আরও পড়ুনঃপুলওয়ামায় ৪ লস্কর ই তৈবা জঙ্গিকে খতম করল ভারতীয় সেনা
জাতীয় ভূকম্পন বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, সকাল ৫ টা ১৪ মিনিটে প্রথমবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪.৯। এর কিছুক্ষন পরেই ৫ মাত্রার মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়। সর্বশেষ কম্পন অনুভূত হয় সকাল ৬ টা ৫৪ মিনিটে, যার মাত্রা ছিল ৫.২।
আরও পড়ুনঃপ্যান কার্ড আধার কার্ড লিংক করিয়েছেন, ৩১শে মার্চ ছিল শেষ দিন
আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সমগ্র অংশই ভূমিকম্পপ্রবন। অল্প বা মাঝারি মাপের ভুমিকম্প এখানে অস্বাভাবিক নয়, তবে পর পর ৯ বারের কম্পন সাম্প্রতিক অতীতে এখানে দেখা যায়নি। সোমবার ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে ৪ দশমিক ৯ রিখটার স্কেল তীব্রতায় প্রথমবার কেঁপে ওঠে আন্দামান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ৫ রিখটার স্কেলে দ্বিতীয়বার কম্পন অনুভূত হয়। পরে থেমে থেমে আরো ৭ বার কেঁপে ওঠে দীপপুঞ্জটি। শেষবার কাঁপে ৫ দশমিক ২ রিখটার স্কেলে সকাল ৬টা ৫৪ মিনিটে।
আরও পড়ুনঃদলের প্রার্থীকে জেতালেই পুরষ্কার সোনার গহনা, বিদেশ ভ্রমনের টিকিট
এমনিতে ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল বলেই পরিচিত আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। দিনে দুই থেকে তিনবার ভূমিকম্প প্রায়ই হয়। মাত্র দুঘণ্টায় নবার ভূমিকম্প এই প্রথম। তবে কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি দীপপুঞ্জটিতে।
এর আগে, গত ২৩ মার্চ ৫ দশমিক ১ তীব্রতায় কেঁপে উঠেছিল আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। তার আগে ১৩ ফেব্রুয়ারিও ভূমিকম্প হয় সেখানে। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৫।
আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
]]>জারোয়াদের দ্বীপে এক জারোয়া মায়ের অনুমতি নিয়ে তিনমাসের এক শিশুকে কোলেও নেন। ছ’বছরের গবেষণার শেষে মধুমালা লেখেন, ‘ওই আদিবাসী মানুষগুলো হয়তো প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে, কিন্তু সামাজিকভাবে তারা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে’।
আরও পড়ুনঃ বাংলা ফিল্মের জনপ্রিয় পরিচালকের রহস্যমৃত্যু
আজ থেকে প্রায় সাতাশ বছর পূর্বে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা তাঁর মুখ থেকেই শোনা যাক।
দিনটা ছিল ১৯৯১ সালের ৩ জানুয়ারি। রাতে এম ভি তারমুগলি জাহাজে করে নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হই আন্দামান ও নিকোবর প্রশাসনের উপজাতি কল্যাণ বিভাগের অধিকর্তা এস আওয়ারাদি, ডাক্তার অরুণ মল্লিক, সাধারণ পোশাকে দশ নিরাপত্তারক্ষী এবং আমি। পর দিন সকাল আটটা নাগাদ প্রচুর নারকেল নিয়ে একটি সরকারি নৌকায় চেপে আমরা এগিয়ে যাই দ্বীপের দিকে। প্রথমে চোখে পড়ে কয়েকটি কুঁড়েঘর।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের কোপে এবার প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
