Ajmal Kasab – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sat, 26 Nov 2022 08:09:43 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Ajmal Kasab – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 মুম্বাই হামলার মত ফের জলপথে জঙ্গি হামলার ছক https://thenewsbangla.com/terrorist-attack-to-indian-port-from-sea-route-like-26-11-mumbai-attacked/ Tue, 05 Mar 2019 06:46:23 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7504 আরও বেশ কিছু আজমল কাসভ এর মত জঙ্গি ভারতে পাঠিয়ে হাজার হাজার সাধারন মানুষকে মেরে ভারতকে শিক্ষা দিতে চায় পাক জঙ্গিরা। ২৬/১১ এর মত ফের জঙ্গি হামলার ছক কষছে জেহাদি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। না, কোন সূত্রের খবর নয়। অকাট্য প্রমাণ রয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে। আর এই কথা জানিয়েছেন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লাম্বার।

আরও পড়ুনঃ ঘরে ঢুকে মারব জঙ্গিদের, প্রকাশ্যে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

২৬/১১-এর মুম্বইয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার কায়দায় ফের সমুদ্রপথ দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলার ছক কষেছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী। এদের পোশাকি নাম ‘সমুন্দর জেহাদি’ বা সমুদ্র জেহাদি। পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। এবার ‘বালাকোটের অপমানের’ বদলা নিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে চলেছে পাক জঙ্গিরা। প্রমাণ এসেছে ভারতীয় সিক্রেট সার্ভিসের কাছে, জানিয়েছেন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লাম্বার।

আরও পড়ুনঃ জঙ্গিদের সরাসরি সেনাবাহিনীতে নিচ্ছে ইমরানের পাকিস্তান

মুম্বাই হামলার মত ফের জলপথে জঙ্গি হামলার ছক/The News বাংলা
মুম্বাই হামলার মত ফের জলপথে জঙ্গি হামলার ছক/The News বাংলা

২৬/১১-এর মুম্বইয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার কায়দায় ফের সমুদ্রপথ দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলার ছক কষেছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী। এদের পোশাকি নাম ‘সমুন্দর জেহাদি’ বা সমুদ্র জেহাদি। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাদের কাছে পাওয়া বিভিন্ন সূত্রে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের মদতে তৈরি বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের ‘সমুদ্র জেহাদ’ নামে দল তৈরি করেছে।

আরও পড়ুনঃ ভারত পাকিস্থান ও চীন এর হাতে সেনা ও অস্ত্র কত

এরা বিভিন্ন সমুদ্র পথ দিয়ে ভারতের মূল ভুখণ্ডে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর সবটাই হচ্ছে পাকিস্তানের ‘ডার্ক স্টেট’-এর নির্দেশে এমনটাই জানা যাচ্ছে নৌসেনা সূত্রে। উল্লেখ করা যেতে পারে, কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো এক গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে ভারতীয় নৌসেনাকে নিশানা করতে পারে জঙ্গিরা। বালাকোটে ভারতের বিমান হানার পর সেই সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে বলেই জানিয়ে দিয়েছেন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লাম্বার।

আরও পড়ুনঃ মমতার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রমাণ চাইলেন মেহেবুবা

ভারতে লোকসভা ভোটের মধ্যে বা তার আগেই ২৬/১১-র মুম্বাইয়ের মত ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার কায়দায় ফের ভারত কাঁপাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে পাক-মদতপুষ্ট উগ্রবাদী ‘সমুন্দর জেহাদি’ বা ‘সমুদ্র জেহাদি গোষ্ঠী’। ২৬/১১-এর মুম্বইয়ের মতই ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার কায়দায় ফের সমুদ্রপথ দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলার ছক কষেছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী। জইশ ই মহম্মদ ও লস্কর ই তৈবা জঙ্গি গোষ্ঠী এই চক্রান্তের পিছনে আছে বলেই পরিষ্কার জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ভারত সীমান্তে জঙ্গি হামলা ঠেকাতে আধুনিক নজরদারি

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বালাকোট হামলার বদলা নিতেই পাকিস্তানের মদপুষ্ট বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন যৌথভাবে ‘সমুন্দর জেহাদি’ বা ‘সমুদ্র জেহাদি গোষ্ঠী’ নামে দল তৈরি করেছে। এরা সমুদ্রের বিভিন্ন চ্যানেল দিয়ে ভারতের মূল ভুখণ্ডে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কোন শহর জঙ্গিদের টার্গেট সেটা এখনও পরিষ্কার জানা যায়নি বলেই জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে ফের বেলাগাম সিধু

