Arup Biswas – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Fri, 09 Sep 2022 13:46:17 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Arup Biswas – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 দূর্নীতি রোধের প্রশ্নে সচিব-মন্ত্রী দ্বৈরথ বিদ্যুত দফতরে, মন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখেই কি দুর্নীতি https://thenewsbangla.com/state-electricity-board-secretary-minister-disagree-question-of-preventing-corruption-possibility-of-pil/ Fri, 09 Sep 2022 13:41:48 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=16730 দূর্নীতি রোধের প্রশ্নে সচিব-মন্ত্রী দ্বৈরথ বিদ্যুত দফতরে, মন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখেই কি দুর্নীতি? জনস্বার্থ মামলা হওয়ার সম্ভাবনা। দূর্নীতি-রোধের ইসুতে রাজ্য বিদ্যুত দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সুরেশ কুমারের সঙ্গে, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরোধ তুঙ্গে। দফতরের মন্ত্রী যখন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বিদ্যুত দফতরকে দূর্নীতি মুক্ত করে স্বচ্ছতা আনতে, তখন অভিযোগ একের পর এক নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কাজে দূর্নীতিকে দিনের পর দিন প্রশ্রয় দিয়ে চলেছেন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব।

ঘটনার সূত্রপাত, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুত সংবহন কোম্পানি লিমিটেড-এ, মানবসম্পদ অধিকর্তা নিয়োগের ইসুতে। অভিযোগ, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিজের ক্ষমতা বলে, গত বছর জুন মাসে মন্ত্রী এবং সংবহন কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের অমতে, একটি রঙের কোম্পানি থেকে অবসরপ্রাপ্ত একজনকে মানবসম্পদ অধিকর্তা পদে নিয়োগ করেন, দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, সুরেশ কুমার।

মানবসম্পদ অধিকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজে প্রশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে, সবরকম অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পদ থেকে সরানো তো দূরের থাক, রাজ্য মন্ত্রিসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, মানস ভুঁইয়ার অনুরোধেও কোনও তদন্ত কমিশন বসাননি, বলেই অভিযোগ।

তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত আইএনটিটিইউসি নেতা, সফিকুল ইসলামের বক্তব্য, “শুধুমাত্র মানবসম্পদ অধিকর্তা পদে অযোগ্য কাউকে নিয়োগ করেই থেমে থাকেননি, বিদ্যুত দফতরের সচিব। গতবছর নভেম্বর মাসের তিন তারিখে কোম্পানি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত করে প্রযেক্ট অধিকর্তা পদের জন্য। নিয়মমতো ওই পদে আবেদন করেন কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত চিফ ইঞ্জিনিয়াররা। এই বছর জানুয়ারি মাসে ইন্টারভিউতে ডাকা হয় মোট ২২ জনকে। ইন্টারভিউ বোর্ডে ছিলেন, দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, সংবহন কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং দুজন স্বাধীন অধিকর্তা। গ্রেডেশন তালিকাভুক্ত হন মোট তিনজন। সংবহন কোম্পানির প্রাক্তন চিফ ইঞ্জিনিয়ার(প্ল্যানিং) অসিত কর্মকার, ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন-এর একজন প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং সংবহন কোম্পানির-ই অবসরপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার(অপারেশনস) রফিকুল ইসলাম”।

আইএনটিটিইউসি নেতা বলেন, “রফিকুল ইসলাম সাহেবের নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে যখন কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং মন্ত্রী প্রায় এক রকম সহমত, ঠিক তখনই সংবহন কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের এক প্রভাবশালী আমলার নাম নিয়ে স্বাধীন অধিকর্তাদের রীতিমত বাধ্য করেন নম্বর বৃদ্ধি করে সম্পূর্ণ নতুন তালিকা তৈরি করতে। সেই নতুন তালিকায় অসিত কর্মকারের নাম থাকলেও, নতুন নাম হিসেবে চলে আসেন কোম্পানির-ই দুই অবসরপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার, গৌতম ব্যানার্জি এবং জাহিরুল হকের। এবং স্বাধীন অধিকর্তাদের বলা হয় গৌতম ব্যানার্জির নাম তালিকার এক নম্বরে রাখতে”।