খানিক পরে সমুদ্রতীরে দেখা গেল অল্প কিছু সেন্টিনেলিকে। তাদের মধ্যে কয়েক জনের হাতে তির-ধনুক। জাহাজ দ্বীপের যত কাছে যেতে লাগলো, তাঁদের কিছুটা ভয়-ভয় করতে লাগলো! তবে, মধুমালা একটুও না ঘাবড়ে একটা একটা করে নারকেল গড়িয়ে দিতে থাকলেন সেন্টিনেলিদের দিকে। অন্য দিকে তারাও আহ্লাদের সঙ্গে সেগুলো কুড়িয়ে নিতে থাকে।
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, ১৯৮৯ সালে তিনি যখন আন্দামান এসেছিলেন, সেখানে ‘ওঙ্গে’ উপজাতিদের নিয়ে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল মধুমালার। তাদের ভাষাও কিছুটা রপ্ত করেছিলেন, এমনকি কিছু সাংকেতিক শব্দ বা ইঙ্গিত তিনি বুঝতে পারতেন। তার উপরে ভরসা করে মধুমালা যখন সেন্টিনেলিদের উদ্দেশে বললেন, ‘কাইরি ইচেইরা’ মানে দাঁড়ায়- ‘আমি তোমাদের মায়ের মতো, এ দিকে এসো’। তার উত্তরে কয়েকজন সাড়া দেয়! ‘নারিয়ালি জাবা, জাবা- মানে আরও নারকেল পাঠাও’। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ততক্ষণে নারকেলের ভাণ্ডার প্রায় শেষ।
আরও পড়ুনঃ মানুষের হুমকিতে বাংলায় ভূতেদেরও কথা বলার অধিকার কাড়া হল
অত:কিম, ওই দিনই দুপুর দুটো নাগাদ চটের বস্তায় করে প্রচুর নারকেল নিয়ে আবার আসা হলো মধুমালার নেতৃত্বে। এইবার তাঁরা আরো একটু সাহস সঞ্চয় করে আরও কাছাকাছি গেলেন। নারকেল বিতরণের সময় অনেক সেন্টিনেলিরা এসে নিলো। কিন্তু এল না শুধু একজন। আঠারো-উনিশ বছরের এক তরুণ দূর থেকে মধুমালাকে লক্ষ্য করছিলো! হটাৎ সে মধুমালার উদ্দেশে তীরের নিশানা করতেই তাকে ধাক্কা দেয় এক সেন্টিলেনি মহিলা।
তাদের নিশানা অব্যর্থ! কিন্তু ধাক্কার ফলে সেই বিষ মাখানো তীর জলে পড়ে যায়! ভাগ্যিস…. সেই মহিলা সেদিন তাঁর ত্রাতা হয়েছিলেন নাহলে…..। এই ঘটনায় একটু হকচকিয়ে গেলেও এই প্রথমবার সফল হল এই নিষিদ্ধ দ্বীপে ‘গিফ্ট ড্রপিং’ অভিযান। মধুমালার মতে, হয়তো সরকারি দলে এক মহিলার উপস্থিতি ওই উপজাতিদের বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পরিচালক মৃণাল সেনের ফিল্ম পরিচালনার কিছু ‘মণি মুক্ত’
১৯৯১ সালের আগেও ১৯৭৬ সালে বিশিষ্ট নৃতত্ত্ববিদ টি এন পণ্ডিতের নেতৃত্বে একটি দল ওই দ্বীপে যায়, কিন্তু সেই অভিযান সফল হয়নি। তবে ১৯৯৬ সালে টি এন পণ্ডিতের নেতৃত্বে আবার ওই দ্বীপে অভিযান হয়েছিল। যার সাথে ছিলেন মধুমালা চট্টোপাধ্যায়। যাতে তাঁকে সহজে চিনতে পারে তাই আগেরবারের মতোই তিনি পরেছিলেন নীল চুড়িদার ও সাদা ওড়না। এ বার নারকেল নিতে সেন্টিনেলিরা সরাসরি নৌকাতেই উঠে আসে।
মধুমালার সৌভাগ্য যে তিনি এই দ্বীপপুঞ্জের ছ’টি উপজাতি- ‘গ্রেট আন্দামানিজ’, ‘ওঙ্গে’, ‘জারোয়া’, ‘সেন্টিনেলি’, ‘শম্পেন’ এবং ‘নিকোবরিজ’ প্রত্যেককে নিয়ে কম-বেশি কাজ করেছেন। এর জন্য সফর করেছেন প্রত্যেকটি উপজাতির মূল আবাসস্থলে। লিটল আন্দামান থেকে মিডল আন্দামান, গ্রেট নিকোবর থেকে কার নিকোবর সর্বত্র তাঁর পদচিহ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন: বছর শেষে আবার ইন্দ্রপতন, প্রয়াত চিত্র পরিচালক মৃনাল সেন