পাকিস্তানের ‘ডার্ক স্টেট’-এর নির্দেশে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা যাচ্ছে। উল্লেখ্য ২০০৮ সালে ভারতের ব্যস্ততম নগরী মুম্বাইয়ের বুকে এক জঙ্গি হামলায় পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১৭৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্য হয়। ঠিক সেই ভাবেই যত বেশি সংখ্যক মানুষ মারতে চায় জঙ্গিরা। দেশের সব সমুদ্র বন্দরকে সতর্ক করা হয়েছে গোয়েন্দাদের তরফ থেকে।

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের কোপে এবার প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
আরও পড়ুনঃ Exclusive পাকিস্তান থেকে পালানোর জন্য তৈরি থাকুন জঙ্গিদের জানাল জইশ

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
আজমল কাসভের একে ৪৭ এর বুলেটের সামনে দুই নার্স https://thenewsbangla.com/two-nurses-infront-of-ajmal-kasabs-ak-47-bullets-in-mumbai-terror-attack/ Thu, 29 Nov 2018 14:05:19 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3306 অঞ্জলি কুলঠে ও মাধুরী রাহাতে। নাম দুটো কারোর জানা নেই। না থাকারই কথা। কারন, আমরা কোনদিনই যোগ্য মানুষদের সম্মান দিতে পারি নি। অঞ্জলি কুলঠে ও মাধুরী রাহাতে হলেন সেই ১৫ জন নার্সের অন্যতম, যারা ১৪ বছর আগে ১৫০ জন রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে ছিলেন আজমল কাসভের একে-৪৭ এর বুলেট থেকে।

Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা
Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা

২৬/১১/২০০৮, দিনটা তাঁরা কোনদিন ভুলবেন না। সেদিন তাঁদের নাইট ডিউটি ছিল। মুম্বাই এর কামা হাসপাতালের এন্টিন্যাটাল ওয়ার্ডে। ডিউটি করতে করতে হঠাৎ তাঁরা যেন কিসের শব্দ পেলেন। ভয়ংকর শব্দ। ফটফট ফটফট শব্দ। গুলির শব্দ। সিনেমার মত নয়। ছুটে গেলেন কাঁচের জানালায়।

আরও পড়ুনঃ ‘কাসভের বেটি’, জঙ্গি চিনিয়ে দেবার ‘পুরষ্কার’ পাচ্ছে দেবিকা

দেখলেন, তাঁদের হাসপাতালের দুই রক্ষীর রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। আর লাফিয়ে হাসপাতালে ঢুকছে দুই জ’ঙ্গি। পরে যাদের তাঁরা সনাক্ত করেছিলেন আজমল কাসভ এবং আবু ইসমাইল হিসাবে। ভয়ে তাঁরা ছুটে গিয়ে বন্ধ করে দেন ওয়ার্ডের দুটো দরজা। কারণ তখন তাঁদের দায়িত্বে ১৫০ জন রোগী, আর তার মধ্যে ২০ জন মেয়ে যারা প্রত্যেকে মা হওয়ার অপেক্ষায়।

Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা
Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা

জঙ্গি দুজন একের পর এক ফ্লোর পার করছে। গুলি চালাচ্ছে। গ্রেনেড ছুঁড়ছে। হাড়হিম করা পরিস্থিতি। কিন্তু তাঁরা জানেন, যে তাঁদের ভয় পেলে চলবে না। যে নার্সের পোশাক তাঁরা পরে আছেন,তাতে জড়িয়ে আছে প্রত্যেক মা এবং তাদের গর্ভস্থ সন্তানকে রক্ষার দায়িত্ব। তাঁরা ঠিক করে নিলে্‌ তাঁদের বাঁচতে হবে আর সবাইকে বাঁচতেই হবে।

আরও পড়ুনঃ একে ৪৭ এর গুলি বুকে নিয়েও কাসভকে ছাড়েন নি তুকারাম

নার্সরা প্রথমেই সকল মেয়েদের নিয়ে গেলেন, ওয়ার্ডের একেবারে কোণায় প্যান্ট্রি ঘরে। তারপর ডাক্তারদের সতর্ক করলেন এবং খুব গোপনে ফোন করলেন পুলিশকে। প্রত্যেকটা মুহূর্তে স’ন্ত্রাসীদের অস্ত্র থেকে গুলি নিক্ষেপে কেঁপে কেঁপে উঠছে গোটা হাসপাতাল। তাঁদের সহকর্মী এক আয়ার গায়ে লাগল গুলি, জানালা ভেদ করে।

Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা
Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা

রক্তাক্ত কলিগকে শুশ্রূষা করছেন। ওই ভয়াল অবস্থায় এক মেয়ের গর্ভযন্ত্রনা উঠলে তাকে ধরে ধরে লেবার রুমে নিয়ে গেছেন। কারণ প্রায় সব আলো নেভানো ছিল। বাঁচার জন্য। সন্ত্রা’সীদের দৃষ্টি এড়ানোর জন্য। চিকিৎসক এবং সহকর্মীদের সহায়তায় নতুন প্রাণকে পৃথিবীর আলো দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। এক ফ্লোর থেকে আর এক ফ্লোরে গেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। আজমল কাসভ এবং আবু ইসমাইল এর সামনে পরে গেলেই, বিদায় নিতে হবে পৃথিবী থেকে।

চারপাশে সন্ত্রাসের আঁধার, আর তার ভেতরে নতুন প্রাণের আগমন। মাত্র একটা টিউবলাইটের আলোয়। একমাত্র তাঁদের সাহসের জন্য সম্ভব হয়েছিল পুরো ব্যাপারটা। তাঁদের ডিউটি ড্রেসই হয়ে উঠেছিল তার শক্তির উৎস। দুজনের নেতৃত্বে ওই ১৫ জন নার্সই প্রাণ বাঁচিয়েছেন ১৫০ জন মানুষের।

Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা
Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা

এরপরে পুলিশ এসেছে। আঁধার রাত কেটেছে। অঞ্জলি কুলঠে নিজে গিয়ে আজমল কাসভকে সনাক্ত করেছেন। পুলিশকর্মীরা তাকে অভিবাদন জানিয়েছেন। আজমল কাসভের ফাঁসিও হয়েছে। ওইদিন রাতে এক ভয়ংকর অবস্থায় বিন্দুমাত্র মনের জোর না হারিয়ে অঞ্জলি কুলঠে ও তাঁর নার্স বাহিনী, এতজন মা এবং তাদের গর্ভস্থ সন্তানদের সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। সেই অসামান্য বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার জন্য তাঁদের কুর্নিশ জানাতে পারে নি কেউই।

Image Source: Google

কারণ, তাদের এই অসামান্য লড়াইকে সামনে আনা হয় নি। প্রসংসার আলো সবটাই নিয়ে গেছেন ডাক্তাররা। তাঁদের সাহস দেখে মাইনে বাড়িয়ে দেবার ঘোষণা করা হয়েছিল। সেটাও ঠিকমত হয় নি।

আজ ২৬/১১ এর চোদ্দ বছর অতিক্রান্ত। আমরা আজ সেইদিনের লড়াকু সাহসী শহিদদের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি। যারা দেশমাতাকে রক্ষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। তাদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিপরীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতজন মানুষকে সন্তানসম আগলে রেখে নতুন জীবনের আলো আনলেন যে অসমসাহসি নার্সরা, তাঁরাও নিজ অবদানে সমানভাবে উজ্জ্বল।

]]>
একে ৪৭ এর গুলি বুকে নিয়েও কাসভকে ছাড়েন নি তুকারাম https://thenewsbangla.com/tukaram-did-not-leave-kasab-after-getting-all-the-bullets-of-ak-47-on-the-chest/ Wed, 28 Nov 2018 09:52:04 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3218 একে ৪৭ এর সবকটা গুলি বুক ফুঁড়ে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেলেও, তাঁর হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারে নি পাক জ’ঙ্গী। তুকারাম ওম্বলের হাতই হয়ে উঠেছিল, আজমল কাসভের ফাঁসির ফাঁন্দা।

২৬,১১,২০০৮, ১৪ বছর আগে সেদিন রাতের শিফটে ডিউটি ছিল তুকারাম ওম্বলের। হালকা মেজাজে ভাবছিলেন কদিন পরেই শীতের আমেজ আসবে, মুম্বাই সেজে উঠবে উৎসবের মেজাজে। বান্দ্রা, জুহু, অন্ধেরি, সব জায়গা উঠবে ঝলমলিয়ে। ছেলেমেয়েরা ধরেছে শীতের ছুটিতে, কোথাও একটা যাবে।