সংবহন কোম্পানির ইতিহাসে কখনও কোনও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে, অধিকর্তা পদে নিয়োগ করা হয়নি। দফতর সূত্রের খবর, গৌতম ব্যানার্জি বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল তাঁর কর্মজীবনে। বেআইনিভাবে কোনও কোম্পানিকে কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, তাদের থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা নেওয়ার। এই বিষয়ে গৌতম ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, “প্রজেক্ট অধিকর্তা হিসেবে আমার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। এছাড়া আর কোনও কিছুই বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয় এই মুহূর্তে”। আর দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবকে ফোন করা হলে, তিনি ফোন ধরেননি।

অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বহুদিন থেকেই সোচ্চার কর্মী ইউনিয়নগুলি। দূর্নীতিকে খুলে আম প্রশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে সবরকম অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিদ্যুত ভবন এবং অভিক্ষণ ভবনের দেওয়ালে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, মানবসম্পদ অধিকর্তা, জেনারেল ম্যানেজার(মানবসম্পদ)-এর অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে, লাগাতার সাত-দিন অবস্থান বিক্ষোভ করে সিআইটিইউ কর্মী ইউনিয়নের সদস্যরা। সেখানে প্রশান্ত নন্দী চৌধুরি থেকে শুরু করে ভাষণ দেন, সিপিআইএমের রাজ্যসভার সাংসদ এবং শহরের প্রাক্তন মহানাগরিক, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

সম্প্রতি জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে, কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন, কয়েকজন আবেদনকারী। তাদের অভিযোগ, লক্ষ-লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভিন রাজ্যের আবেদনকারীদের নিয়োগ করছিলেন, মানবসম্পদ অধিকর্তা এবং জেনারেল ম্যানেজার(মানবসম্পদ), অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সুরেশ কুমারের পৃষ্ঠপোষকতায়।

আইএনটিটিইউসি নেতা সফিকুল ইসলামের মতে, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে কালিমালিপ্ত করার একটা প্রয়াস চলছে দীর্ঘদিন ধরে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের ওই প্রভাবশালী আমলার নিয়ম ভাঙিয়ে, এই সব দূর্নীতি চালাচ্ছেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব। প্রযেক্ট অধিকর্তা পদে যদি গৌতম ব্যানার্জির মতো দুর্নীতিপরায়ন অফিসারকে নিয়োগ করা হয়, তাহলে আমরা বাধ্য হব আদালতের দ্বারস্থ হতে। প্রয়োজনে জনস্বার্থ মামলা করা হবে নিয়োগ দুর্নীতি রোধে”।

দফতর সূত্রের খবর, প্রজেক্ট অধিকর্তা পদে গৌতম ব্যানার্জির নিয়োগে সম্মতি নেই, রাজ্যের বিদ্যুতমন্ত্রী এবং সংবহন কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সরাসরি উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহলে। দরকার হলে, তিনি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের কার্যকলাপের বিষয়ে জানাবেন বলেও জানা গিয়েছে।

]]>
জনগণকে ‘গাধা’ বানিয়ে ‘শিক্ষাগুরু নেহেরু’র যোগ্য ছাত্র সব রাজনীতিবিদ https://thenewsbangla.com/making-the-people-donkey-all-the-politicians-of-india-qualified-students-of-education-guru-nehru/ Tue, 04 Dec 2018 05:14:44 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3472 The News বাংলা, কলকাতা: মুখে নেহেরু পরিবারের তুমুল সমালোচনা, কিন্তু কাজে সবাই সেই পরিবারতন্ত্রেরই অন্ধ সমর্থক। এই বিষয়ে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দলের ‘শিক্ষাগুরু’ সেই জওহরলাল নেহেরু। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। নেহেরু পরিবারকে সমালোচনা অথচ ভারতে সবাই সেই পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