সেখানে তিনি পরিচিত ‘জংলি ম্যাডাম’ এই নামে। তিনি এই বিষয়ে প্রকাশ করেছেন কুড়িটি গবেষণাপত্র। তাঁর লেখা বই ‘ট্রাইবজ অফ কার নিকোবর’ স্থান পেয়েছে ব্রিটিশ মিউজিয়াম, অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে।
এই উপজাতি একেবারেই প্রাচীন! এই দ্বীপে এর আগেও ১৮৮০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নেতৃত্বে দ্বীপটির বাসিন্দাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। সেবার দ্বীপের ৬ জন বাসিন্দাকে তুলে আনা হয়। এর মধ্যে চারজন শিশু। প্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে দ্বীপ থেকে আনার পরপরই মারা যায়। বাকি বাসিন্দাদের কিছুদিন রাখার পর কোন তথ্য না পেয়ে তাদের ঐ দ্বীপে রেখে আসা হয়। প্রায় ৬০ বছরের পুরানো এই দ্বীপ বঙ্গপোসাগরের বুকেই অবস্থিত।
আন্দামান নিকোবরের অন্তর্গত এই দ্বীপটির মালিকানা কাগজ কলমে ভারতের হাতে। কিন্তু কারোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না তারা। তারা বস্ত্র হিসেবে এখনো গাছের পাতা বা বাকল অথবা পশুর চামড়া ব্যবহার করে। খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বনের ফলমূল ও শিকার কৃত পশুর মাংস। তারা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন সাংকেতিক শব্দ ব্যাবহার করে। অর্থাৎ তাদের কোন কথিত ভাষা নেই। তারা সংখ্যায় কতজন সেই বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।
সম্প্রতি আন্দামানের সেন্টিনেলিজ়দের তিরের আক্রমণে মার্কিন যুবক জন অ্যালেন চাউয়ের মৃত্যুর খবরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল সারা বিশ্বে। অনেকেই বলেন সেন্টিনেলিজ়দের তাদের মতো ছেড়ে দেওয়াই উচিত। আবার কারও-কারও মতে তারা ‘হিংস্র’, তাই তাদের ‘সভ্য’ করার দায়িত্ব আমাদের!
তারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে অ্যালেন চাউয়ের বহু বছর আগেই এই ‘সভ্য’ জগতের একজন সফলভাবে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলেছিলেন সেন্টিনেলিজ় এবং জারোয়াদের সঙ্গে। তিনি এক বাঙালি কন্যা, মধুমালা চট্টোপাধ্যায়। নিষিদ্ধ দ্বীপের বাঙালি রানী।
আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
]]>আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: নতুন বছরে সুখবর, রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন বকেয়া ডিএ
কলকাতা সহ গোটা রাজ্যেই গত কয়েকদিন ধরে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুটো তাপমাত্রাই এইসময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার থেকে বেশ কিছুটা কম আছে। আর তার জেরেই রাজ্য জুড়ে শীতের আমেজ রয়েছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। আর এবার সেই হাড় কাঁপান ঠাণ্ডায় বাংলাবাসীকে আরও কিছুটা বেগ দিতে কি আসছে ঘূর্ণিঝড়ের বৃষ্টি?