হাসি পেল তুকারামের, পুলিশের আবার ছুটি। কোন উৎসবেই তাদের ছুটি চাওয়া পাপ। গণপতি উৎসব, দেওয়ালি, হোলি কিছুতেই মেলে না ছুটি। তবু পরিবারের মানুষেরা চায় তাকে। এবার একটা চেষ্টা করবে ছুটি নেবার।

The Newsবাংলা

ভাবতে ভাবতে মনটা পিছন ফিরে চলে গেল। সেই কবে আর্মিতে যোগ দেবার পর থেকেই, ছুটি বলে কিছু নেই জীবনে। তারপর কতদিন পেরিয়ে গেছে, খালি ডিউটি আর এদিক ওদিক ছুটে বেড়ানো। বাড়ি থেকে কতো দূরে থাকতে হত, সেই সৈনিক জীবনে। কিন্তু সেই জীবনে একটা রোমাঞ্চ ছিল। দেশরক্ষার গর্ব গর্বিত করত। ঝুঁকি নিতে বেশ লাগত।

দেশপ্রেমটা তার মধ্যে চিরকালই বেশি। আর্মি থেকে অবসরের পর যোগ দেন, মুম্বাই পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর পদে। ঘর থেকে ডিউটি। নিরুপদ্রব জীবন, এতেই অভ্যস্ত হয়েছেন এখন। তাও মাঝে-মাঝে আর্মির সেই দিনগুলো মনে পড়লে রক্ত গরম হয়, জীবন চায় আবার অভিযান করতে। আবার তারপর মনে হয় এই বেশ, পরিবারকে সময় দেওয়া যাচ্ছে।

ভাবনার ছেদ পড়ল ইনস্পেক্টর ইন চার্জের উত্তেজিত কন্ঠে। ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস এ জ’ঙ্গী হানা হয়েছে। বহু মানুষ হতাহত। জ’ঙ্গীরা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে, অ্যান্টি টেররিস্ট শাখার অফিসার হেমন্ত কারকারে, এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট বিজয় সালাসকারকে।

Image Source: Google

তাদের কোয়ালিস গাড়ি নিয়ে জ’ঙ্গীরা এদিকেই আসছে। অফিসার দ্রুত পজিশন নিতে বললেন সবাইকে। রক্ত গরম হয়ে উঠল ওম্বলের। ফোর্সকে রেডি হতে বলে, লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়লেন রাস্তায়।

এদিকে ইসলা’মিক ফি’দায়ে জ’ঙ্গী গোষ্ঠীর দুই সদস্য, আজমল কাসভ ও ইসমাইল খান শিবাজি টার্মিনাস এ হামলা চালিয়ে প্রচুর মানুষকে হ’ত্যা করে বাইরে বেরিয়ে এল। চারদিকে আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটি, চিৎকার। ততক্ষণে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে পুলিশ। হঠাৎ জ’ঙ্গিদের গাড়ির চাকা বার্স্ট করলো। তারা একটা অন্য গাড়ি দখল করে ছুটল। মুম্বাই পুলিশের অসহায় আত্মসমর্পণ আর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এর বহর দেখে মজা করতে লাগল তারা।

আরও পড়ুনঃ ‘কাসভের বেটি’, জঙ্গি চিনিয়ে দেবার ‘পুরষ্কার’ পাচ্ছে দেবিকা

বেশ মজা লাগল পাক জ’ঙ্গীদের। ভারতীয়গুলোর রক্ত দেখা পবিত্র কর্তব্য। আবার কয়েক রাউন্ড গুলি করল, জনগনকে লক্ষ্য করে। চিৎকার আরো বাড়ল। দেখা গেল একটা টয়োটা গাড়ি আসছে লাল বাতি লাগানো। পজিশন নিলো তারা। গাড়ি থেকে সালাস্কার, হেমন্ত কারকারে প্রমুখ নামতেই গুলিবর্ষণ শুরু করল। ঝাঁঝরা হয়ে গেল অফিসাররা। গাড়িটার দখল নিল কাসভ। গাড়ি ছুটল তাজ হোটেল লক্ষ্য করে।

বাহিনী নিয়ে রাস্তায় নাকা চেকিং করছে পুলিশ। সমস্ত গাড়িতে তল্লাশি চলছে। চৌপট্টি এলাকায় ডবল ব্যারিকেড করেছে পুলিশ। দেখা গেল তীর বেগে ছুটে আসছে একটি স্কোডা গাড়ি। আটকাতেই গাড়ি থেকে ছুটে এল গুলির ঝাঁক। পুলিশও গুলি চালাল। এক জ’ঙ্গী ঝাঁঝরা হয়ে গেল।