পুরসভা থেকে রাজ্য হয়ে দেশ। নেহেরু পরিবারের মতই সবাই চায় পরিবারতন্ত্র। মুখে কিন্তু নেহেরু পরিবারের তুমুল সমালোচনা। কারণ নেহেরু পরিবার ভারতে পরিবারতন্ত্রের সূচনা করেছে। জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী বংশপরম্পরায় কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্র চলেছে।

আরও পড়ুনঃ পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার পরেও লোকসভা ভোটে কম কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায়
আরও পড়ুনঃ মোবাইলেই রাজনাথ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমুল কথা কাটাকাটি

সেই পরিবারতন্ত্র এখনও চলছে। আর তার তুমুল সমালোচনা করে এসেছে কংগ্রেস বিরোধী সব রাজনৈতিক দল। কংগ্রেসকে ‘নেহেরু-গান্ধী পরিবারের লিমিটেড কোম্পানী’ বলেছেন মোদী-অমিত শাহ। কিন্তু মুখে কংগ্রেস পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বললেও কাজে সেই জওহরলাল নেহেরুকেই অন্ধ অনুসরণ করছে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দল।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

তেলেঙ্গানা নির্বাচন নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। বিজেপির অবস্থা দেখুন। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও-র মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়। তাঁর প্রায় সব আত্মীয়ই বিভিন্ন পদের মাথায়। চন্দ্রশেখরের ছেলে কে রামা রাও রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। রিগেশন, মার্কেটিং এবং লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী টি হরিশ রাও চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভাইপো। শুধু ছেলে ভাইপোই নন। মেয়ে কবিতাও সাংসদ। এছাড়াও আরও অনেক আত্মীয়কে বিভিন্ন পদের মাথায় বসিয়ে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের পরিবারতন্ত্রের সুযোগ্য বাহক তিনি।

আরও পড়ুনঃ মমতার স্বরাষ্ট্র সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের এক রোহিঙ্গার
আরও পড়ুনঃ নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও

মধ্যপ্রদেশের দিকে তাকান। একসময় মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশে যার বিরুদ্ধে ডাম্পার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিল কংগ্রেস, সেই সঞ্জয় সিং মাসানিকে এবার বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দিলেন রাহুল গান্ধী। সবচেয়ে বড় কথা, সঞ্জয় সিং মাসানি আর কেউ নন, খোদ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের শ্যালক।

এখানেও কংগ্রেসকে টেক্কা দিচ্ছে বিজেপি। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র পুত্র আকাশকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। অটলবিহারী বাজপেয়ির ভাইপো অনুপ মিশ্রকেও এবার মধ্যপ্রদেশে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল গৌড়ের পুত্রবধূ কৃষ্ণাও এবার বিজেপি প্রার্থী। রাজনৈতিক মহলে চর্চা, যে বিজেপি পরিবারতন্ত্র নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে সেই বিজেপিই মধ্যপ্রদেশে একই কাজ করছে!

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

তবে নেহেরু গান্ধী পরিবারতন্ত্রকেও টেক্কা দিয়েছেন বর্তমানের ‘নেতাজী’ মুলায়ম সিংহ যাদব। যাদব পরিবারের কর্তা প্রথম থেকেই সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি। সেই পদ এখন গিয়েছে ছেলের দখলে। মুলায়ম নিজে দুদফায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকেছেন। এখন আজমগড়ের সাংসদ। বড় ছেলে অখিলেশ যাদব ২০০০ সালে কনৌজ থেকে প্রথমবার সাংসদ। এখন দলের জাতীয় সভাপতি ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

বড় বউমা ডিম্পল যাদব সাংসদ। ছোট ছেলে প্রতীক যাদব এর স্ত্রী অপর্ণা যাদবও বিধায়ক। বড় ভাই শিবপাল যাদব, একসময় রাজ্যের ডি-ফ্যাক্টো মুখ্যমন্ত্রী, সেচ এবং পুর্ত দফতরের মন্ত্রী থেকেছেন। মুলায়ম ও শিবপালের সব আত্মীয় স্বজনই এমএলএ বা এমপি হয়ে পরিবারতন্ত্রের ফসল।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

