবস্থান মন্দির আর মসজিদের ? তবে সেই লড়াই আদালতের নির্দেশে এখন পিছিয়ে গেল। নতুন বছরে শীর্ষ আদালতের নতুন ডিভিশন বেঞ্চের নতুন বিচারপতিরা এই মামলা শুনবেন। ততদিন মুলতবি রইল মন্দির বনাম মসজিদের লড়াই।

]]>
রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ, সুপ্রিম কোর্টে শুরু আসল লড়াই https://thenewsbangla.com/ram-mandir-or-babri-mosque-the-real-battle-started-in-the-supreme-court/ Mon, 29 Oct 2018 05:51:37 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1617 নিউ দিল্লি: রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ, অযোধ্যায় বিতর্কিত জমির মালিকানা কার ? আসল লড়াই শুরু হল সুপ্রিম কোর্টে। দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে ৩ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মূল মামলার শুনানি শুরু হল।

রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ ? জানা যায়, মসজিদটি ১৫২৭ খ্রীষ্টাব্দে ভারতের প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে নির্মিত হয় এবং তাঁর নাম অনুসারে নামাঙ্কিত হয়। মুঘল সম্রাট বাবর ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর ভারতের কিছু অংশ দখল করেন। তার মধ্যে অযোধ্যাও ছিল।

Image Source: Google

কিন্তু শাসন সংক্রান্ত সংগঠন গড়ে তোলার আগেই বাবর মারা যান। বাবরি মসজিদ বাবর নির্মাণ করেন নি। বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন বাবরের সঙ্গে আসা মীর বাকী নামে একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। বাবরি মসজিদের মধ্যে প্রাপ্ত প্রস্তরফলক থেকে জানা যায়, মীর বাকী মসজিদটি স্খাপন করেন ৯৩৫ হিজরিতে, খ্রিষ্টাব্দের হিসাবে যা দাঁড়ায় ১৫২৭- ১৫২৮।

আরও পড়ুন: মোদীকে আটকাতে আপাততঃ প্রধানমন্ত্রী হবার ইচ্ছে বিসর্জন রাহুলের

অন্যদিকে হিন্দুদের বিশ্বাস, অযোধ্যাই ছিল রাজা রামের রাজত্বের রাজধানী। রাম কেবল রাজা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিষ্ণুর অবতার। রামের মৃত্যুর পর অযোধ্যায় স্খাপিত হয় রাম মন্দির। মীর বাকী এই রাম মন্দির ভেঙে সেখানে নির্মাণ করেন বাবরের নামে বাবরি মসজিদ। রামায়ণ ভারতের বিখ্যাত একটি কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থে বলা হয়েছে, অযোধ্যা রামের জন্মভূমি।

Image Source: Google

১৯৯২ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের উদ্যোক্তারা, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ শুরু করে। যা পরে ১,৫০,০০০ জন করসেবক সম্মিলিত একটি দাঙ্গার রূপ নেয় এবং মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ভূমিসাৎ করা হয়।

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর রিপোর্ট পাক জঙ্গি হাফিজ সাইদের টাকায় ভারতে তৈরি হয়েছে মসজিদ

যার ফলে, ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় যা মুম্বাই ও দিল্লী শহরে প্রায় ২০০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। ভারতের অনেক রাজ্যে ধর্মীয় লড়াই শুরু হয়ে যায়।

Image Source: Google

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাবরি মসজিদ যে স্থানে ছিল সেই ভূমি সম্পর্কিত রায় দেয়।এলাহবাদ হাইকোর্টের তিন জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের রায়ে ২.৭৭ বা ১.১২ হেক্টর ভূমি সমান তিনভাগে ভাগ করার রায় প্রদান করেন।

সেই রায় অনুযায়ী, তিন ভাগের এক অংশ পাবে হিন্দু মহাসভা। রাম জন্মভূমিতে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য। দ্বিতীয় অংশ পাবে ইসলামিক সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, মসজিদ নির্মাণের জন্য এবং বাকি তৃতীয় অংশ পাবে নির্মোহী আখরা নামে একটি হিন্দু সংগঠন।

আরও পড়ুন: সনাতন হিন্দু ধর্মকে ছোট করার চেষ্টা সফল হবে না

এই স্থানে রামমন্দির ধ্বংস বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল এ বিষয়ে তিনজন বিচারকের দুজন একমত হয়েছিলেন। তবে তিনজন বিচারকই এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান যে, পূর্বে বাবরি মসজিদের জায়গায় একটি সুপ্রাচীন হিন্দু মন্দির বিদ্যমান ছিল।

Image Source: Google

আদালতের তিন জন বিচারপতি, বিচারপতি এস আর আলম, বিচারপতি ভানওয়ার সিং এবং বিচারপতি খেমকারণের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের আদেশে আরকিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া ওই স্থান খনন করে একটি সুবৃহৎ হিন্দু ধর্মীয় স্থাপত্য বা মন্দিরের সন্ধান পায়।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যায় সব পক্ষই। সোমবার, দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার মূল শুনানি শুরু হল। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ছাড়া এই মামলার ডিভিশন বেঞ্চে আছেন বিচারপতি সঞ্জয় কিষেন কওল ও বিচারপতি কে এম জোসেফ।

আরও পড়ুন: লাইফ বিয়ন্ড ডেথ’, কী ভাবে জানবেন মৃত্যুর পর কী

মামলার গুরুত্ব বিচার করে প্রতিদিনই এই মামলার শুনানি হবে। আগামী লোকসভা ভোটের আগে দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত এই মামলা নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্ক চরমে উঠেছে।

তবে ইতিমধ্যেই গত ২৭ শে সেপ্টেম্বর তাদের এক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি অশোক ভূষণ জানিয়েছিলেন, ‘এই আদালত বিবেচনা করে দেখেছে যে হিন্দুদের কাছে অযোধ্যার একটি বাড়তি গুরুত্ব আছে, যেখানে ভগবান রামের জন্মস্থান ছিল বলে সুপ্রাচীন প্রবাদ রয়েছে’।

Image Source: Google

আর এখানেই মামলা জেতার ব্যপারে আশাবাদী হিন্দু মহাসভা। তবে মসজিদ গড়ার ব্যপারেই রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট, বিশ্বাস মুসলিম ওয়াকফ বোর্ডের। তবে আদালত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০১০ এর এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখতে পারে দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত।

সোমবার থেকেই গোটা দেশের নজর এখন দেশের শীর্ষ আদালতের দিকে। কি রায় দেবে দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত ? রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ ? নাকি ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে পাশাপাশি সহাবস্থান মন্দির আর মসজিদের ?

]]>