আরও পড়ুনঃ বাংলায় আবার নক্ষত্র পতন, চলে গেলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক
বাংলার মানুষ বেশ আনন্দেই শীত উপভোগ করছে। আগামী কয়েকদিনও একই রকম ঠান্ডা থাকবে বলেই জানা গেছে। আর এর মধ্যেই নতুন খবর দিল আলিপুর হাওয়া অফিস। আন্দামানে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’। যার জেরে বৃষ্টি হতে পারে এই বাংলার বেশ কিছু অংশে।
আরও পড়ুন: বাঘ খুঁজতে ব্যর্থ হাতি, উত্তরের জঙ্গল সাফারিতে উড়বে ড্রোন
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই আন্দামানে ধেয়ে আসছে একটি ঘূর্ণিঝড়। দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপরে একটি ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়েছে। ‘পাবুক’ নামে এই ঘূর্ণিঝড়টি এই মুহূর্তে পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ১৫০০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ চীন সমুদ্রের উপর অবস্থান করছে বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুন: ‘রাম’কে ছেড়ে আসা লক্ষণকে ‘হাতে’ নিয়ে বাংলায় তুলকালাম
‘পাবুক’ ঘূর্ণিঝড়ের জেরে আগামী ৫ ও ৬ জানুয়ারি আন্দামানে ভারী থেকে অতভারী বৃষ্টি হবে। আর তার ছোঁয়া লাগতে পারে বাংলাতেও। কলকাতা সহ বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মেঘলা আকাশ থাকবে, মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টিও হতে পারে। মেঘলা থাকবে কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুরও। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে বাংলায় আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা আগামি দু দিনের মধ্যেই পরিস্কার বোঝা যাবে বলেই জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস ছেড়ে মমতার ‘মহানায়িকা’ এবার মোদীর বক্স অফিসে
এর জেরেই ৪ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি আন্দামানে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পর্যটকদেরও সাবধান করা হয়েছে সমুদ্রবিহারে।
আরও পড়ুন: পরিচালক মৃণাল সেনের ফিল্ম পরিচালনার কিছু ‘মণি মুক্ত’
আলিপুর হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টা স্বাভাবিকের নীচেই থাকবে তাপমাত্রা। উত্তরবঙ্গেও আগামী দুদিন বৃষ্টির একটা সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও বৃষ্টির একটা সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। সিকিমের বেশ কিছু এলাকায় ফের তুষারপাত হবে, এমন সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আরও পড়ুনঃ ছেলেকে টিউশনে দিয়ে ফেরার পথে গৃহবধূকে গণধর্ষণ
ডিসেম্বরেই আন্দামান উপকূলের নিম্মচাপ থেকে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ফেথাই’য়ের প্রভাবে উত্তাল হয় বঙ্গোপসাগর। আন্দামান সাগর থেকে বঙ্গোপসাগরে এসে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়টি। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবেও কলকাতা সহ রাজ্যে বৃষ্টি হয়। ‘ফেথাই’য়ের পর এবার ‘পাবুক’। এই ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাব বাংলায় কতটা পরে, শীতের বাংলায় বৃষ্টি হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।
]]>আরও পড়ুনঃ স্বীকৃতি না রাজনৈতিক ফায়দা, নেতাজীকে নিয়ে বিতর্কে মোদী
আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের তিনটি দ্বীপের নাম বদলে যাচ্ছে। জানা গিয়েছে রস দ্বীপ, নেলি দ্বীপ এবং হ্যাভলক দ্বীপের নাম বদলে যাচ্ছে। নতুন নাম হচ্ছে যথাক্রমে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ, শহিদ দ্বীপ এবং স্বরাজ দ্বীপ।
আগামী ৩০শে ডিসেম্বর রবিবার আন্দামানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখনই আনুষ্ঠানিক ভাবে নাম ঘোষণা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে নাম বদল করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাজই করা হয়ে গিয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও।