Image Source: Google

অপরজনের কাঁধে গুলি লাগল। সে চালাচ্ছিল গাড়ি। দ্রুত ইউ টার্ন নিল গাড়ি। এই সময় এক জ’ঙ্গির উপর, ঝাঁপিয়ে পড়লেন তুকারাম। একে জ্যান্ত ধরব। শরীরে ফুটছে আর্মি রক্ত। দেশপ্রেমের আদর্শ উত্তাল সমুদ্রের মতো উথাল পাথাল করছে। কানে বাজছে সেই মিলিটারি কমান্ডারের আদেশ, “দেশকি শত্রুও কো হাম নেহি ছোড়েঙ্গে। দেশ হামারে মা হ্যায়। মিট্টিমে মিলা দুঙ্গা দেশ কি শত্রুও কো”।

তুকারাম হাতের লাঠি দিয়ে সজোরে ঘা দিলেন গাড়ির দরজায়। এক হ্যাঁচকা টানে খুলে ফেললেন গাড়ির দরজা। টেনে ধরলেন তার বন্দুকের নল। ঝাঁপিয়ে পড়লেন জ’ঙ্গীর ওপর। আর তখনই জ’ঙ্গী গুলি চালাতে শুরু করল। বুকে পরপর ঢুকে যাচ্ছে বুলেট। রক্তে ভিজছে তার ইউনিফর্ম। বুক ভেদ করে পিঠ দিয়ে ছুটছে রক্তের ফোয়ারা।

Image Source: Google

কিন্তু লৌহকঠিন দুই হাত পেঁচিয়ে ফেলেছে জ’ঙ্গীর গলা। প্রাণপণে আঁকড়ে ধরেছেন তাকে। যেভাবে ধৃতরাষ্ট্র কঠিন হাতে পিষে দিয়েছিল লোহার ভীমকে। যেভাবে শোলে ফিল্মে ঠাকুর, হাতের ফাঁসে ধরেছিলেন গব্বরকে। সেভাবেই আঁকড়ে ধরলেন কাসভকে। অক্টোপাসের নাগপাশ ছাড়াতে পারল না সে।

অন্য পুলিশরা ধরে ফেলল কাসভকে। বন্ধন আলগা হোল তুকারামের। দু হাত প্রসারিত করে, শুয়ে পড়লেন দেশের মাটির ওপর, ভারতমায়ের বুকে। ভলকে-ভলকে রক্ত ভাসিয়ে দিল তার জামা, তার পুলিশের ইউনিফর্ম। আকাঙ্ক্ষিত ছুটি মিলল তাঁর। তবে চিরদিনের মত। রাতটা ছিল ২৬/১১ সালটা ২০০৮। শহিদ হলেন তুকারাম ওম্বলে।

Image Source: Google

তাঁর অসম সাহসী এই লড়াই সেদিন ধরিয়ে দিয়েছিল, মুম্বই হামলার একমাত্র জীবিত জ’ঙ্গী কাসভকে। তার থেকে জানা গিয়েছিল, তার পাকিস্তানি পরিচয়। আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দেবার অকাট্য প্রমান পেয়েছিল ভারত।

সরকার সম্মান জানিয়েছিল এই বীর শহিদকে। প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁকে মরণোত্তর অশোক চক্র সম্মান দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রমান করেছিলেন দেশদ্রো’হীদের থেকে দেশপ্রেমিকদের ক্ষমতা অনেক বেশী। সম্মান জানাই তাঁকে। জয়হিন্দ। জয় তুকারাম ওম্বলে।

]]>
‘কাসভের বেটি’, জঙ্গি চিনিয়ে দেবার ‘পুরষ্কার’ পাচ্ছে দেবিকা https://thenewsbangla.com/devika-rotawan-is-awarded-for-identify-the-militant-kasab-ki-beti/ Tue, 27 Nov 2018 09:49:55 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3162 দেবিকা রোতওয়ান, বয়স তখন মাত্র ৯। পুণে যাওয়ার জন্য সেদিন মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি টারমিনাস স্টেশনে অপেক্ষা করছিল দেবিকা রোতওয়ান ও তার পরিবার। হঠাৎই গুলির শব্দ, তারপরেই চারিদিকে রক্ত আর রক্ত। দেবিকা দেখেছিল, একটা ছেলে পিঠে ব্যাগ নিয়ে সবাইকে গুলি করে মারছে। একটা গুলি এসে লেগেছিল তার পায়েও। ছ-ছটি অস্ত্রোপচারের পর সে সুস্থ হয় ঠিকই, কিন্তু পিঠে ব্যাগ নেওয়া সেই সন্ত্রাসবাদী আজমল কাসভকে চিনিয়ে দেওয়ার ‘শাস্তি’ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে আজও।