বিহারে লালুপ্রাসাদ যাদবের পরিবারতন্ত্রের কথা কে না জানে। স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে মুখ্যমন্ত্রী করা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কমেডি বলেই মনে করা হয়। ছেলে, শ্যালক, মেয়ে মিশা ভারতী ছাড়াও আরও অনেক আত্মীয় এমএলএ বা এমপি বা উচুঁ পদে। লালুর পরিবার নেহেরু-গান্ধী পরিবারের যোগ্য অনুসরণকারী।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুফতি মহম্মদ সাঈদ-মেহবুবা মুফতি। ফারুক আবদুল্লা-ওমর আব্দুল্লা। মহারাষ্ট্রে বাল থাকারে-উদ্ধব থাকারে-আদিত্য থাকারে, প্রণব মুখোপাধ্যায়-অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। মানেকা-সঞ্জয় গান্ধীর ছেলে বরুণ গান্ধী। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা, রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, প্রমোদ মহাজনের মেয়ে। কাকে ছেড়ে কার কথা শুনবেন!! প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম-পুত্র কার্তি পি চিদাম্বরম। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা-ছেলে জয়ন্ত সিনহা। রাজ্যসভার সাংসদ মুরলী দেওয়ারা-ছেলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মিলিন্দ দেওয়ারা।

আরও পড়ুনঃ বিরোধীদের অভিযোগ ও মমতা প্রশাসনের রিপোর্ট নিতে বাংলায় নির্বাচন কমিশন
আরও পড়ুনঃ মোবাইলেই রাজনাথ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমুল কথা কাটাকাটি

এনসিপি প্রধান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শরদ পাওয়ার-মেয়ে সুপ্রিয়া পাওয়ার। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়া-ছেলে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। প্রয়াত নেতা রাজেশ পাইলট-ছেলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সচিন পাইলট। প্রয়াত জিতেন্দ্র প্রসাদ-ছেলে জিনিত প্রসাদ। প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা অভিনেতা সুনীল দত্ত-মেয়ে প্রিয়া দত্ত। প্রমোদ মহাজন-মেয়ে পুনম মহাজন। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সাহিব সিং বর্মা- ছেলে প্রবেশ। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিং হুড্ডা-পুত্র দীপেন্দ্র। অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-ছেলে গৌরব। শীলা দীক্ষিত-ছেলে সন্দীপ।

আরও পড়ুনঃ নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও
আরও পড়ুনঃ জওহরলাল নেহেরুর গলায় মালা দিয়ে ৬০ বছর পরেও একঘরে ‘নেহেরুর বউ’

ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন কুমার- ছেলে অভিষেক। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং-ছেলে রাজবীর। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল- ছেলে কুলদীপ। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌতলা-ছেলে দুষ্মন্ত চৌতলা। রামবিলাস পাশোয়ান-ছেলে চিরাগ। কর্ণাটকে জনতা দল(সেকুলার) প্রধান এইচ ডি দেবগৌড়া-তাঁর ছেলে এইচ ডি কুমারস্বামী এখন কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কর্ণাটকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস বাঙ্গারাপ্পা-মেয়ে গীতা শিবরাজকুমার। উত্তরপ্রদেশে রাষ্ট্রীয় লোকদল প্রধান অজিত সিং-ছেলে জয়ন্ত চৌধুরি।

তামিলনাড়ুর করুণানিধি ও তাঁর পরিবার পরিবারতন্ত্রে কোন অংশে নেহেরু-গান্ধি পরিবারের চেয়ে কম নয়। ওড়িশায় বিজু পট্টনায়েক পরিবার, পাঞ্জাবে অমরিন্দার সিং পরিবার, উত্তরপ্রদেশে মায়াবতীর ভাই-ভাইপো, উদাহরণ আরও আছে, আরও অনেক। ভারতে পরিবারতন্ত্রের এই গল্প শেষ হবার নয়। পরিবারতন্ত্রের ঘটনা লিখতে শুরু করলে তা মহাভারত হয়ে যাবে। গোটা ভারতে সব রাজনৈতিক দলেরই একই হাল। জনগণকে গাধা বানিয়ে রেখে চলছে সেই পরিবারতন্ত্রেরই পুনরাবৃত্তি।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