আরও পড়ুনঃ নরেন্দ্র মোদীর হাতেই উদ্বোধন হচ্ছে ভারতের দীর্ঘতম দোতলা সেতু
নাম বদলের পাশাপাশি ১৫০ মিটার লম্বা একটি জাতীয় পতাকাও উড়িয়ে দেবেন মোদী ও রাজনাথ। ৭৫ বছর আগে ১৯৪৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজাদ হিন্দ সরকার তৈরি করেন নেতাজী। সেই ঘটনাটিকে স্মরণ করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিজের সরকারের প্রতিষ্ঠা করে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপ দুটির নাম স্বাধীন এবং স্বরাজ রেখেছিলেন নেতাজী। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে।
দেশের আসল বীরদের যোগ্য সন্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার, এমনটাই দাবি বিজেপি নেতাদের। আর তারই ফলস্বরূপ এই বছর আন্দামানে আজাদ হিন্দ সরকার গঠনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দিল্লীর লাল কেল্লা থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মোদী। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নেতাজীর আজাদ হিন্দ ফৌজের হয়ে লড়াই করা স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।
আরও পড়ুনঃ শহীদ জওয়ানকে সম্মান নয়, সেনাকে পাথর ছুঁড়ে দেশদ্রোহীরাই ভারতে ‘নায়ক’
আর এবার নেতাজীর সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এক বড় পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৩০শে ডিসেম্বর আন্দামানে নেতাজীর আজাদ হিন্দ বাহিনীর পতাকা উত্তোলনের ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। জানা গেছে এই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার যাবেন। তখনই নামকরণ ও পতাকা ওড়ানোর কাজ হবে।
নামবদল নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয় বছর দেড়েক আগে। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে রাজ্যসভার এক বিজেপি সাংসদ হ্যাভলক দ্বীপের নাম বদলের সুপারিশ করেন। হ্যাভল ছিলেন ব্রিটিশ সেনা বাহিনীর জেনারেল। তিনি ভারতীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাই দ্বীপের নাম হ্যাভলক রাখা লজ্জাজনক বলে মনে হয়েছিল তাঁর। এরপরই শুরু হয় সরকারী প্রক্রিয়া।
গত কয়েক মাস ধরেই নামবদলের প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর বছর দেড়েকের সময়কালের মধ্যে একাধিক নামবদল করেছেন বা বদলের সুপারিশ করেছেন। তাঁর সুপারিশে মোঘলসরাই রেল স্টেশনের নাম হয়েছে দীন দয়াল উপাধ্যায় জংশন। এছাড়া এলাহাবাদের নাম বদলে হয়েছে প্রয়াগরাজ।
আরও পড়ুনঃ ‘মুসলিম’ নাম বদলে ‘রামরাজ্য’ আনতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ
বিজেপির এক সাংসদ আবার চান আগ্রার নাম বদলে হোক আগ্রাভান। অন্যদিকে দাদরি গণপিটুনি কান্ডে নাম জড়ানো বিজেপি বিধায়ক সাধনা সঙ্গীত সোম চান মুজফফরনগরের নাম বদলে হোক লক্ষ্মী নগর। সেটা হতেও চলেছে। শুধু নিজের রাজ্যে আটকে না থেকে যোগী তেলেঙ্গানার জেলা করিমনগরেরও নাম বদলের কথাও বলেছেন। এখানেই শেষ নয়, শোনা যাচ্ছে গুজরাটে বিজয় রুপানির সরকার আমেদাবাদের নাম বদলে কর্ণবতী রাখতে চায়।
এইসব নামবদল নিয়েই চলছে তুমুল বিতর্ক। তবে, রস দ্বীপ, নেলি দ্বীপ এবং হ্যাভলক দ্বীপের নাম বদলে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ, শহিদ দ্বীপ এবং স্বরাজ দ্বীপ রাখা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে বিরোধীরা এই নাম পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও, এটাকে ভোটের আগে চমক বলে সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ লোকঠকানির লোন মাপ, রাহুলকে লজ্জায় ফেলে আত্মঘাতী কৃষক
তবে, এই নিয়ে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতারা। তাঁরা জানিয়েছেন, ‘নেতাজীকে সম্মান দেওয়া নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাঁরা আগে কোনদিন ভারতের এই মহান সন্তানকে শ্রদ্ধা জানান নি’। এখন নরেন্দ্র মোদী সরকার নেতাজীর সেই অবদানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে তাই এত সমালোচনা’। লোকসভা ভোটের আগে ফের দেশ জুড়ে নেতাজী চর্চা।
]]>