The News বাংলা Devika Rotawan

দিনটা ছিল ২৬ নভেম্বর, ২০০৮। ঠিক ১৪ বছর আগের ঘটনা। মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি টারমিনাস স্টেশনে হামলাকারী জ’ঙ্গি কাসভকে শনাক্ত করেছিল দেবিকা। সেই সময়ে মাত্র ৯ বছরের ছোট্ট মেয়ে দেবিকা রোতওয়ান। তাঁর শনাক্তকরণের উপর ভিত্তি করেই শাস্তি দেওয়া হয় এই ভয়ঙ্কর জ’ঙ্গিকে।

The News বাংলা Devika Rotawan
১০ বছর পরেও পায়ে গুলির দাগ/ The News বাংলা Devika Rotawan

বলাবাহুল্য, দেশের জন্য এক বিরাট কাজ ছিল সেটা। প্রাপ্য শাস্তি পেয়েছে কাসভ। কিন্তু সেই গর্ব ধুয়ে-মুছে শেষ হয়ে যাচ্ছে দেবিকার জীবনে। কাসভকে চিনিয়ে দেওয়ার ‘শাস্তি’ আজও বয়ে বেড়াচ্ছে দেবিকা।

The News বাংলা Devika Rotawan

সবাই ধরে নিল সন্ত্রা’সবাদীদের প্রত্যাঘাতের মুখে পড়তেই হবে দেবিকাকে। কোনও না কোনও দিন তারা কাসভের শাস্তির বদলা নিয়ে হামলা করবে দেবিকার উপর। সেই ভয়ে ধীরে ধীরে সকলেই সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তাঁদের সঙ্গে। ভয়, বুঝি তাঁদের জ’ঙ্গি রোষে পড়তে হয়।

The News বাংলা Devika Rotawan
The News বাংলা Devika Rotawan

দেবিকার বাবার রমরমা ফলের ব্যবসা ছিল। বন্ধ করে দিতে হল সেই দোকান। কারণ, ছোট দোকানদাররা আর কেউ কিনতে চাইলেন না ফলমূল। যদি বোমা ফাটে, যদি গুলি চলে, যদি তারাও টার্গেট হয়ে যায়। বিলাসবহুল বান্দ্রা থেকে বাড়ি সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় অন্য জায়গায়। এমনকী নিজের দাদার বিয়েতেও যেতে পারেনি দেবিকা।

The News বাংলা Devika Rotawan
The News বাংলা Devika Rotawan

কেউ স্কুলে ভর্তি করতে চাইত না দেবিকাকে। তার জন্য নাকি গোটা স্কুলের ভয়, যদি জ’ঙ্গি হামলা হয়! অবশেষে অনেক চেষ্টার পর ভর্তি হতে পারলেও, শুনতে হল নানা কুকথা। কেউ তাকে ডাকত, ‘কাসভের মেয়ে’ বলে, কেউ বলত ‘কাসভওয়ালি’।

অনেক কষ্টে একটি দোকানে চাকরি জোটালেন তার বাবা। দেবিকা এখন দশম শ্রেণির ছাত্রী। দুচোখে স্বপ্ন, বড় হয়ে আইপিএস অফিসার হবে সে। দেশকে রক্ষা করবে। কিন্তু, সমাজের লড়াইতে জেতাটাই তার কাছে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘কাসভের বেটির’।

ছোট্ট মেয়েটির সাহসিকতা দেখে সেদিন অবাক হয়েছিলেন দুঁদে আইপিএস-রাও। ভয় পায় নি একরত্তি মেয়েটি। ক্রাচে ভর করে খুঁড়িয়ে এসে একনজরেই চিনিয়ে দিয়েছিল জ’ঙ্গী আজমল কাসভকে। তার জেরেই ফাঁসি হয়ে যায় সন্ত্রা’সবাদী কাসভের।

সেই সাহসী দেশপ্রেমিক মেয়েটিকে আজ ‘জ’ঙ্গীর মেয়ে’ বা কাসভওয়ালী’ বা ‘কাসভের মেয়ে’,’কাসভ কি বেটি’ বলে ডাকা হয়। অদৃষ্টের কি পরিহাস। ভারতেই মনে হয় এটা সম্ভব। “মেরা ভারত মহান”।

]]>