বাংলার দিকে তাকালে সেখানেও সেই এক ইতিহাস। গানিখান চৌধুরী পরিবার যদি বাংলায় পরিবারতন্ত্রের শিক্ষক হয় তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই শিক্ষায় শিক্ষিত। পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবার থেকে ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়-শুভ্রাংসু, মানস ভুঁইয়া-তাঁর স্ত্রী গীতা রানী ভুঁইয়া, সবই তো মমতার হাত ধরে।

এমনকি বিধানসভা লোকসভা আসনগুলোর পর কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর পদগুলোকেও এবার কুক্ষিগত করে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। যেদিকেই তাকাবেন সেই পরিবারতন্ত্র। সে অরূপ-স্বরূপ-জুঁই বিশ্বাস বলুন বা একদম হালে ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়ানো মেয়র পারিষদ তারক সিং এর ছেলে অমিত সিং। ইতিহাস সেই এক। পরিবারতন্ত্র। কংগ্রেসের প্রিয়রঞ্জন-দীপা দাশমুন্সী বা বামেদের ক্ষেত্রে লক্ষণ শেঠ- তমালিকা পণ্ড শেঠ সেই পরিবারতন্ত্রেরই উদাহরণ।

আরও পড়ুনঃ আম দরবারে প্রকাশ্যে মহিলার ওড়না ধরে টান কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীর
আরও পড়ুনঃ মাঠ দিল না রাজ্য, মোদীর সভা ও হেলিকপ্টারের জন্য ফসল ত্যাগ শিক্ষকের

এটাই সত্য যে, মঞ্চে উঠে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের পরিবারতন্ত্রের কথা বললেও প্রায় সব রাজনৈতিক দলই জওহরলাল নেহেরুর দেখানো পথেই হাঁটতে পছন্দ করে। আর সেই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই নেতাদেরই ভাষণ শুনে আমরা হাততালিও দি। সেই হাততালিটা যে আমাদের বোকামোর জন্যই, সেটাই এখনও বুঝতে পারি নি আমরা। শিরদাঁড়াহীন ভারতবাসী, ‘রাম-দুর্গা-গরু-পাকিস্তান’ নিয়ে বোকার মত ব্যস্ত থাকা ভারতবাসী আদৌ কি কোনদিন সেটা বুঝতে পারব?!

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
বাংলার পুরমন্ত্রীই কি কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র https://thenewsbangla.com/municipal-affairs-minister-of-bengal-the-new-mayor-of-the-kolkata-municipality/ Wed, 21 Nov 2018 12:06:45 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2826 The News বাংলা, কলকাতা: মন্ত্রীত্ব থেকে শোভন চ্যাটার্জী ইস্তফা দেওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মেয়র পদ থেকেও ইস্তফা দিতে বলেন। কিন্তু এবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে কে বসবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। যে পদে একসময় ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সেই পদে এবার কে?

বরাবরের মত এবারেও শোনা যাচ্ছে, মেয়র হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দুই মেয়র পারিষদ- অতীন ঘোষ ও দেবাশিস কুমার। মমতার নির্দেশে, শোভন চ্যাটার্জীর অবর্তমানে যাবতীয় কাজের দেখভালের দায়িত্ব আপাতত থাকবেন পুরসভার কমিশনার খলিল আহমেদ।

Image Source: Google

তবে, মেয়রের চেয়ারে কে বসবেন সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। এতদিন তৃণমূলে মেয়র হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার নেতারাই। সে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই হোন বা শোভন চ্যাটার্জী, সেই সূচি মেনে দেবাশিস কুমারের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন অনেকে।

কিন্তু কারও কারও মতে, উত্তর কলকাতার মেয়র পারিষদরা ভালো কাজ করলেও সেই স্বীকৃতি এতদিন পাননি। সেই কারণেই এবার মেয়র হতে পারেন অতীন ঘোষ।

আরও পড়ুনঃ কয়েক দশকের সম্পর্ক শেষ করে শোভনকে তাড়ালেন মমতা

এর বাইরে আরও একটি নামও শোনা যাচ্ছে, সেটি হল বর্তমানে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়৷ দীর্ঘদিন তিনি পুরসভার মেয়র পারিষদের দায়িত্ব সামলেছেন। যদিও মাঝে তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব বেড়েছিল।

তিনি তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। কিন্তু ফের ঘাসফুলে ফিরলে, তাঁকে যোগ্য সম্মানই দিয়েছেন নেত্রী। সেক্ষেত্রে মালা রায়ের দিকেও পাল্লা ভারী বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুনঃ ঘাসফুল ছেঁটে মমতার ‘কাননে’ কি এবার পদ্ম

তবে শেষ পর্যন্ত উঠে এসেছে, রাজ্যের তিন হেভিওয়েট মন্ত্রীর নাম। সুব্রত মুখোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম। সুব্রতবাবু আগে কলকাতা করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ত্ব সফলভাবেই সামলেছেন। তবে এখন, সুব্রতবাবু মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি মেয়র হতে চান না বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর।

Image Source: Google

জোরদার লড়াই এখন অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমের মধ্যে। ফিরহাদ হাকিমের পাল্লাই ভারী বলে মনে করছে মমতার খুব কাছের তৃণমূল নেতারা। কারণ তিনি আগে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ ছিলেন। তাছাড়া তিনি রাজ্যের পুরমন্ত্রীও। পুরসভার মেয়র ও পুরমন্ত্রী একজন হলে কাজে গতি আসবে বলে মনে করেন স্বয়ং মমতাও।

আরও পড়ুনঃ প্রেমের জয়ে বদনাম বিশ্ব সংসার ‘অ-শোভন’

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ এ লোকসভা ভোট আর ২০২১ এ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোট পুরোটাই নিজের ঝুলিতে রাখতেই ফিরহাদ হাকিমকেই কলকাতার মেয়র করবেন মমতা। তবে, পুরসভার আইন অনুযায়ী কাউন্সিলর না হলে কেউ মেয়র হতে পারবেন না। তাই, ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র করতে হলে বিধানসভায় পুর আইন সংশোধন করতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।

জোরদার লড়াইয়ে আছেন অরুপ বিশ্বাসও। তৃণমূল সূত্রের খবর, ফিরহাদ ও অরুপ দুজনেই এখন দিদির খুব পছন্দের। অরুপ বিশ্বাস নিজেও মেয়র হবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তবে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মেয়র হবার দৌড়ে এগিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমই। তাই তাঁকে মেয়র পদে বসাতে কলকাতা পুরসভার আইন সংশোধন করতে চাইছেন মমতা, এমনটাই নবান্ন সূত্রে খবর।

আরও পড়ুনঃ মেয়রের পদত্যাগ দাবী করল তৃণমূল কংগ্রেস

শেষ পর্যন্ত কি পুরমন্ত্রীই হতে চলেছেন কলকাতার পরবর্তী মেয়র? সম্ভাবনা বাড়ছে। তবে, যিনি ঠিক করবেন তিনি এখনও ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেন নি বলেই খবর। আলোচনার বাইরে কোন বিশিষ্ট জনকেও তিনি কলকাতার মেয়র করতে পারেন বলে খবর।

এই পরিস্থিত ‘কাননে’র জায়গায় নেত্রী কাকে বসান, সেটাই এখন দেখার। অতীন-দেবাশীষ-সুব্রত-অরূপ-ফিরহাদ না এর বাইরে অন্য কেউ? সিদ্ধান্ত সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। আর কে না জানে, নেত্রী সবসময় ‘আনপ্রেডিকটেবল’। তিনি কি করবেন একমাত্ৰ তিনিই জানেন।

]]>